Main Menu

বিহারে তীব্র গরমে ৬০ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা মহামারির সময় শ্মশানে মরদেহের দীর্ঘ সারি দেখেছিল ভারতের বিহারের বেশ কয়েকটি জেলা। এ বার পরিস্থিতি ততটা শোচনীয় না হলেও শ্মশানে বাড়ছে মরদেহ আসার সংখ্যা। এমনটাই জানালেন শ্মশানের মূল কার্যনির্বাহক। প্রায় একই পরিস্থিতি গয়া, ভোজপুর, ভাগলপুর, নালন্দা জেলার একাধিক শ্মশানেও।

বিহারের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর জানিয়েছে, গত দুই দিনে রাজ্যে হিটস্ট্রোকে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগেই সরকার জানিয়েছিল, তীব্র গরমে সেখানে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বহু মানুষ।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে উদ্ধৃত করে বলেছে, শেষ ৪৮ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পাঁচজন ভোজপুর, তিনজন আরওয়াল এবং একজন জেহানাবাদের বাসিন্দা। এই পরিসংখ্যানে আরা জেলার উল্লেখ না থাকলেও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত জেলার ৫ জন বাসিন্দা হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। পাঁচটি মরদেহের ময়নাতদন্ত করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে প্রশাসন। তবে দুইটি মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় তাদের মৃত্যুর কারণ জানা সম্ভব হয়নি।

যদিও জেলার বাধরা ব্লকের মাহুলি গঙ্গাঘাটের শ্মশানে মরদেহের সারি সরকারি দাবি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শ্মশানের ডোম রাজা জানিয়েছেন, গত সাত দিনের পরিস্থিতি তাকে করোনা মহামারির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। একসঙ্গে চার-পাঁচটি মরদেহ শ্মশানে এসে যাওয়ায় সৎকারের জন্য মৃতের পরিবারকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

গঙ্গার ধারে সারাইয়া বাজার শ্মশানেও মরদেহ ঢুকছে পর পর। উল্লেখ্য, বিহারের বহু শ্মশানে আধুনিক বৈদ্যুতিক চুল্লি নেই। মরদেহ সৎকার হয় কাঠের মাধ্যমে। বেশ কিছু শ্মশানের কাঠের কারবারিরা জানিয়েছেন, কাঠের জোগান প্রায় নেই তাদের কাছে।

বিহারের জেলাগুলোয় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বর্তমানে ৪৪ ডিগ্রির ধারেকাছে ঘোরাফেরা করছে। গরমের সঙ্গে রয়েছে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও। একাধিক সরকারি-বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর অবশ্য জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষে বর্ষার প্রথম বৃষ্টি পেতে পারে বিহার। ১৭-১৮ দিন ধরে তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হওয়ার পর বিহারের বেশ কিছু জেলার তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি নামতে পারে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Share





Related News

Comments are Closed