Main Menu

সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলায় ৪৮তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় আরেক সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষ্য দেন তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বর্তমানে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশণার মো. শফিকুর রেজা বিশ্বাস।

আদালতের বিচারক বিচারক মো. শাহাদৎ হোসেন প্রামাণিক তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।এ নিয়ে দেড় যুগে মামলায় মাত্র ৪৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, এদিন দ্রুত বিচার দায়রা ১১/২০০৬ হত্যা ও দ্রুত বিচার ২৩/২০০৫ বিস্ফোরক মামলায় সাক্ষি হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও ৩ জঙ্গি ব্যতিত চার্জশিটভুক্ত আসামি জামিনে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশরেন (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের মেয়র জিকে গৌছ উপস্থিত ছিলেন। এ দুই মেয়র ছাড়াও আজ আদালতে হাজিরা দেন কিবরিয়া হত্যা মামলার কারাবন্দি আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজিবি)-এর সদস্য মিজানুর রহমান মিঠু, বদরুল আলম মিজান, হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ, মুফতি মইন উদ্দিন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মাওলানা মফিজুর রহমান ওরফি অভি ও মুফতি আব্দুল হাই এবং জামিনে থাকা হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম কিবরিয়া গউছ, জয়নাল আবেদীন জালাল, মো. আয়াত আলী, জমির আলী, তাজুল ইসলাম, কাজল মিয়া, আব্দুল জলিল, একেএস আবদুল কাইয়ুম ও জয়নাল আবেদীন মুমিন।

শুনানি শেষে বিচারক আগামী ১৯ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেছেন।

এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি রোববার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। সে দিন পুলিশ সাক্ষী উপস্থাপন করতে না পারায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানো হয়।

২০০৫ সালর ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচ জন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা তিন দফায় তদন্ত করে সিআইডি।

২০০৫ সালের ১৮ মার্চ প্রথম দফায় শহীদ জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন বাদী মজিদ খান।

২০০৭ সালে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য আবার সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই দফায় ২০১১ সালের ২০ জুন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নানসহ ২৪ জনকে আসামি করে অধিকতর তদন্তের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এই অভিযোগপত্রের ওপর ওই বছরের ২৮ জুন শাহ এএমএস কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া নারাজি আবেদন করেন।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর সিআইডি সিলেট রেঞ্জের জ্যেষ্ঠ এএসপি মেহেরুন নেছা পারুল সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলায় পলাতক রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, মোহাম্মদ আলী, বদরুল ওরফে মো. বদরুল, মাওলানা তাজ উদ্দিন ও মো. মুহিবুর রহমান।

আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মিজানুর রহমান মিটু, হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ প্রকাশ নিমু, বদরুল আলম মিজান, মাওলানা শেখ ফরিদ আহমদ, আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মুহিবুল্লাহ ওরফে মুজিবুর রহমান প্রকাশ অভি ও মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম।

এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ ১২ জন জামিনে রয়েছেন।

তবে দেড় যুগেও কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি। নিয়মিত সাক্ষী হাজির না হওয়া, বারবার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পেছানোর কারণে বিচার কার্য প্রলম্বিত হয়েছে। এমনটি বলেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা।

তারা বলছেন, অনেক সাক্ষীর মারা যাওয়া, সাক্ষী হিসেবে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের অবসরে চলে যাওয়াসহ নানা কারণে সাক্ষীরা ধার্য তারিখে সাক্ষ্য দিতে না আসায় মামলার বিচারকাজ শেষ হচ্ছে না।

Share





Related News

Comments are Closed