Main Menu

মির্জা ফখরুল ও আব্বাসকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ: বিএনপি

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে পৃথক অভিযানে সাদা পোশাকের পুলিশ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসকে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) ভোরে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল ভোররাত ৩টার দিকে ফখরুলের উত্তরার বাসায় গিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, একই সময়ে ডিবি পুলিশের আরেকটি দল মির্জা আব্বাসের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার শাহজাহানপুরের বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, দুজনকে তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেলেও কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এখন পর্যন্ত আমরা জানি না।

এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কমলাপুর স্টেডিয়াম ও মিরপুর বাঙলা কলেজের মাঠ পরিদর্শন শেষে বাসায় ফেরেন মির্জা আব্বাস।

বাসায় যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, দুইটা মাঠ দেখেছি। স্থায়ী কমিটির সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাবো। কোথাও নিরাপদ নয় বিএনপি কর্মীরা। সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।

তাদের আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ছয় ঘণ্টা বৈঠক করে, যেখানে শনিবার (১০ ডিসেম্বর) কমলাপুর স্টেডিয়াম বা মিরপুর বাংলা কলেজ মাঠে সমাবেশ করার বিষয়ে কথা হয়।

ওই বৈঠকে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয় খুলে দেয়ার আশ্বাস দেন পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অধ্যাপক ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এরআগে গত বুধবার দলের নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা নিহত ও প্রায় ৫০ জন আহত হন।

সংঘর্ষের পর পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে দলটির প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে।

বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের পর সমাবেশের বিষয়ে সরকার ও বিএনপির মধ্যে দৃশ্যত একটি সমঝোতা হয়েছিল।

তবে, দলটির দুই শীর্ষ নেতাকে তুলে নেয়ার ফলে বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে যে কোনো নৈরাজ্য হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন।

এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি আদালত গত বুধবারের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় বিএনপির ৪৪৫ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর শাখার আহ্বায়ক আবদুস সালাম ও প্রকাশনা সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ শীর্ষ নেতাদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed