রাগিব রাবেয়া মেডিকেলে সম্প্রসারিত আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি বলেছেন, গত বছর ২৮ লাখ বাংলাদেশি ভারত ভ্রমণ করেছেন। এদের বেশিরভাগই গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। কারণ, ভারতের বহু হাসপাতাল চলে বাংলাদেশের রোগীদের দিয়ে। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরও যাচ্ছেন আমাদের দেশের রোগীরা। মন্ত্রী বলেন, আমরা চাইলে সিলেটকে মেডিকেল হাব এ রূপ দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট অঞ্চলের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এইচডিইউ ও সম্প্রসারিত আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আবেদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আরো বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মালদ্বীপ, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি আমাদের দেশ থেকে চিকিৎসক নিতে চায়। আমরা দিতে পারছি না। আমাদের নিজেদেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি বলেন, বেশি করে চিকিৎসক তৈরি হলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব।
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মেডিকেল কলেজ কাক্সিক্ষত সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এখানে দুই শতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এটা আনন্দের বিষয়। তিনি বলেন, এর জন্য এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ড. রাগীব আলীকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। যার দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটি আজকের এই পর্যায়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা: মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অসংখ্য শিক্ষা ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম দাউদ, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ তারেক আজাদ। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী আরাফাত।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা: মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে প্রথম সারির একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, এই হাসপাতালে ব্যয় সরকারি হাসপাতাল থেকে হয়তো একটু বেশি, তবে কর্পোরেট দিক থেকে অনেক কম। হাসপাতালে সেবার মান অন্য যে কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো। মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার মানও অনেক উন্নত। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো বলেই সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। ভালো মানের চিকিৎসক তৈরি হচ্ছে। এরজন্য তিনি দানবীর ড. রাগীব আলীকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা, উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, এই মেডিকেল কলেজ নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। জীবদ্দশায় মেডিকেল কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখে যেতে চাই। তিনি বলেন, এই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমি কোন কার্পণ্য করিনি। জীবনের উপার্জিত অর্থ বিলিয়ে দিয়েছি মানবসেবায় নিবেদিত এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য। মাত্র ৩০ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আউটডোরে সেবা দিয়ে থাকেন। এই মানের সেবা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, সকলের সহযোগিতায় জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ আজকের এই পর্যায়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তিনি কলেজের অগ্রযাত্রায় সকলের সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, চিকিৎসাসেবায় জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমাদের চিকিৎসক সমাজেরও রোগী ও তার স্বজনদের আস্থা অর্জনে ভূমিকা পালন করতে হবে।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ দিন দিন গর্বের প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এই কলেজের সংকটময় মুহূর্তে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। যাতে চিকিৎসাসেবা ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সেই দিকে আমাদের নজর ছিলো। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠাতা দানবীর ড. রাগীব আলীকে ধন্যবাদ জানান।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, চিকিৎসাসেবায় দেশের আমূল পরিবর্তন এসেছে। বেসরকারি উদ্যোগেও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ এর অন্যতম প্রমাণ। তিনি উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান।
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চরম সংকটময় মুহূর্তে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এর অবদানের কথা তুলে ধরে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: আবেদ হোসেন বলেন, এই অবদান চিরদিন আমাদের মনে থাকবে। তিনি বলেন, বর্তমানে এই মেডিকেল কলেজে ২শ’ ৯৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিগত দিনগুলোতে ৮শ’ বিদেশি শিক্ষার্থী চিকিৎসক হয়ে বেরিয়ে গেছেন। ১ হাজার শিক্ষার্থী হোস্টেলে রাখার সক্ষমতা রয়েছে। অধ্যক্ষ বলেন, স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে এই হাসপাতাল। এর পেছনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর ড. রাগীব আলীর অসামান্য অবদান রয়েছে বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ক্যাম্পাসে ঢুকে প্রথমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তক অর্পণ করেন। এরপর ১নং লেকচার গ্যালারিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন। পরে তিনি এইচডিইউ ও আইসিইউ এর সম্প্রসারিত ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
Related News
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান না করা নিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির বিবৃতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরভবনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেRead More
গণতন্ত্র পেয়েছি, রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশেRead More



Comments are Closed