শাবির সৈয়দ মুজতবা আলী হলের বর্ধিতাংশের উদ্বোধন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রদের জন্য নির্মিত সৈয়দ মুজতবা আলী হলের বর্ধিতাংশের উদ্বোধন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার সম্পর্ক গভীর। এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার কাছে কখনো দূর্নীতির অভিযোগ আসেনি। তাই সবার উচিত তাদের সহযোগিতা করা। অন্যান্য বিভাগের চেয়ে সিলেটের শিক্ষার হার কম, তাই আমাদের শিক্ষার দিকে আরও জোর দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা আন্দোলন কর কিন্তু পড়াশোনা ছেড়ো না। ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে বলেন, ছাত্রলীগের কর্মীরা চাকরি করতে পারে না এবং ব্যবসাও করতে পারে না। আমাদের এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হবে। আশা করছি, ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে।’
শুক্রবার সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাবির ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। বাজেটের ৫ শতাংশ আমাদের গবেষণা খাতে বরাদ্দ থাকে। আগামী তিন বছরের মধ্যে শাবি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। দূর্নীতি আমাদের স্পর্শ করতে পারে না। সুশাসনের ক্ষেত্রে শাবিপ্রবি বাংলাদেশের কাছে রোল মডেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সৈয়দ মুজতবা আলীর ভ্রাতুষ্পুত্র সৈয়দ রুহুল আমীন।
স্বাগত বক্তব্য দেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু সাঈদ আরফিন খাঁন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলীর ভ্রাতুষ্পুত্র সৈয়দ রুহুল আমীন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রাধ্যক্ষ আবু সায়েম আরেফিন খান, সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ।
সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট জানিয়েছেন, গত শনিবার থেকে হলের বর্ধিতাংশে নতুন শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে। আগামীকাল শনিবার থেকে হলে শিক্ষার্থীরা ওঠতে পারবেন।শিক্ষার্থী উঠানোর জন্য ছাত্র ভর্তির জন্য ফরম ছাড়লে প্রায় ৬শ শিক্ষার্থী আবেদন করে এবং পরবর্তীতে আমরা শিক্ষার্থীদের মেধা এবং আর্থিক বিষয় বিবেচনা করে ছাত্রদের হলে ভর্তির সুযোগ দিয়েছি। তিনি আরও জানান, আমাদের হলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছাত্রদের ১টি রুম, চা শ্রমিকের সন্তান শিক্ষার্থীদের জন্য ১টি রুম, আদিবাসী ছাত্রদের জন্য ২টি রুম, বিদেশি ছাত্রদের জন্য ১টি রুম রাখা হয়েছে। এসব রুমে ওই শিক্ষার্থীরা থাকতে পারবে।
হলে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত খাবার, পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ, ইন্টারনেট, নিরাপদ পানিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। হলের সৌন্দর্য বর্ধনে চারপাশে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৭২ হাজার ৯০৫ স্কয়ার ফিট বিশিষ্টি চার আবাসিক হলে মোট ৪৪০টি সিট রয়েছে। এর আগে এ হলের একটি ব্লক ছিল এবং সেখানে মোট ৬৮টি সিট ছিলো। পরবর্তীতে ২শ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকায় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওয়াত ১৮ কোটি ৭৮ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা ব্যয়ে এই হল পূর্ণাঙ্গ হয়।
Related News
বিশ্বনাথে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা: আ.লীগ-ছাত্রলীগের ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে নিজ বাড়িতে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আওয়ামী লীগRead More
গোলাপগঞ্জে নিখোঁজের ১দিন পর জমি থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাগিরঘাট গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেত থেকে আসিদ আলী (৭৫)Read More



Comments are Closed