Main Menu

প্রধানমন্ত্রীর ১৭০ টাকা মজুরি ঘোষণায় শ্রীমঙ্গলে কাজে ফিরেছেন চা শ্রমিকরা

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর সাথে মালিক পক্ষের বৈঠকের পর ১৭০ টাকা মজুরি নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের অধিকাংশই বাগানের চা শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কিছু কিছু বাগানের শ্রমিকরা কাজে যাননি।

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এই মজুরী নির্ধারণের ঘোষণায় ১৯ দিনের মাথায় চা শিল্প এলাকায় অনিদিষ্টকালের শ্রমিক অসন্তোষের একটি সমাধান হলো। এনিয়ে চা শিল্প সেক্টরের মাঝে স্বস্তি ও অজানা আতংকের একটি সমাধান হলো।

এদিকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে প্রধানমস্ত্রী কর্তৃক ১৭০ টাকা মজুরি নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে শহরে আনন্দ মিছিল বের করা হয়েছে। আনন্দ মিছিলে শত শত চা-শ্রমিক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করে।

আনন্দ মিছিলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালীর সভাপতি বিজয় হাজরা, ভাড়াউড়া পঞ্চায়াত সভাপতি নূর মোহাম্মদসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

রোববার (২৮ আগস্ট) সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া, ভুরভুরিয়া, খাইছড়া চা বাগান ঘুরে দেখা যায় শ্রমিকেরা উচ্ছসিত হয়ে কাজ করছেন। চা শ্রমিকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিয়েছেন, আমরা খুশি হয়ে কাজে যোগ দিয়েছি। তিনি ১৭০ টাকা মজুরি নির্ধারণ করায় মনোযোগ দিয়ে পাতি তুলছি।

ভাড়াউড়া চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মজুরি নিধারণ করায় চা শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাগানে পাঠিয়েছি। তাঁরা বাগানে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিক বাঁচাও, মালিক বাঁচাও এবং বাগান বাঁচাও সর্বদিক বিচার বিশ্লেষণ করে যে মজুরি ১৭০ নিধারণ করেছেন সেটাতে আমরা খুশি। আমরা ফিনলে বাগানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

চা বাগানে শ্রমিক ময়না হাজরা বলেন,অনেক আনন্দ আজকে লাগছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী হাজিরা ১৭০ টাকা করেছে। এতদিন ঘরে বসে ছিলাম। এক বেলা খাইছি, আরেক বেলা খাইতে পারছি না। এখন তিন বেলা খাইতে পারব। একই কথা জানালেন মঞ্জু হাজরা, বিদ্যাবতী হাজরা।

দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে গত ৯ আগস্ট থেকে দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি এবং ১৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন তাঁরা। এত দিন ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করেছিলেন তাঁরা। আজ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, ‘মালিকপক্ষের সাথে প্রধানমন্ত্রীর আড়াই থেকে তিনঘন্টা আলোচনা করেছেন। তিনি চা শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। এতে তারা প্রধানমস্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এবং বলেন প্রধানমস্ত্রীই তাদের শেষ ভরসা। প্রধানমস্ত্রীর সিদ্ধান্ত তারা সব সময় মেনেছেন এবং ভবিষৎতেও মানবেন।

আমরা প্রধানমস্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ১৭০ টাকা মেনে নিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি। প্রত্যেক বাগানের সব শ্রমিকেরা কাজে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সবাই কাজে যাচ্ছেন। রোববার বাগানগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। তিনি আরো বলেন, স্বাভাবিক সময়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নগদা হাজিরায় (নগদ প্রেমেন্ট) শ্রমিকরা কাজ করে। এক্ষেত্রেও তেমনই হবে। সোমবার থেকে হানড্রেড পার্সেন্ট শ্রমিকরা কাজে যাবেন।

Share





Related News

Comments are Closed