সিলেটে রায়হান হত্যা, আদালতে সাক্ষ্য দিলেন স্ত্রী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে হেফাজতে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১১ মে) মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার বাদী ও রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী সাক্ষ্য প্রদান করেন। বৃহস্পতিবার আরও দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নওশাদ আহমেদ চৌধুরী জানান, আজকে বাদীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সময় চান, তাদের প্রস্তুতি নাই বলে। আদালত তাদেরকে একদিন সময় দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তারা জেরা করবেন। জেরা শেষ হওয়ার পর আরও দুজন সাক্ষী স্ট্যান্ডবাই আছেন, তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) রায়হানের মা সালমা বেগম ও চাচা আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারেন।
এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়হান হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পিটিশন দিয়েছেন। তারা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে আদালতে আবেদন জানান।
এ প্রসঙ্গে পিপি নওশাদ চৌধুরী বলেন, ‘আসামিপক্ষ যে মহামান্য হাইকোর্টে গিয়েছেন, সেটার ওপর দীর্ঘ শুনানি হয়েছে। আমি বলেছি, এই মুহূর্তে এটা স্থগিত রাখার কোনো আইন নাই। এই কারণে আইন নাই, মহামান্য হাইকোর্ট থেকে তারা যদি স্টে অর্ডার আনতেন, তাহলে আমরা সবাই মানতে বাধ্য। যেহেতু কোনো স্টে অর্ডার নাই, উনারা একটা নাম্বার দিয়ে ফাইল করেছেন, হাইকোর্টের কোন বেঞ্চে আছে, কবে নাগাদ হবে, এগুলোর কোনো দিকনির্দেশনা নাই। একটা চলমান মামলা, সব মামলাই সেনসেশনাল, এই মামলা আরও বেশি সেনসেশনাল, এটাতে তো আমরা অহেতুল বিলম্ব করতে পারি না। যদি হাইকোর্ট কোনো আদেশ দেন, উনারা (আসামিপক্ষ) কিছু যদি নিয়ে আসেন, তাহলে সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রাখা হবে। মূলত এরপর আজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।’
তিনি জানান, এই মামলায় ৬৯ জন সাক্ষী রয়েছেন।
এদিকে, রায়হান হত্যা মামলার পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ‘স্টেট ডিফেন্স’ করবে বলে জানিয়েছেন পিপি নওশাদ।
এরআগে রায়হান হত্যা মামলায় বুধবার (১০ মে) সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল। তবে একজন আইনজীবীর মৃত্যুতে কোর্ট রেফারেন্স থাকায় এবং আসামিপক্ষ হাইকোর্টে পিটিশনের কথা জানানোর প্রেক্ষিতে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।
রায়হান হত্যা মামলাটি হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন তৎসহ ৩০২ দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা ও ২০১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু আসামিপক্ষ শুধুমাত্র হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে মামলাটি চালাতে চান। এজন্য অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে গেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বুধবার দুপুরে রায়হান হত্যা মামলার আসামি বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিমের আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে রায়হান হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। এরও আগে ১২ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের তারিখ থাকলেও সেটি পিছিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট শহরের আখালিয়ার এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে ১১ অক্টোবর ভোরে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি সেখানে মারা যান। পরদিন তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তে প্রথমে পুলিশ ছিল। পরে সে বছরের ১৩ অক্টোবর মামলাটি স্থানান্তর করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে। ২০২১ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
যে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়, তাদের পাঁচজনই পুলিশ সদস্য। তারা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদ।
অভিযুক্ত অপরজন কথিত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমান, যার বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। তার বিরুদ্ধে ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজ গায়েব করার অভিযোগ রয়েছে।
এই ছয়জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য কারাগারে থাকলেও নোমান এখনও পলাতক রয়েছেন।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালতের বিচারক আবুল মোমেন রায়হান হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষ চার্জশিটের বিপক্ষে নারাজি দেয়নি। আদালত পলাতক নোমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানাও জারি করেন।
এদিকে, পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত রিপোর্টে তার শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, রায়হান হত্যা ঘটনার পর পালিয়ে যান এসআই আকবর। পরে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন, ১০ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা; আদালত সাত দিনের আবেদনই মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ১৭ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত আকবরকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
Related News
অনলাইনে গুজব-মিথ্যা তথ্য, ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যRead More
মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকRead More



Comments are Closed