Main Menu

প্রসাধনীর যেসব উপাদান ডেকে আনবে ভয়ংকর বিপদ!

লাইফস্টাইল ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে আমরা সাধারণত যেসব প্রসাধনী ব্যবহার করি তা মূলত নির্দিষ্ট কিছু উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। কিন্তু আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রসাধনীর এসব তৈরির উপাদান না দেখেই কিনে থাকি। কিন্তু আপনি কি জানেন প্রসাধনীর এমন কিছু উপাদান আছে যা আপনার জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

প্রতিযোগী বাজারে টিকে থাকার জন্য চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজার ছেয়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ড বা কোম্পানি। এসব সংস্থার রয়েছে নানা ধরনের ক্রিম, লোশন কিংবা সাবান। কিন্তু এসব প্রোডাক্টগুলোতে এমন কিছু উপাদান যা অজান্তেই বড়সড় বিপদ ডেকে আনতে পারে আপনার। আসুন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

দোকানে প্রসাধনী সামগ্রীগুলোর যেসব উপাদানগুলো আপনি কেনার ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলবেন সেগুলো হলো-

১। ফ্যালেট: অনেক প্রসাধনীর উপাদানে ফ্যালেট ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের রাসায়নিক পদার্থ প্লাস্টিক উৎপাদনেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মানবদেহে এই রাসায়নিকের প্রভাব অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। ফ্যালেট মানবদেহের বিভিন্ন গ্রন্থির ক্ষরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যাতে বিগড়ে যেতে পারে হরমোনের ভারসাম্য। পাশাপাশি এই ধরনের পদার্থ ডেকে আনতে পারে ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিও। মূলত নেইলপলিশ, চুলের স্প্রে ও মুখে মাখার ক্রিমে এই পদার্থটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

২। টলুইন: টলুইন একটি পেট্রোকেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ। সাধারণত নেইলপলিশ তোলার জন্য যে থিনার ব্যবহার করা হয় তাতেই থাকে এই রাসায়নিক পদার্থটি। লিভারের জন্য এই পদার্থটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই রাসায়নিক পদার্থটি ডেকে আনতে পারে মস্তিষ্কের সমস্যাও।

৩। পলিইথিলিন: যে সকল চুলের রং ও উপটানের সামগ্রী আর্দ্র ঘন ক্রিমের মতো হয় সেই সব প্রসাধনীতে সাধারণত এই উপাদানটি থাকে। এই সব প্রসাধনীতে থাকা উপাদানগুলো খুব সহজেই ত্বকের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। এই রাসায়নিকের প্রভাবে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া এই ধরনের পদার্থ ক্যানসার ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ডেকে আনতে পারে। কাজেই দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

৪। কার্বন ব্ল্যাক: সাধারণত কাজল ও অন্যান্য কালো রঙের প্রসাধনীতে যে কালচে রং থাকে তা উৎপন্ন হয় কার্বন ব্ল্যাক বা সমতুল্য কোনও পদার্থ থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কার্বন ব্ল্যাক উপেক্ষা করে চলাই ভালো। বিশেষত চোখের ক্ষেত্রে কার্বন ব্ল্যাক যুক্ত পদার্থের ব্যবহার কোনোভাবেই ঠিক নয়। কারণ এতে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি একাধিক অঙ্গে বিষক্রিয়া হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

৫। ভারী ধাতু: দস্তা, পারদ, আর্সেনিক, অ্যান্টিমনি, জিংক কিংবা ক্রোমিয়ামের মতো ধাতুগুলো বহু প্রসাধনসামগ্রীতেই দেখা যায়। বিশেষত লিপস্টিক, দাঁত সাদা করার পদার্থ, আইলাইনার, নেইলপলিশ ও ডিওড্র্যান্টে এই ধরনের ধাতু ব্যবহার করা হয়। এই ধাতুগুলো শরীরে তীব্র বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। লিভারের অসুখের পাশাপাশি এই ধাতুগুলো অবাঞ্ছিত গর্ভপাত ও বন্ধ্যত্ব ডেকে আনতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিতে ঘটতে পারে বিলম্ব। এমনকি এই ধাতুগুলো কাজ করতে পারে নিউরোটক্সিন হিসেবেও। তাই কেনার আগে অবশ্যই প্রোডাক্টের গায়ে লেখা উপাদানগুলো চেক করে কিনুন এবং ক্ষতিকর উপাদানগুলো এড়িয়ে চলুন।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

 

Share





Related News

Comments are Closed