Main Menu

মশার উপদ্রবে নাকাল জাবি শিক্ষার্থীরা

জাবি প্রতিনিধি: মশার উপদ্রবে নাকাল হয়ে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন। ক্যাম্পাসের সব স্থানেই মশার উপদ্রবের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

মশার কারণে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের কোনো স্থানে বসা তো যায় না এবং হলের কক্ষের মধ্যেও মশারী ছাড়া থাকা যায় না বলে জানিয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়া, মশার উপদ্রবের কারণে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পাড়ছে না বলে অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ। উপরন্তু, মশার কামড়ে জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থী।

সাধারণত এপ্রিল–জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। এখনই মশা নিধনে কোনো ব্যাবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল ঝুকিতে থাকবে। অনেক শিক্ষার্থী জানায় তারা ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে আছে।

মশা নিধনে প্রশাসনের তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রতিবছর শীতের শুরু থেকে হলসহ ক্যম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মশা নিধক স্প্রে করা হলেও সে তুলনায় এবছর প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রহণে ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া, হলের আশেপাশের ড্রেন ও ময়লা-আবর্জনার স্তুপ পরিষ্কারেও প্রশাসনকে কোনো প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায় নি। ড্রেন ও ময়লা-আবর্জনার স্তুপ থেকেই মশার উপদ্রব বাড়ছে বলে অনেক শিক্ষার্থী অভিমত প্রকাশ করেছে।

এবিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষ ও আফম কামালউদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মঈনুর রহমান বলেন, ‘মশার কারণে কোনো কাজ ঠিকমতো করতে পারছি না। মশারী ছাড়া রুমের মধ্যে থাকা যায় না। দিনের বেলাতেও মশারী টাঙ্গিয়ে থাকতে হয়। ঠিকমতো পড়াশোনা তো করতে পারছিই না, মশার উপদ্রবের কারণে ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ আশা করছি।’

দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আমি দুই দিন থেকে জ্বরে আক্রান্ত। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছি কিনা তা নিয়ে প্রচন্ড আতঙ্কে আছি। জ্বরের ঔষধ খেয়েও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার বিস্তার রোধে মশার উপদ্রব কমাতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে মশা বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘শীতের পড়ে তাপমাত্রা বাড়লে মশার উপদ্রব বাড়ে। অনেকদিন বৃষ্টি না হওয়ায় পানি ঘন হয়ে গেছে। এই পানিতে অর্গানিক ম্যাটার বেশি থাকে এবং এ পানিতে কিউলেক্স মশা বেশি হয়। এখন ক্যাম্পাসে কিউলেক্স মশার উপদ্রবই বেশি।’

মশার উপদ্রব কমাতে প্রশাসন কি ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেসব ড্রেন-ডোবা থেকে মশা উৎপন্ন হচ্ছে, সেগুলো পরিষ্কার করে লার্ভিসাইট প্রয়োগ করতে পারে অথবা সেখানে মাছ ছেড়ে দেওয়া যেতে পাড়ে। আর, উড়ন্ত মশা নিধনে উপযুক্ত স্থানে নিয়মিত ফগিং করতে হবে।’

মশা নিধনে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (এস্টেট) জনাব মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের ফগিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমাদের লোকবল কম হওয়ায় সব স্থানে একসাথে ফগিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে দ্রুত এ কার্যক্রম শেষ করা হবে। হল ও হলের আশেপাশে মশা নিধনে হল কর্তৃপক্ষ কাজ করবে। হলের বাইরে মশা নিধনে আমরা কাজ করব।’

Share





Related News

Comments are Closed