Main Menu

এক মাস পর হাসপাতালে শয্যা খালি থাকবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে দেশের হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

এখন পর্যন্ত ৭ লাখ মানুষকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, করোনা সংক্রমণ ধাপে ধাপে বাড়ছে, ইতোমধ্যে ১৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এভাবে বাড়লে এক মাসের মধ্যে দেশের হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি থাকবে না। করোনা রোধে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে।

এদিন দুপুরে ঢাকাস্থ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভি মান্টিটস্কি সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

Manual3 Ad Code

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুসারে করোনা টিকা হস্তান্তরের জন্য রাশিয়াকে তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, রাশিয়ান অ্যাম্বাসেডর এসেছিলেন টিকার বিষয়ে কথা বলতে। রাশিয়ার সঙ্গে টিকার চুক্তি করেছিলাম, সেটা এখনো আছে। তবে আমরা এখনো তাদের কাছ থেকে চুক্তির টিকা পাইনি। আমরা চুক্তি অনুযায়ী টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বলেছি। টিকার দুটি করে ডোজ লাগে, আমরা বলেছি দুটি ডোজ একসঙ্গে দিতে হবে। তারা বলেছেন, তাদের আরেকটি নতুন টিকা আছে ‘স্পুটনিক লাইট’। আমরা সেটার কাগজপত্র দিতে বলেছি, ওষুধ প্রশাসনের ডিজি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখবেন। পরে এটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। এখন যে চুক্তি আছে সেই টিকাগুলো দিলে আমাদের ভালো হবে।

Manual2 Ad Code

টিকার বুস্টার ডোজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা টিকার বুস্টার ডোজ দিয়ে যাচ্ছি। বুস্টার ডোজে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। কারণ ছয় মাস সবার পূরণ হয়নি। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখের মতো বুস্টার ডোজ দিতে পেরেছি। আমি প্রথমেই জানাচ্ছি যে, বুস্টার ডোজের বয়স ছিল ৬০ বছর। এখন থেকে ৫০ বছর বয়সীদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে।

দেশে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে ১২ বছরের কম বয়সীদের স্কুলে যাওয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ১২ বছরের কম বয়সীদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরা এখনো নিইনি। কারণ, এখনও ডব্লিউএইচও আমাদের সেই সিদ্ধান্তটি দেয়নি। সিদ্ধান্ত পেলে সে অনুযায়ী কাজ করতে পারবো। শিশুরা সশরীরে স্কুলে আসতে পারে এবং ভার্চুয়ালিও ক্লাস করতে পারে, দুটি অপশনই রয়েছে। তবে সেটা অভিভাবক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে। এ সিদ্ধান্ত আমরা দিতে পারি না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়টা বলতে পারবে। আমাদের কাছে কোনোরকম পরামর্শ চাইলে আমরা সে বিষয়ে আলোচনা করবো। বহির্বিশ্বে কীভাবে এটি দেখা হচ্ছে, কীভাবে এটি নিয়ে কাজ করছে, তার ওপর ভিত্তি করে পরামর্শ দিতে পারবো।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ১ কোটি ৭ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে, এটা একটা বিরাট বড় ফিগার। অনেক দেশের পপুলেশনও এত নাই। কোনোরকম সমস্যা হলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। আমরা চাই, ছেলেমেয়েরা টিকা নিক, সকলেই নিক। আমরা শুধু সুরক্ষা অ্যাপসের ওপরই নির্ভরশীল না। আমরা বলেছি, বার্থ সার্টিফিকেট নিয়ে আসেন, কোনো পত্র না আনলেও টিকা দিয়ে দেব। দরকার হলে আমরা একটা কার্ড ফিলাপ করে দেব। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলা আছে, তাদের লিস্ট অনুযায়ী আমরা টিকা দিচ্ছি।

Manual5 Ad Code

এদিকে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় সংক্রমণ রোধে বর্তমান পরিস্থিতি দু-তিনদিন পর্যবেক্ষণের পর স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকার ‘অ্যাকশনে’ যাবে।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ১১ জানুয়ারি থেকে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষ তা মানছে না। প্রশাসনের অবস্থানও কঠোর নয়। সংক্রমণ প্রতিদিনই বাড়ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা এরই মধ্যে বলে দিয়েছি, দু-তিনদিন একটু পর্যবেক্ষণ করবে, তারপর কিছু কিছু অ্যাকশনে যাব। আমরা প্রথম থেকেই অ্যাকশনে যেতে চাই না। আগে একটু দেখতে চাচ্ছি, মানুষ মানে কি না।

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ওয়াচ করতে বলছি। তারপর সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে আমরা কাল-পরশুর মধ্যে ইনশাআল্লাহ, আমরা কিছু একটা চেষ্টা করব।

তিনি আরও জানান, এখন থেকে ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫০ বছরের ব্যক্তিদেরও বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। ডিজি হেলথ এ বিষয়টি অ্যাপে দিয়ে দিচ্ছেন রেজিট্রেশনের জন্য। আর যারা ফ্রন্টলাইনার আছে তারা খুব দ্রুত পেয়ে যাবেন।

এদিকে মহামারি করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনে বিশ্বের পাশাপাশি কাবু বাংলাদেশও। ওমিক্রনের ভয়াবহতা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে দেশে। কয়েকদিন আগেও দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু ওমিক্রন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আবারও চাপের মুখে ফেলেছে।

আগের তুলনায় দেশে গত এক সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ২২২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ৬১ শতাংশ।

Manual3 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code