Main Menu

ছাত্রীর সন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাস নিলেন শিক্ষক!

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাল্যবিবাহের শিকার এক ছাত্রীর শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাস নিয়েছেন পঙ্কজ মধু নামে এক শিক্ষক। এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (৩ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সন্তানকে কোলে নিয়ে ছাত্রী পাঠে মনোযোগী হতে না পারায় ওই শিক্ষক শিশুটিকে কোলে নিয়ে ক্লাস নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনা সংক্রমণ রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার পর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যায়। পরে ওই স্কুলছাত্রী সন্তানের জন্ম দেন। স্কুল খোলার পর ওই ছাত্রী স্কুলে না আসায় শিক্ষক পঙ্কজ মধু জানতে পারেন তার বিয়ে হয়ে গেছে। পরে তিনি ওই ছাত্রীকে স্কুলে আসার জন্য খবর পাঠান। রোববার সকালে ওই ছাত্রী স্কুলে আসে। তবে সন্তানের জন্য সে ক্লাসে মনযোগ দিতে পারছিল না। সেজন্য শিক্ষক পঙ্কজ তার ছাত্রীর সন্তানকে নিজের কোলে নেন। তখন কেউ একজন ছবিটি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট দেয়। সাথে সাথে ছবিটি ভাইরাল হয়। 

Manual2 Ad Code

এ বিষয়ে শিক্ষক পঙ্কজ মধু বলেন, করোনার কারণে স্কুল বন্ধ ঘোষণার পর দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে তার পরিবার বিয়ে দিয়ে দেয়। সম্প্রতি বিষয়টি জানার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। রোববার ওই ছাত্রী তার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে স্কুলে আসে। আমি ওই ছাত্রী ও তার স্বামীকে বুঝিয়ে বলি পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন সেই ছাত্রী তার কোলের শিশুকে নিয়ে ক্লাস রুমে বসে। কিন্তু কোলের শিশুর জন্য মনোযোগ দিতে না পারায় আমি শিশুটিকে কোলে নিই। তিনি বলেন, ছবিটি যে ফেসবুকে ছড়িয়ে গেছে তা আমার জানা নেই। আর ভাইরাল হওয়ার জন্যও আমি এই কাজটা করিনি। ২১ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। আমি একজন শিক্ষক হিসেবেই বাঁচতে চাই।

Manual7 Ad Code

চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন জানান, পঙ্কজ মধু শিক্ষক হিসেবে খুবই আন্তরিক। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান করান। পুরো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে তার খ্যাতি রয়েছে।

Manual3 Ad Code

ছাত্রীর সন্তান কোলে শিক্ষক পঙ্কজ মধু-ছবি ফেসবুক থেকে পাওয়া

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন বলেন, শিক্ষক ক্লাসটি করানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কাজটি হয়তো ঠিক করেছেন। কিন্তু অন্য দৃষ্টিতে দেখলে কাজটা ঠিক হয়নি। এখানে দুইটি বিষয়ে পরিলক্ষিত হয়েছে, এক হচ্ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীর বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ক্লাস করানোর কারণে অন্য শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। এ সময় কোনো আয়াকে ডেকে এনে শিক্ষক শিশুটিকে রাখার ব্যবস্থা করতে পারতেন। কারণ বিদ্যালয়ে আয়া আছে। দ্বিতীয়ত, করোনার প্রভাবে এক বছর আগে মেয়েটির বিয়ে হয়েছে। এটা একটি বাল্যবিয়ে জনিত অপরাধ। এই অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

তিনি বলেন, আমি শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার পরে ৫০০ টাকা দেওয়া হলে বয়স বদলানো যায়। আমরা এগুলো যদি কঠিনভাবে না দেখি তা হলে কেবল শিক্ষা নিয়ে কথা বললে হবে না। করোনায় স্কুল বন্ধ রাখার কারণে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ছেলেরা রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য বিদেশ চলে গেছে। মেয়েদের অনেকে মাদ্রাসায় চলে গেছে। অনেকের আবার বিয়ে হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অনেকটা ক্ষতি হয়ে গেছে বলে জানান ওই শিক্ষাবিদ।

Manual1 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code