জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৬ প্রস্তাব
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের ‘রুদ্ধদ্বার বৈঠকে’ পৃথিবীর জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের দ্রুত সাহসী ও অধিক শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংকট উত্তরণে বিশ্ব নেতাদের সামনে ৬টি প্রস্তাবও পেশ করেছেন তিনি।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের ‘রুদ্ধদ্বার বৈঠকে’ এ আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ বৈঠক আহ্বান করেন।
ছয়টি প্রস্তাব পেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের বলেন, ‘পৃথিবীর জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় আমাদের জরুরিভাবে সাহসী এবং অধিকতর শক্তিশালী ব্যবস্থা নিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর ছয় প্রস্তাব :
প্রথম প্রস্তাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে প্যারিস চুক্তি কঠোর বাস্তবায়নের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে, উন্নত দেশগুলো থেকে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল আদায় করার কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য এ টাকার ৫০ শতাংশ অভিযোজন এবং স্থিতিস্থাপকতার জন্য খরচ করা উচিত।
তৃতীয় প্রস্তাবে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে নতুন আর্থিক মেকানিজম এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তি হস্তান্তর করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
চতুর্থ প্রস্তাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি ও ধ্বংস এবং এর কারণে বড় পরিসরে জনগণের বাস্তুচ্যুত হওয়ার সংকট মোকাবিলা করতে বলেন শেখ হাসিনা।
পঞ্চম প্রস্তাবে, মহামারি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন দুর্যোগ বাড়ার সঙ্গে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) দেশগুলোর সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা প্রয়োজন।
ষষ্ঠ ও সবশেষ প্রস্তাবে আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ রেখে যেতে সবাইকে বৈশ্বিক মনোভাব নিয়ে কাজ করার কথা বলেন শেখ হাসিনা।
বৈশ্বিক গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘বৈশ্বিক গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণে সবচেয়ে কম ভূমিকা রাখছে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।’
সাম্প্রতিক আইপিসিসি রিপোর্টে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ানক চিত্র তুলে ধরার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বৈশ্বিক তাপমাত্রা যদি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পায় ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়ব।’
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযোজন এবং ক্ষতি প্রশমনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
সম্পদের সীমাবদ্ধতার সঙ্গে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও অভিযোজন ও স্থিতিস্থাপকতায় বাংলাদেশ বিশ্বে পথপ্রদর্শক বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
‘সবুজ প্রবৃদ্ধি’, অবকাঠামোগত স্থিতিস্থাপকতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিয়ে ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা জলবায়ু ভালনারেবিলিটি থেকে জলবায়ু রেজিলেন্স, জলবায়ু রেজিলেন্স থেকে জলবায়ু সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’
ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভি২০ চেয়ার শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য ক্লাইমেট ভালনারেবল দেশগুলোর স্বার্থ অগ্রাধিকার দেয়া। আমরা আমাদের প্র্যাকটিস এবং অভিযোজন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা একে অন্যের সঙ্গে বিনিময় করছি।
Related News
এইচএসসিতে অকৃতকার্যরা ১-২ মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষার সুযোগ পাবে: শিক্ষামন্ত্রী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা আগামী একRead More
সৌদিগামী ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিমানবন্দরগুলোয় বিধিনিষেধ আরোপের ফলে ঢাকা-সৌদিRead More



Comments are Closed