Main Menu
শিরোনাম
ছাতকে পিকআপের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু         শ্রীমঙ্গলে বার্ড পার্ক থেকে চারটি বন্যপ্রাণী উদ্ধার         গোলাপগঞ্জে ৩৩ কেন্দ্রে দেয়া হবে করোনার টিকা         শাহজালাল সার কারখানার ৩৯ কোটি টাকা আত্মসাত, দুদকের মামলা         সিলেটে জেলা-ব্র্যান্ডিং নিয়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মশালা         গোলাপগঞ্জে ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিসের উদ্বোধন         সেই প্রবাসী নারী লন্ডনের উদ্দেশ্যে সিলেট ছেড়েছেন         জগন্নাথপুরে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘন্টার মধ্যে স্ত্রীর মৃত্যু         গোলাপগঞ্জের শায়খ আব্দুল কুদ্দুছ আর নেই         সিলেটে করোনায় রেকর্ড ২০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৭১৫         ভোলাগঞ্জ দিয়ে ফের ভারত থেকে আসবে পাথর         বিশ্বনাথে বাঁশের সাঁকো আর সেতু হয় না        

ওথেলো সিনড্রম: বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ‘ওথেলো’। এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওথেলো কেবল সন্দেহবাতিকের জন্য তার স্ত্রী ডেসডিমনাকে হত্যা করেছিল। কিন্তু পরে যখন জেনেছিল ডেসডিমনা নির্দোষ তখন ওথেলো এবং দর্শক উভয়েরই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেছিল। ঘটনাটি নাটকে সীমাবদ্ধ থাকলেই ভালো হতো। কিন্তু বাস্তব জীবনেও অনেকের মধ্যে তাদের সঙ্গীদের ব্যাপারে চরম মাত্রায় সন্দেহবাতিক দেখা যায়। মেডিকেল সাইন্স এর নাম দিয়েছে ‘ওথেলো সিনড্রম’।

মেডিকেল সাইন্সের ভাষায় ওথেলো সিনড্রম হলো- এক ধরনের মানসিক অসঙ্গতি যেখানে বিয়ে কিংবা প্রণয়ের সম্পর্কে একজন সঙ্গী তার অপর সঙ্গীকে অযথাই সন্দেহ করতে থাকে। বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বিবাহবিচ্ছেদের হার বাড়ছে। খোদ রাজধানীতেই প্রতিদিন গড়ে ৩৮টি করে ডিভোর্স হচ্ছে। এসব ডিভোর্সের কারণ খতিয়ে দেখতে গেলে অনান্য অনেক কারণের মধ্যে প্রথমেই যেটি চোখে পড়ছে সেটি হলো- সঙ্গীর প্রতি সন্দেহবাতিকতা।

শুরুতে ছোটখাটো ঝগড়া দিয়ে শুরু হলেও এই টানাপোড়ন গিয়ে থামছে বিবাহবিচ্ছেদের পথে। অথচ যথাযথ কাউন্সিলিং এবং সঙ্গীর সঙ্গে সুষ্ঠু আলোচনার দ্বারা খুব সহজেই এই সন্দেহবাতিকতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং রক্ষা করা সম্ভব বিবাহের মতো এমন দৃঢ় এবং প্রাচীন পারিবারিক সম্পর্ক।

নিজের মধ্যে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকলে বুঝতে হবে আপনি ওথেলো সিনড্রমে ভুগছেন?
১। বিনা কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সঙ্গীকে সন্দেহ করা।
২। সঙ্গী কারো সঙ্গে গোপনে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত এমন ধারণা মনে বদ্ধমূল হয়ে যাওয়া।
৩। বিপরীত লিঙ্গের কারো সঙ্গে সঙ্গী কোনো সামাজিকমাধ্যমে যোগাযোগ করলেই মনের মধ্যে হিংসা জেগে ওঠা।
৪। সঙ্গীর প্রতি দিনদিন হিংস্র হয়ে ওঠা এবং নিজেকে নিপীড়ক হিসেবে আবিষ্কার করা।
৫। সঙ্গী যাদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ রাখছে (হতে পারে সে বন্ধুমহলের কেউ একজন, অফিসের সহকর্মী এবং পারিবারিক আত্মীয়) তাদের সঙ্গে সহিংস হয়ে ওঠা।
৬। সঙ্গীর অনুপস্থিতে তার ব্যক্তিগত জিনিসের (মোবাইল, ল্যাপটপ, চিঠিপত্র) উপর নজরদারি করা।

দীর্ঘ সময় ধরে বিনা কারণে কিংবা অতি তুচ্ছ কারণে এ ধরনের লক্ষণ নিজের মধ্যে বিদ্যমান থাকলে অবশ্যই মানসিক চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া উচিত। সঙ্গীর মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য দেখা দিলে তার সঙ্গে ঝগড়াঝাটি না করে তাকে যুক্তি এবং ভালোবাসা দিয়ে বোঝানো উচিত। উভয়ের সহযোগিতার মাধ্যমেই ‘ওথেলো সিনড্রমে’ ভোগা কোনো মানুষ সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারে।

 

0Shares





Comments are Closed