Main Menu
শিরোনাম
বিশ্বনাথে জমিতে পোকা নিধনে ‘আলোক ফাঁদ’         কুলাউড়ায় ১৭৮৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক         সিলেটে করোনায় আরো ২ মৃত্যু, শনাক্ত ৩১         গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দাদা-নাতি নিহত         কানাইঘাটে ৩ সন্তানের জননীর আত্মহত্যা         জৈন্তাপুরে তালা কেটে দোকানে চুরি, আটক ৪         কানাইঘাটে নারীকে যৌন হেনস্তা, আরো ১ যুবক গ্রেপ্তার         জৈন্তাপুরে ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেপ্তার         বিশ্বনাথে দিন দুপুরে চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুট         কানাইঘাটে সুরমা নদীতে নিখোঁজ মাঝির লাশ উদ্ধার         কমলগঞ্জে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু আহত         কমলগঞ্জে শিশুধর্ষণ চেষ্টাকারী পুলিশের হাতে আটক        

কিশোর অপরাধ মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান: শিশু-কিশোররাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যত কর্ণধার। তাদের উন্নতি ও অগ্রগতির উপর নির্ভর করে দেশ ও জাতির উন্নতি। শিশু-কিশোরদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের একটি অংশ কোন কারণে অপরাধের সাথে যুক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চরম হুমকি ও সুস্থ সমাজ জীবনের প্রতিবন্ধক হোক তা কারো কাম্য নয়। এজন্যই ইসলাম শিশু-কিশোরদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে এবং অপরাধমুক্ত জীবন-যাপনের উপস্থাপন করেছে সর্বজননীন ও কল্যাণকর নীতিমালা। যা বাস্তবে কার্যকর করতে পারলে পরিবার পেতে পারে কাক্সিক্ষত প্রশান্তি এবং দেশ ও জাতি লাভ করতে পারে অমূল্য সম্পদ।

কিশোর অপরাধ প্রত্যয়টির ইংরেজী হলো Juvenile Delinquency। আর Delinquency ল্যাটিন শব্দ Delinquer থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ : to omit বাদ দেয়া, বর্জন করা, উপেক্ষা করা ইত্যাদি। রোমানরা কোন ব্যক্তির উপর আরোপিত কর্ম অথবা কর্তব্য পালনে ব্যর্থতা বুঝাতে Delinquency শব্দটি ব্যবহার করত। ১৪৮৪ সালে উইলিয়াম কক্সসন সর্বপ্রথম Delinquent পরিভাষাটিকে দোষী ব্যক্তির প্রচলিত অপরাধ বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়াও ১৬০৫ সালে ইংরেজ কবি সেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ‍‌‍”Macbeth” এ শব্দটির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

কিশোর অপরাধ পরিভাষা আলোচনার পূর্বে শব্দ দু’টিকে পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করলে এর প্রতিপাদ্য বিষয় সহজেই অনুমেয় হবে। সাধারণত কিশোর বলতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক তথা বাল্য ও যৌবনের মধ্যবর্তী বয়সের ছেলে-মেয়েদের বুঝায়। তবে কৈশোর কালের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও ইসলামী আইনে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। প্রচলিত আইনে দেশ ও সমাজভেদে নির্দিষ্ট বয়সের ছেলে মেয়েরা কিশোর-কিশোরী হিসেবে বিবেচিত। যেমন বাংলাদেশে কিশোর অপরাধীর বয়স সীমা হলো ৭ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রচলিত কিশোর অপরাধীর বয়সসীমা নিচের সারণীতে তুলে ধরা হলো: মায়ানমার ৭ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত, শ্রীলংকা ৭ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত, ভারত ৭ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত, পাকিস্তান ৭ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত, ফিলিপাইন ৯ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত, থাইল্যান্ড ৭ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত, জাপান ১৪ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত, ইংল্যান্ড ৮ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত, ফ্রান্স ১৩ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত, পোল্যান্ড ১৩ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত, অস্ট্রিয়া ১৪ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত, জার্মানী ১৪ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত।

মহান আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর অসীম রহমতে মানব সন্তান শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও প্রৌঢ়কাল পেরিয়ে বার্ধক্যে উপনীত হয়। এ প্রসঙ্গে আল কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্য। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্য মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর তোমরা যেন যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, সে যেন জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে স্বজ্ঞান থাকে না। “আল-কুরআন, ২২; ৫”।

মানব জীবনের বিবর্তিত স্তরগুলোকে আরবী অভিধানে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসলামী আইনবিদগণ কিশোর বলতে ঐ ছেলেদের বুঝিয়েছেন যাদের ইহতিলাম”। বা স্বপ্নদোষ শুরু হয়নি এবং কিশোরী বলতে যাদের হায়েয। বা মাসিক ঋতুস্রাব হয়নি এমন মেয়েদেরকেই বুঝিয়েছেন। ইসলাম কৈশোর কালেল সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের উল্লেখ না করে বিশ্বজনীন ও বাস্তবসম্মত নীতি হিসেবে বয়ঃপ্রাপ্তিকে চুড়ান্ত সীমা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বালিগ বা বয়ঃপ্রাপ্তির লক্ষণ হিসেবে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলে তারা কিশোর-কিশোরী হিসেবে বিবেচিত হবে না; বরং বয়ঃপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে। ছেলে ও মেয়েদের বয়ঃপ্রাপ্তির লক্ষণগুলো হলো ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায় ইহতিলাম বা বীর্যপাত হওয়া। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তোমাদের সন্তানেরা স্বপ্নদোষ হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছলে অর্থাৎ বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন অনুমতি প্রার্থনা করে থাকে তাদের বয়োজ্যেষ্ঠগণ। “আল-কুরআন, ২৪ : ৫৯”। এছাড়াও মেয়েদের হায়েয বা মাসিক ঋতুস্রাব ও গর্ভবর্তী হওয়ার মাধ্যমে বয়ঃপ্রাপ্তি প্রমাণিত হতে পারে।

উপর্যুক্ত লক্ষণগুলোর কোনটিই যদি কারো মধ্যে প্রকাশিত না হয়, সে ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণের মাধ্যমে বালিগ বা বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করা যায়। তবে ইসলামী আইনবিদগণ কিশোর-কিশোরীর বয়সের চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণের ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আবু হানীফা রহ. ও মালিকী আইনবিদদের মতানুযায়ী, যে ছেলের ইহতিলাম বা বীর্যপাত হয়নি, তার আঠার বছর পূর্ণ বা হওয়া পর্যন্ত সে কিশোর হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যে মেয়ের ইহতিলাম বা বীর্যপাত হয়নি, তার সতের বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কিশোরী বলে গণ্য করা হবে।

অন্যদিকে কোন ছেলে-মেয়ের মধ্যে বয়ঃপ্রাপ্ত কোন লক্ষণ যদি আদৌ প্রকাশ না পায়, তাহলে পনের বছর বয়সে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত তারা উভয়ই কিশোর-কিশোরী হিসেবে বিবেচিত হবে বলে ইমাম শাফি’ঈ, ইমাম আহমাদ, হানাফী আইনবিদ ইমাম মুহাম্মাদ ও আবু ইউসুফ রহ. সহ অধিকাংশ আইনবিদ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

অপরাধের আরবী আল-জারীমাহ। ইংরেজীতে একে crime, offense বলা হয়। আল-জারীমাহ শব্দটি একবচন, বহুবচনে আল-জারাইম, যা আল-জুরম থেকে উদ্ভুত। আল-জুরমু শব্দটির জীম অক্ষরে পেশ যোগে অর্থ পাপ, সীমালংঘন ইত্যাদি। ইসলামী আইনের পরিভাষায় অপরাধ বলতে শরী’আতের এমন আদেশ-নিষেধের লঙ্ঘনকে বুঝায়, যা করলে হদ্দ অথবা তা’যীর প্রযোজ্য হয়।

কিশোর অপরাধ প্রত্যয়টির সংজ্ঞায়নে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হয়। সমাজতাত্তি¡ক দৃষ্টিকোণ থেকে কিশোর বয়সে অবাঞ্ছিত ও সমাজ বিরোধী আচরণ সম্পাদন করাকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। মার্কিন অপরাধ বিজ্ঞানী Cavan বলেন, সমাজ কর্তৃক আকাক্সিক্ষত আচরণ প্রদর্শনে কিশোরদের ব্যর্থতাই কিশোর অপরাধ। আইনগত দিক থেকে কিশোর অপরাধ বলতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে কর্তৃক আইন বিরুদ্ধ দন্ডনীয় কর্ম সম্পাদন করাকেই বুঝায়। এ প্রসঙ্গে ১৯৮০ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত দ্বিতীয় কংগ্রেস অধিবেশনে কিশোর অপরাধের নির্ধারিত সংজ্ঞাটি উল্লেখ করা যেতে পারে। সংজ্ঞায় বলা হয়, Juvinile Delinquency should be understood the commission of an act which is commited by an adult, would be considered a crime. কিশোর অপরাধ বলতে কমিশন সে কাজকে বুঝায়, যে কাজ একজন বয়স্ক ব্যক্তি দ্বারা সংঘটিত হলে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

উপর্যুক্ত সংজ্ঞাগুলোর আলোকে কিশোর অপরাধের পরিচয়ে বলা যায় যে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে কর্তৃক সংঘটিত দেশীয় আইন, সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী কর্মকান্ডকেই কিশোর অপরাধ বলে।

কৈশোরকাল মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ স্তর শেষ হওয়ার সাথে সাথে প্রত্যেক মানব সন্তানের উপর বিভিন্ন শর’ঈ বিধি-বিধান ও সামাজিক দায়-দায়িত্ব আরোপিত হয়। এর আগ পর্যন্ত কিশোর-কিশোরীরা গায়রু মুকাল্লাফ বা বিধি-বিধান পালনের বাধ্যবাধকতামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। কেননা হাদীসে তিন ব্যক্তিকে শরী’আতের বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দিয়ে বলা হয়েছে, তিন ব্যক্তি যাবতীয় দায় থেকে অব্যাহতি পেয়েছে; ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগ্রত হয়, অপ্রাপ্ত বয়স্ক যতক্ষণ না বয়ঃপ্রাপ্ত হয় এবং পাগল যতক্ষণ না সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন হয়।

সেজন্য আল্লাহর অধিকার লঙ্ঘনজনিত অথবা মানুষের অধিকার ক্ষুণœকরণজনিত কারণে তাদের উপর শরী’আত নির্ধারিত হুদূদ “হুদূদ ও কিসাস পর্যায়ের শাস্তি প্রযোজ্য নয়। তবে জনস্বার্থে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাদেরকে সংশোধনমূলক তা’যীরী শাস্তি প্রদান করার নির্দেশনা ইসলামী আইনে বিদ্যমান রয়েছে। যেমন রাসুলুল্লাহ স. বলেছেন, “তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছরে পদার্পণ করলে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিবে। দশ বছর বয়সের পর সালাত আদায় না করলে তাদেরকে প্রহার করবে এবং তাদের বিছনা পৃথক করে দিবে।

এ প্রসঙ্গে ড. ‘আব্দুল ‘আযীয ‘আমির এর অভিমতটি উল্লেখ করা যেতে পারে। তাঁর মতে, একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু-কিশোর ব্যভিচার অথবা চুরি অথবা ডাকাতির মতো অপরাধ করলে সামাজিকভাবে তাকে অপরাধী বলে গণ্যই করা হবে না- এমনটি মনে করা সঠিক নয়, কেননা তা হবে আইনের অপব্যাখ্যা মাত্র। বরং উত্তম হলো যে, প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির অপরাধের ন্যায় শিশু-কিশোরের অপরাধও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। শুধুমাত্র পার্থক্য হলো-শর্তপূরণ না হওয়ার কারণে শিশু-কিশোরদের উপর সুনির্দিষ্ট শাস্তি যেমন হুদূদ, কিসাস প্রয়োগ করা যাবে না। তবে কোন শিশু-কিশোর যদি শরী’আতের সুনিদিৃষ্ট শাস্তিযোগ্য গুরুতর অপরাধ করে অথবা সুনির্দিষ্ট তা’যীরী অপরাধসমূহের মধ্যে কোন একটি অপরাধ সংঘটন করে তাহলে তার অপরাধের মাত্রা ও বয়সের উপযুক্ততা বিচার করে সংশোধনমূলক কোন শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে ইসলামী আইনে কোন বাধা-নিষেধ নেই।

অতএব, ইসলামের দৃষ্টিতে কিশোর অপরাধ বলতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে কর্তৃক শরী’আতের এমন আদেশ-নিষেধের লঙ্ঘনকে বুঝায়, যা করলে তা’যীর প্রযোজ্য হয়।

আর্থ-সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রভাবে মানসিক গুণাবলীর সুষ্ঠু বিকাশ ও ব্যক্তিত্ব গঠনের অভাবে শিশু-কিশোররা অপরাধ প্রবণ হয়ে উঠে। এজন্যই প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড অবদমিত কামনাকে অপরাধের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ ব্যাপারে বার্ট্রান্ড রাসেলের মন্তব্যটিও প্রনিধানযোগ্য। তিনি বলেন, “বেশির ভাগ নিষ্ঠুরতার জন্ম হয় শৈশবকালীন বঞ্চনা এবং নিপীড়নের কারণে। মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের পথ রুদ্ধ হলে মনের কোমল অনুভূতিগুলো নষ্ট হয়ে তার বদলে জন্ম নেয় হিংসা, নিষ্ঠুরতা এবং ধ্বংসাত্মক মনোভাব। “প্রফেসর মো. আতিকুর রহমান, সামাজিক সমস্যা এবং সমস্যা বিশ্লেষণ কৌশল। এছাড়া ব্যক্তিগত আবেগীয় সমস্যাও কিশোর অপরাধের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের কিশোররা খুব সহজেই অনিয়ন্ত্রিত আবেগে আক্রান্ত হয়ে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন ও চাহিদা পুরণের মাধ্যমে সুখ ও সন্তুষ্টি লাভে সচেষ্ট হয় এবং অপরাধ সংঘটন করে। এজন্যই মার্কিন মনোবিজ্ঞানী হিলে ও ব্রæনার কিশোর অপরাধের জন্য বাধাগ্রস্ত আবেগকে দায়ী করেছেন। “ড. এ.এইচ.এম মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক সমস্যা।

কিশোর অপরাধ সংঘটনে উপর্যুক্ত কারণগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সক্রিয় থাকতে পারে। তবে কিশোর অপরাধের প্রধান ও মূল কারণ হলো মানসিক। কেননা মানুষের প্রতিটি কর্মই মনের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়ে থাকে। আর মানসিক বিকাশ সঠিক ও সুন্দর প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন না হলে শিশু-কিশোরদের আচরণে বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং তাকে অপরাধ প্রবণতার দিকে ধাবিত করে। মানব মন মহান আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। এর সুষ্ঠু লালন ও বিকাশ সাধন করলে তা ভাল কাজ সম্পাদন করে। আর লালন পালন ও বিকাশ সাধনে ত্রæটি হলে তা দ্বারা মন্দ কর্ম বা অপরাধ সংঘটিত হয। মনের এ বিপরীতমুখী দ্বিবিধ আচরণের বাস্তব তত্ত¡ তুলে ধরে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “প্রাণের শপথ, আর শপথ সে সত্তার, যিনি তাকে সুসংহত করেছেন। অতঃপর তাকে দিয়েছেন ভাল-মব্দের অনুভূতি। যে তাকে পরিচ্ছন্ন রেখেছে, সে নিশ্চিত কল্যাণ লাভ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তাকে মলিন করেছে। “আল-কুরআন, ৯১ : ৭-১০”।

নু’মান ইবন বাশীর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন, “সাবধান শুনে রেখো, দেহ বা শরীরে একটি গোশতের টুকরা আছে, যখন তা সুস্থ ও ভাল থাকে তখন সমস্ত দেহ ও শরীর ভাল থাকে এবং তা যখন নষ্ট ও বিকৃত হয়ে যায় তখন সমস্ত দেহ ও শরীর নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রেখো, সেটি হলো ক্বালব বা অন্তর।

0Shares





Comments are Closed