সামান্য হাঁটতে পারছেন খালেদা জিয়া
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অনেকটা উন্নতির দিকে। শনিবার তিনি নিজে থেকে সামান্য হাঁটতে পারছেন বলে তার একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন।
তিনি জানান, খালেদা জিয়া করোনারি কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ এর বাথরুম পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারছেন। এটা তার শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি বলে মনে করছেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা।
গত ১০ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর গুলশানের বাসা ফিরোজায় ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের অধীনে ছিলেন। পরে তাদের পরামর্শে ২৭ এপ্রিল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
গত ৩ মে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে চিকিৎসকরা তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন। পোস্ট কভিড জটিলতায় খালেদা জিয়ার পুরনো রোগ আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিকের পাশাপাশি হৃদযন্ত্র ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলছে।
খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা বা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য শনিবার দুপুরে তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা বৈঠক করেন। সেখানে তারা সব রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করেন। এতে খালেদা জিয়ার শারীরিক দূর্বলতা এবং হার্টসহ কিছু বিষয়ে খুব কম উপসর্গ ছাড়া সব ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত একজন চিকিৎসক বলেন, খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফরা করতে পারতেন না। কারাগারে থাকাবস্থায় অন্যান্য রোগে তিনি কাবু হয়ে পড়েছিলেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মহামারি করোনার কারণে তার ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছিল না। কিন্তু তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর কভিড ছাড়াও আমরা তার সব বিষয়ে ফলো-আপ করছিলাম। আল্লাহর রহমতে এখন তিনি অনেকটাই উন্নতির দিকে রয়েছেন। তবে তা খুব ধীরে হচ্ছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা তার কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বন্ধ করে দিয়েছি। শনিবার রাতে তার সিটিস্ক্যান করা হবে। ফুসফুসে পানি জমা পুরোপুরিভাবে বন্ধ হলে তার বুকের অন্য পাইপ খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত বুধবার তার ফুসফুসের পানি বের করার জন্য বুকের দুই পাশের দুই পাইপের মধ্যে বাম পাশেরটা খুলে ফেলা হয়েছে।
হার্ট ও কিডনি জটিলতা বিষয়ে আরেকজন চিকিৎসক জানান, করোনা পরবর্তী জটিলতায় খালেদা জিয়ার হার্ট ও কিডনিতে এফেক্ট তৈরি হয়েছে। যা রিকভার করার চেষ্টা চলছে। আশা করছি এ সমস্যাও থাকবে না। খালেদা জিয়ার যে পরিমাণ খাবার দরকার, প্রোটিন দরকার, সে পরিমাণ তিনি খেতে পারছেন না। এটা করতে পারলে আরও দ্রুত তিনি সুস্থ হতে পারবেন বলেও ওই চিকৎসক জানান।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি ঘটছে। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে নিয়মিত ফলোআপ করছেন। এসময়ে তিনি দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
Related News
১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় লংমার্চের তারিখ ঘোষণা, দাবিতে নতুন দফা যোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবি এখন রূপান্তরিতRead More
জামিনে মুক্ত বিদিশা সিদ্দিক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তনRead More



Comments are Closed