Main Menu
শিরোনাম
সিলেটে চোরাই মোবাইল বিক্রি চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার         মোগলাবাজারে একটি পরিবারের জায়গা দখলে প্রভাবশালীরা         রাজনগরে ট্রাকের ধাক্কায় প্রবাসী নিহত         জাফলংয়ে চা শ্রমিকের আত্মহনন         কমলগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা         মাগুরছড়া ট্র্যাজেডি: দুই যুগেও আদায় হয়নি ক্ষতিপূরণ         বহর এলাকায় ভূমিধসে তিনটি পরিবার ভিটেহারা         বিশ্বনাথে দিন দিন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ         সিলেটে মৌচাষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন         সিলেটে করোনায় আরো ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৭১         দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল         শায়েস্তাগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণের মৃত্যু        

কওমি মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: তাহাফ্ফুজে মাদারিসে কওমিয়া বাংলাদেশ- মনে করে যে, দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন দীনি মাদরাসাসমূহ বন্ধ রাখা অনুচিত। কারণ তালিম, দরস, দো’আ, কালাম, বিশেখু হিজফখানা ও মক্তব চলমান ও জারী থাকলে দেশের উপর আল্লাহপাকের রহমু বর্ষিত হবে। কাজেই রামযানের পর যথা নিয়মে মাদরাসাগুলোর কার্যক্রম চালু করতে সরকার, কওমি মাদরাসার বোর্ডসমূহ এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যৌথ উদ্যোগী হওয়া জরুরী।

২৪ এপ্রিল শনিবার সকাল এগারোটায় তাহাফ্ফুজে মাদারিসে কওমিয়া বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ঢাকাস্থ তেজগাঁও রেলওয়ে জামিয়া ইসলামিয়ায় অনুষ্ঠিত পরামর্শ সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মাদরাসা সমূহের মুহতামীম বা তাদের প্রতিনিধিরা নিজেদের বক্তব্যে এই কথাগুলো বলেন।

তাহাফ্ফুজে মাদারিসে কওমিয়া বাংলাদেশ-এর আহবায়ক শায়খুলহাদিস ড. মুশতাক আহমদের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত পরামর্শ সভায় বক্তারা আরও বলেন, কওমি মাদরাসাসমূহে ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে কোনদিনও উগ্রবাদীতা-জঙ্গিবাদ ইত্যাদি প্রচার-প্রসারের সুযোগ ছিলো না এবং আগামীতেও থাকবে না। অশতর্কতাবশত যদি জযবাতি কারো কারো বক্তব্যে কিছু এমন কথা এসে যায় তবে তা নি:সন্দেহে কওমি মাদরাসাসমূহের অস্তিত্বের সংকট ডেকে আনবে, তাই বয়ান বক্তৃতায় সচেতনভাবে এমন কথা পরিহার করতে হবে যা দেশ, সমাজ এবং কওমি মাদরাসাগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সম্ভবনা হতে পারে।

আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, এই অসাবধান বক্তৃতার ছুতা ধরে কোথাও কোথাও কওমি আকিদার শত্রুরা মাদরাসাগুলিকে নানা রকমের হয়রানির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে, কোথাও কোথাও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মধ্যে আলিমদেরকে জড়িয়ে দিচ্ছে, কোথাও কোথাও স্থানীয় পূর্ব শত্রুতার প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ নিচ্ছে। পরিণামে মাদরাসা ও মাদরাসার কর্তৃপক্ষ নানাভাবে হয়রানীর মুখোমুখি হচ্ছেন। মাদরাসাগুলোকে অতীতের মতো রাজনীতি কর্মকান্ডমুক্ত রাখতে হবে। নজর রাখতে হবে যাতে অশুভ কোন শক্তি যেনো মাদরাসাগুলোতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। ভেতর-বাইরে আমাদের এমন প্রদক্ষেপ নিতে হবে যাতে মাদরাসাগুলোকে উপরোক্ত নানাবিদ হয়রানি থেকে রক্ষা করা যায়।

বক্তারা আরও বলেন, মাদরাসা কিংবা মাদরাসার শিক্ষকদের উপর অহেতুক কোন হয়রানী যেন না হয় সেজন্য শীর্ষস্থানীয় আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে সরকারের সাথে বসে অহেতুক হয়রানী বন্ধের ব্যবস্থা করা জরুরী। কওমি মাদরাসা বোর্ড কর্তৃক প্রদত্তনীতিমালা এবং ভর্তির সময় যেসব ওয়াদা ছাত্ররা করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য তথাকথিত রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হবে না, তা প্রত্যেক মাদরাসায় যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। ছাত্র বা শিক্ষক এই নীতি ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে মাদরাসাকর্তৃপক্ষ শাস্তিম‚লক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

উক্ত পরামর্শ সভার সভাপতি ড. মুশতাক আহমদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া দুই অধিবেশনের পরামর্শ সভায় কওমি মাদরাসার বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী কর্ম পদ্ধতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন তাহাফ্ফুজে মাদারিসে কওমিয়া বাংলাদেশ এর যুগ্ম-আহবায়ক শায়খুলহাদিস হাফিজ মাওলানা ইয়াহিয়া মাহমুদ, যুগ্ম সদস্যসচিব মাওলানা মুজিবুর রহমান ফয়েজি, মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী, মাওলানা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান, মাওলানা মিনহাজুদ্দীন, কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনু, ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন, মাওলানা আকরাম হুসাইন, মাওলানা আব্দুল হক কাওসারি, মাওলানা কামরুজ্জামান, মাওলানা আজিজুর রহমান, মাওলানা শহিদুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা কলিমুল্লাহ, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা মুখলিসুর রহমান রাজাগঞ্জী, মাওলানা আব্দুল কাইয়‚ম সোবহানী, মাওলানা আব্দুল বাতেন শরিয়তপুরী, মাওলানা হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

সবশেষে সভাপতির বক্তব্যে ড. মুশতাক আহমদ বলেন, কওমী মাদরাসা আবহমানকাল থেকেই একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য প‚র্ণ পরিবেশ, গভীর পড়াশুনার জায়গা, ইলম ও আমলের সুন্দরতম মিলনক্ষেত্র, আদব ও আখলাকের সুন্দরতম আদর্শের ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত ছিলো। এখানে ছাত্ররা কখনো উস্তাদের সাথে বেআদবী করা, উস্তাদের নির্দেশের অমান্য করার চিন্তাও করত না। ইনশাল্লাহ আগামীতে এমন হবে। আমাদেরকে নজর রাখতে হবে, যাতে কওমি মাদরাসায় আদব আখলাকের শৃংখলা লঙ্গিত না হয়। কওমি মাদরাসাসমূহে মোবাইলের অপব্যবহার রোধ করতে হবে। কওমী শিক্ষার্থীদের যারা শিক্ষকতা করতে আগ্রহী তাদের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্মানজনকভাবে কওমির ছাত্রদেরকেও স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বহির্বিশ্বে গমনের সুযোগ করতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তী

 

0Shares





Related News

Comments are Closed