Main Menu

৩১তম বর্ষে পদার্পণ করলো শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আজ পহেলা ফাল্গুন (১৪ই ফেব্রুয়ারি), সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তিনদশক পেরিয়ে ৩১তম বর্ষে পদার্পণ করেছে দেশের অন্যতম সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।

১৯৯১ সালের এই দিনে সিলেট শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দুরে ৩২০ একর জায়গায় ৩টি বিভাগে ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ২৮টি বিভাগ এবং ২টি ইন্সটিটিউশনের অধিনে প্রায় সাড়ে পাঁচশত শিক্ষক এবং প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

Manual2 Ad Code

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৯৮৬ সালের ২৫ আগস্ট ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। এটি দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চালের শীর্ষ বিদ্যাপিঠ।

বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও গবেষণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সফলতার পাশাপাশি পেয়েছে দেশী ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) অবদানস্বরুপ ২০১৭ সালে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’ পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে এবং একই খাতে অনন্য অবদান রাখায় শ্রেষ্ঠ ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ পেয়েছে।

এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সিলেট বিভাগে সংক্রমণ করা নভেল করোনা ভাইরাসের জিন বিন্যাস (জিনোম সিকুয়েন্স) উন্মোচন করেছেন। গবেষণায় তারা সিলেট বিভাগে ৩০ ধরণের পরিবর্তিত করোনা ভাইরাসের সন্ধান পায়। এরমধ্যে ৬ ধরনের পরিবর্তিত করোনা ভাইরাস পূর্বে বিশ্বের কোথাও পাওয়া যায়নি।

গত বছরের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ১ কোটির অধিক টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাভবন ‘ই’ এর ২২৫ নম্বর কক্ষে করোনা ভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়। বর্তমানে দু’টি মেশিন দিয়ে এ ল্যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও একদল গবেষক নমুনা থেকে করোনা সনাক্তকরণ ও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব থেকে প্রায় ৪০ হাজার করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশে বিভিন্ন উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সেবা চালুর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পযার্য়ে প্রথম সেমিস্টার পদ্ধতি চালু, মোবাইল ফোনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, পূর্ণ ক্যাম্পাস ওয়াইফাই সেবার আওতায় নিয়ে আসা, ক্যাম্পাসের প্রতিটি জায়গাতে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার, নিজস্ব ডোমেইনে ই-মেইল চালু, প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন উদ্ভাবন, চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) তৈরি, বাংলা ভাষার সামাজিক রোবট ‘রিবো’ তৈরি, অনলাইনে টান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের সুবিধা চালু, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার কিবোর্ডসহ অসংখ্য উদ্ভাবনী রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

এছাড়া মোবাইলে অ্যাপস দিয়ে মুখচ্ছবির মাধ্যমে উপস্থিতি নেওয়ার ব্যবস্থা (ফেস রিকগনিশন সিস্টেম), সোশ্যাল হিউম্যানওয়েড রোবট ‘লি’ ও রোবট ‘রিবো’ তৈরি করেন তারা। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন হকের নেতৃত্বে একদল গবেষক রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসা আয়োজিত স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে চ্যাম্পিয়ন হয়। এছাড়া খাগড়াছড়ির পাহাড়ী অঞ্চলে নিচ থেকে উপরে বিদ্যুৎ ছাড়া বিশেষ পদ্ধতিতে পানি তোলার যন্ত্র আবিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহের অ্যাপস তৈরি করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। গত বছর পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে দুইটি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১২শ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। যা বাস্তবায়িত হলে আগামী ৫০/৬০ বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নমূলক আর কোনো কাজ করতে হবে না।

Manual2 Ad Code

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রোববার সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবন-২ এর সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং ১০টা ১০মিনিটে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।

Manual5 Ad Code

প্রসঙ্গত, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি এবং পহেলা ফাল্গুন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হয়ে আসলেও গতবছর থেকে তা পরিবর্তন করে বাংলা পরিবর্তিত বর্ষপঞ্জিকার সাথে মিল রেখে ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ পহেলা ফাল্গুনে উদযাপন করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Manual6 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code