Main Menu
শিরোনাম
সিলেটের যেসব স্থানে মঙ্গলবার ব্যাংক বন্ধ থাকবে         কমলগঞ্জে ৫ দফা দাবিতে ফারিয়ার মানববন্ধন         আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের শোক         হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে বিশ্বনাথে মানববন্ধন         ওসমানী মেডিকেলে নতুন পরিচালক নিয়োগ         শাবির ল্যাবে আরো ১৬ জনের করোনা শনাক্ত         শায়েস্তাগঞ্জে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১         আকবরকে ধরিয়ে দিলে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার!         ছাতকে গৃহবধূ ধর্ষিত, ধর্ষক গ্রেফতার         সিলেটের দুই ল্যাবে ২৭ জনের করোনা শনাক্ত         তাহিরপুরের লাল শাপলা রক্ষায় প্রশাসনের মাইকিং         মনুনদীতে গোসল করতে নেমে যুবকের মৃত্যু        

ভুয়া গ্রেপ্তার ঠেকাতে হাইকোর্টের ৭ দফা নির্দেশনা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জনসাধারণের মাঝে ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা রোধে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি ৭ দফা নির্দেশনা সংবলিত আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও এমাদুল হক বশির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসার আওলাদ হোসেনের ভুয়া পরোয়ানায় আটকের বৈধতা নিয়ে তার স্ত্রী উচ্চ আদালতে একটি রিট করেছিলেন। এই রিটের ধারাবাহিকতায় আজ (১৪ অক্টোবর) উচ্চ আদালত এসব নির্দেশনা সংবলিত সিদ্ধান্ত দেন।

আইনজীবী এমাদুল হক বশির আদেশের বিষয়টি ব্রেকিংনিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট সাত দফা নির্দেশনা দিয়ে রিট আবেদনটি হাইকোর্টের রিট এখতিয়ারভুক্ত বেঞ্চে উপস্থাপন করতে বলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রতিরোধে পরোয়ানা ইস্যুর সময় প্রস্তুতকারী ব্যক্তিকে ফৌজধারী কার্যবিধির ধারা ৭৫-এর বিধান মতে ফরমে উল্লেখিত চাহিদা অনুযায়ী সঠিক ও সুস্পষ্টভাবে তথ্য দ্বারা পূরণ করতে হবে।

এর মধ্যে রয়েছে- গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রস্তুতকারী ব্যক্তির নাম, পদবি, মোবাইল ফোন নম্বরসহ সিল ও তার সংক্ষিপ্ত স্বাক্ষর। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরের নিচে নাম ও পদবির সিলসহ বাঁ পাশে বর্ণিত সংশ্লিষ্ট আদালতের সিলসহ ব্যবহার কথা বলেছেন হাইকোর্ট।`

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আওলাদ হোসেনকে একের পর এক গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখিয়ে এক কারাগার থেকে আরেক কারাগারে এবং এক আদালত থেকে অন্য আদালতে হাজির করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তাকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিতে হাইকোর্টে হাজির করার জন্য নির্দেশনা চেয়ে রিট করেছিলেন আওলাদের স্ত্রী।

হাইকোর্টের ৭ দফা নির্দেশনাসমূহ:
১. গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুর সময় পরোয়ানা প্রস্তুতকারী ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৭৫-এর বিধানমতে, নির্ধারিত ফরমে উল্লেখিত চাহিদা অনুযায়ী সঠিক ও সুস্পষ্টভাবে তথ্য (পরোয়ানা ইস্যুকারী ব্যক্তির নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ) পূরণ করতে হবে।

(ক) যে ব্যক্তি বা যে সকল ব্যক্তি পরোয়ানা কার্যকর করবেন, তার বা তাদের নাম, পদবি ও ঠিকানা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

(খ) যার প্রতি পরোয়ানা ইস্যু করা হচ্ছে অর্থাৎ অভিযুক্তের নাম ও ঠিকানা এজাহার, নালিশি মামলা কিংবা অভিযোগপত্রে বর্ণিতমতে সংশ্লিষ্ট মামলার নম্বর ও ধারা এবং ক্ষেত্রমত আদালতের মামলার নম্বর ও ধারা সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

(গ) সংশ্লিষ্ট জজ (বিচারক)/ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরের নিচে নাম ও পদবির সিল এবং ক্ষেত্রমত দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকের নাম ও পদবির সিলসহ বামপাশে বর্ণিত সংশ্লিষ্ট আদালতের সুস্পষ্ট সিল ব্যবহার করতে হবে।

(ঘ) গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রস্তুতকারী ব্যক্তির (অফিস স্টাফ) নাম, পদবি ও মোবাইল ফোন নম্বরসহ সিল ও তার সংক্ষিপ্ত স্বাক্ষর ব্যবহার করতে হবে, যাতে পরোয়ানা কার্যকরকারী ব্যক্তি পরোয়ানার সঠিকতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহের উদ্বেগ হলে পরোয়ানা প্রস্তুতকারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সঠিকতা নিশ্চিত করতে পারেন।

২. গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রস্তুত করা হলে স্থানীয় অধিক্ষেত্র কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট পিয়নবহিতে এন্ট্রি করে বার্তাবাহকের মাধ্যমে তা পুলিশ সুপারের কার্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করতে হবে এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়/ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক উক্ত পিয়নবহিতে স্বাক্ষর করে তা বুঝে নিতে হবে। গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো ও কার্যকর করার জন্য পর্যায়ক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার কাজে লাগানো যেতে পারে।

৩. স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাইরের জেলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষেত্রে পরোয়ানা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ গ্রেফতারি পরোয়ানা সিলগালা করে এবং অফিসের সিলমোহর ছাপ দিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠাবেন।

৪. সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা সিলমোহরকৃত খাম খুলে প্রাপ্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা পরীক্ষা করে উহার সঠিকতা নিশ্চিত অন্তে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ব্যবস্থা নেবেন। তবে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানার ক্ষেত্রে সন্দেহের উদ্রেক হলে পরোয়ানায় উল্লেখিত পরোয়ানা প্রস্তুতকারীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে উহার সঠিকতা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

৫. গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য পরোয়ানা গ্রহণকারী কর্মকর্তা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রাপ্তি অন্তে তা কার্যকর করার পূর্বে পুনরায় পরীক্ষা করে যদি কোনো সন্দেহের উদ্রেক হয়, সেক্ষেত্রে পরোয়ানায় উল্লেখিত পরোয়ানা প্রস্তুতকারীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে উহার সঠিকতা নিশ্চিত হয়ে পরোয়ানা কার্যকর করবেন।

৬. গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুসারে আসামিকে/আসামিদের গ্রেফতারের পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে উক্ত ১৫ আসামি/আসামিদের আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট/ জজ আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ উপস্থাপন করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট/গ্রেফতারকৃত আসামি বা আসামিদের জামিন প্রদান না করলে আদেশের কপিসহ হেফাজতি পরোয়ানামূলে আসামি/আসামিদের জেল হাজতে প্রেরণসহ ও ক্ষেত্রমত সম্পূরক নথি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুকারী জজ/ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বরাবর পাঠাবেন।

৭. সংশ্লিষ্ট জেল সুপার কিংবা অন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেফাজতি পরোয়ানামূলে প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট আসামি/আসামিদের গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুকারী আদালতে এই মর্মে অবিলম্বে অবহিত করবেন যে, কোন থানার কোন মামলার সূত্রে বা কোন আদালতে কোন মামলায় বর্ণিত আসামিদের উক্ত আদালতের ইস্যুকৃত পরোয়ানামূলে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তীতে আসামিদের কেউ নতুন কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানাপ্রাপ্ত হলে জেল সুপার ওই গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত হতে সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে পরোয়ানা কার্যকর করবেন।

রিটের নথিপত্র থেকে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে কক্সবাজারের এক মামলায় গত ৩০ অক্টোবর আওলাদকে আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেদিন আওলাদকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন চাওয়া হয়। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আশুলিয়া) জামিন নামঞ্জুর করে নথিপত্র কক্সবাজারের আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন।

রিটের পক্ষের আইনজীবীরা জানান, নথিপত্র কক্সবাজারের আদালতে পৌঁছার পর আওলাদের জামিন চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ নভেম্বর কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর দেওয়া আদেশে বলা হয়, ওই মামলায় আওলাদ নামের কোনো আসামি নেই। গ্রেফতারি পরোয়ানাটি ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্যু হয়নি। ওই পরোয়ানা সৃজন করা হয়েছে। তাকে (আওলাদ) মুক্তি দেওয়া হোক। কক্সবাজারের আদালতের দেওয়া আদেশ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। আদেশ পৌঁছার পর ঢাকা কারাগার থেকে জানানো হয়, নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে রাজশাহীর এক মামলায় (১৩৭/২০১৬) আওলাদকে রাজশাহীর আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে।

এরপর আওলাদকে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল গত ২৪ নভেম্বর আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা এই ট্রাইব্যুনালের নয়, সার্বিক পর্যালোচনায় ওই মামলায় আওলাদ আসামি নন। তাকে অব্যাহতি ও মুক্তি দেওয়া হোক। এরপর ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশ রাজশাহীর কারাগারে পৌঁছায়। তখন জানানো হয়, বাগেরহাটের একটি সিভিল পিটিশন (সিআর) মামলায় (২৪৫/১৭) আওলাদকে বাগেরহাটে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে আওলাদকে বাগেরহাট আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন চাওয়া হয়। ১ ডিসেম্বর বাগেরহাটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে বলা হয়, হাজিরা পরোয়ানামূলে হাজির আওলাদ এই মামলায় আসামি নন। হাজিরা পরোয়ানাও এই আদালত কর্তৃক ইস্যু করা হয়নি।

বিচারকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অস্তিত্বহীন স্মারক নম্বর ব্যবহার করে পরোয়ানাটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। আদালতের ওই আদেশ বাগেরহাট কারাগারে পৌঁছায়। তখন জানানো হয়, শেরপুরের একটি মামলায় (সিআর ১৫৯/১৮) আওলাদকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

0Shares





Related News

Comments are Closed