Main Menu
শিরোনাম
মাধবপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু         জগন্নাথপুর পৌরসভার উপনির্বাচন ১০ অক্টোবর         কমলগঞ্জে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা         জগন্নাথপুরে স্বামীর দায়ের কোপে স্ত্রীর মৃত্যু         ছাতকে নৌযানে চাঁদাবাজ মুক্ত রাখতে মাইকিং         সিলেট বিভাগে আরো ৪৮ জনের করোনা শনাক্ত         কমলগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু         ‘সিলেটে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাউজিং প্রকল্প তৈরী’         নর্থ ইস্ট হাসপাতালে বন্ধ হলো করোনা চিকিৎসা         সিলেট বিভাগে আরো ৫৩ জনের করোনা শনাক্ত         সিলেটে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ১২২৭৯, মৃত্যু ২১১         জাফলংয়ে হচ্ছে দেশের প্রথম ‘ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর’        

শুক্র গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা!

প্রযুক্তি ডেস্ক: যুগ যুগ ধরে চলছে ভিনগ্রহের প্রাণি খোঁজার চেষ্টা। মঙ্গল গ্রহে প্রাণ আছে কিনা, তা নিয়ে একের পর এক গবেষণা চললেও যথাযথ প্রমাণ মেলেনি। তবে গবেষণার কাজ থেমে থাকেনি। লাল ভূপৃষ্ঠে হন্যে হয়ে প্রাণ খুঁজছে নাসার পাঠানো রোভার। কিন্তু এরই মাঝে মঙ্গলের গবেষণাকে ছাপিয়ে খবরের শিরোনামে এখন শুক্র গ্রহ।

পৃথিবীর প্রতিবেশী শুক্র গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনার দাবি করলো বিজ্ঞানীরা। হাওয়াই এবং চিলির আটাকামায় টেলিস্কোপ ব্যবহার করে একদল বিশেষজ্ঞ শুক্র গ্রহের মেঘের আস্তরণ পর্যবেক্ষণ করেন। এতে তারা ফসফিন গ্যাসের অস্তিত্ব শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এই গ্যাস পৃথিবীতে জীবিত প্রাণির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবীর প্রতিবেশী এ গ্রহের মেঘে জীবসত্তা ভাসছে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুক্রর বায়ুমণ্ডলে ফসফিন নামের এক ধরনের গ্যাসের সন্ধান পেয়েছেন তারা। বিবর্ণ এই গ্যাসের গন্ধ রসুন এবং পচে যাওয়া মাছের গন্ধের মতো। পৃথিবীতে সাধারণত এটি প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া অথবা ক্ষয়ে যাওয়া জৈব পদার্থ থেকে উৎপন্ন হয়। এর জীবাণুগুলো পেঙ্গুইনের মতো প্রাণীর অন্ত্রে ও অক্সিজেন কম আছে এমন জলাবদ্ধ পরিবেশে থাকে। এই গ্যাস শিল্প কারখানায় তৈরি করা যায়, কিন্তু শুক্র গ্রহে কোনও কারখানা নেই এবং নিশ্চিতভাবেই নেই পেঙ্গুইন। তাহলে কেন গ্যাসটি সেখানে? এমন প্রশ্ন থেকেই প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে প্রাণের উপস্থিতির সবচেয়ে চমৎকার আলামত দেখতে পেয়েছেন তারা।

কারডিফ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেন গ্রিভস বলেছেন, এই পৃথিবীর বাইরে অন্য কোথাও জীবনের সন্ধান পেতে আমি পুরো ক্যারিয়ার আগ্রহী ছিলাম। তাই এমন সম্ভাবনা দেখে সত্যিই আমিই বিস্মিত। কিন্তু হ্যাঁ, আমাদের গবেষণায় কোথায় ঘাটতি আছে তা বলার জন্য লোকজনকে উৎসাহিত করছি। আমাদের কাগজপত্র ও উপাত্তে সবার প্রবেশাধিকার আছে, এভাবেই বিজ্ঞান কাজ করে।

পৃথিবীর অত্যন্ত কাছে ভেনাস বা শুক্র গ্রহের অবস্থান। যা আকারে প্রায় পৃথিবীর সমান। অতীতেও এই গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন তথ্য হাজির করেছিলেন। বিজ্ঞানীরা এও বলছেন, শুধুমাত্র ফসফিনের উপস্থিতি শুক্র গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণ করে না।

শুক্র গ্রহ পৃথিবীর চেয়ে সূর্যের অনেক কাছে বলে এর তাপমাত্রা অনেক বেশি। এর পৃষ্ঠে ৪৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো তাপমাত্রায় কোনো জীবের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দেখেন না বিজ্ঞানীরা। তবে শুক্রের পৃষ্ঠ ছাড়িয়ে অনেক উপরে যেখানে কিনা তাপমাত্রা পৃথিবীর মতোই ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে ফসফিন গ্যাসের এই আবরণের পেছনে কোনো অনুজীবের অবদান উড়িয়ে দিতে পারছেন না তারা।

শুক্রের মেঘে ফসফিন গ্যাস কোনো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা অন্য কোনো ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয়েছে কি? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তার পক্ষেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা। তাই কোনো জীবকে এর কারণ ধরেই এখন আবর্তিত হচ্ছে বিজ্ঞানীদের গবেষণা।

এমআইটির সোসা-সিলভা বলেন, “শুক্র এখন হয়ত বাসযোগ্য নয়, তবে অনেক অনেক কাল আগে হয়ত এর পৃষ্ঠে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। হয়ত গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া এই গ্রহকে এখন অবাসযোগ্য করে তুলেছে।”

0Shares





Related News

Comments are Closed