হজের খুতবায় করোনা থেকে মুক্তি ও গুনাহ মাফের জন্য দোয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘প্রিয়, মুসলমানরা বিনয়, নম্রতা ও আল্লাহ আপনার ডাকে সাড়া দেবেন সেই বিশ্বাস নিয়ে তাকে ডাকুন। …হে আল্লাহ, আমরা যে মহামারির মুখোমুখি তাকে দূর করে দিন, অসুস্থদের সুস্থ করে দিন এবং এই রোগের ওষুধ আবিষ্কারে চিকিৎসা ক্ষেত্রে যারা কাজ করছে সেই গবেষকদের সামর্থ্য দিন। হে আল্লাহ, আপনার গোলামদের ওপর আপনার অনেক বেশি অনুগ্রহ প্রদর্শন করুন। হে আল্লাহ আপনার গোলামদের মধ্যে ভালোবাসা ও অনুরাগের বীজ বপন করে দিন, তাদেরকে আপনার আদেশ-নিষেধ প্রতিপালনের সামর্থ্য দান করুন এবং তাদেরকে গুনাহ থেকে মুক্ত থাকার তৌফিক দান করুন।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আরাফার নামিরাহ মসজিদে হাজিদের নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে মুনাজাতে এই কথাগুলো বলেছিলেন সৌদি রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা শেইখ আব্দুল্লাহ বিন সুলেইমান আল-মানিয়া। ৩০ মিনিটব্যাপী খুতবার শেষের দিকে তিনি সৌদি সরকারের জন্য দোয়া করেন, বিশ্বে শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করেন। রোগ মুক্তি চান। করোনাকে মহামারি উল্লেখ করে এর থেকে বিশ্ববাসীর হেফাজতের জন্য দোয়া করেন। সর্বাবস্থায় আল্লাহর দরবারে যাবতীয় সমস্যার জন্য বেশি বেশি দোয়া করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী ৯ জিলহজ দুপুর সাড়ে বারোটায় হজের খুতবা শুরু করেন শায়খ মানিয়া। এ বছরের হজের খুৎবার জন্য তাকে মনোনীত করেন সৌদি বাদশা। লিখিত খুতবায় সীমিত পরিসনে হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব দ্রুত বৈশ্বিক এই মহামারি কেটে যাবে। আবার আগের মতো হজ ও উমরা যাত্রীদের আগমনে মুখরিত হবে পবিত্র এই ভূমি।
খুতবায়, মানুষের অধিকার বিশেষ নারীর অধিকার ও উত্তরাধিকার সম্পত্তি বন্টনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ওয়াদাপালন, মাতাপিতার সেবা, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ, মানবসেবা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার বিষয়ও উল্লেখ করেন তিনি।
কুরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে মানুষকে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসারী হওয়ার আহ্বান জানান। আরাফাতের ময়দানে করণীয়সহ হজের পরবর্তী বিষয়গুলো তুলে ধরেন। নামাজ, পবিত্রতা অর্জন, রোগীর সেবা, মহামারি উপদ্রুত এলাকায় প্রবেশ না করা এবং ওইসব এলাকা থেকে অন্যত্র না যাওয়ার শরীয়তের বিধানগুলো বর্ণনা করেন।
খুতবার পর জোহরের নামাজের আজান দেন মসজিদের হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইমাদ বিন আলি ইসমাইল। এরপর দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন আলাদা জামাতে। আরাফা থেকে ফেরার পথে রাতে মুজদালিফায় অবস্থান করে সকালে ফের মিনার তাবুতে অবস্থান নিয়েছেন হাজীরা। সেখান থেকেই জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করে কুরবানী করে ইহরাম ভঙ্গ করবেন হাজীরা। এবছর করোনা পরিস্থিতিতে মাত্র দশ হাজারের মতো মুসলিমের অংশগ্রহণে পবিত্র হজ পালিত হয়। অন্যান্য বছর বিশ্বের ১৬০টি দেশের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ হজ পালন করে আসছিলেন।
এ বছর পবিত্র হজের আরবি খুতবা অন্যান্য ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষায়ও অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হয়। বাংলা ছাড়াও বাকি নয়টি ভাষা হলো- ইংরেজি, মালয়, উর্দু, ফার্সি, ফ্রেঞ্চ, মান্দারিন, তুর্কি, রুশ ও হাবশি।
Related News
রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে
ধর্ম ডেস্ক: ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর)Read More
তাবলিগ জামাতের উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মাওলানা মছব্বিরের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারRead More



Comments are Closed