কাল থেকে খাদিমপাড়া হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে আরেকটি হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুরু হচ্ছে করোনাক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা। শনিবার (২৭ জুন) থেকে সিলেট শহরতলির খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এই চিকিৎসা প্রদান শুরু হচ্ছে। এ হাসপাতালে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই চিকিৎসাসেবা পাবেন।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান ও সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল।
জানা গেছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা চিকিৎসায় চালু থাকা শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ১০০টি। এর মধ্যে আইসিইউয়ের জন্য ১৫টি বাদে শয্যা থাকে ৮৫টি। এ হাসপাতাল পূর্ণ হয়ে গেলে রোগীদের চিকিৎসার কী হবে—এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা ছিল স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের। এ প্রেক্ষিতে নতুন হাসপাতাল খোঁজা শুরু হয় করোনা চিকিৎসার জন্য। এক্ষেত্রে এগিয়ে আসে সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন। তাদের সহযোগিতায় বর্তমানে শহরতলির খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানা গেছে, সিলেটের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গেল ৯ জুন বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিলেটের করোনা চিকিৎসা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়াসহ শীর্ষ কর্মকর্তা ও কিডনি ফাউন্ডেশনের সাথে জড়িতরা যুক্ত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কিডনি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট খাদিমপাড়া হাসপাতাল ও দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে করোনা চিকিৎসার জন্য কাজে লাগানো হবে। এ দুই হাসপাতাল মিলিয়ে শয্যাসংখ্যা হয় ৬২টি।
সিদ্ধান্তের পর হাসপাতল দুটিকে প্রস্তুত করার কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি আনা, অক্সিজেনের ব্যবস্থা করাসহ আনুষাঙ্গিক কাজ করা হয়েছে। ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হয়েছে হাসপাতাল দুটিকে। তবে এ দুই হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা থাকছে না।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ‘খাদিমপাড়া হাসপাতাল আর দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলে করোনা চিকিৎসায় সিলেটে ৬২ শয্যা বাড়ছে। কিডনি ফাউন্ডেশন, প্রবাসীরা এক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল দুটি চলবে। এর মধ্যে শনিবার চালু হচ্ছে খাদিমপাড়াস্থ হাসপাতালটি।
তিনি জানান, খাদিমপাড়াস্থ হাসপাতালে বর্তমানে সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার কাজ করা হবে।
কিন্তু প্রশ্ন ওঠেছে, যেহেতু খাদিমপাড়াস্থ হাসপাতালটিতে আইসিইউ সুবিধা নেই, সেক্ষেত্রে যেসব রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন হবে, তাদের ক্ষেত্রে কী করা হবে?
এমন প্রশ্নে ডা. আনিস বলেন, ‘যেসব রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন হবে, তাদেরকে দ্রুত শামসুদ্দিনে নিয়ে আসা হবে। এক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে সবসময় প্রস্তুত।’
এদিকে, খাদিমপাড়াস্থ হাসপাতালে তিনটি শিফটে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্যরা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল। তবে কতো জন চিকিৎসক, নার্স সেখানে দায়িত্বে থাকবেন প্রতি শিফটে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব কর্নেল (অব.) আবদুস সালাম বীরপ্রতীক জানিয়েছেন, খাদিমপাড়া হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও সন্দিগ্ধদের সেবা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি তারা গ্রহণ করছেন। এ হাসপাতালের আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের একটি তহবিলও গঠন করেছে কিডনি ফাউন্ডেশন।
Related News
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৬৪
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারাRead More
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১০৩৬
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টো থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত)Read More



Comments are Closed