করোনা থেকে মুক্তি কামনায় শুরু হোক বাংলা নববর্ষ
এহসান বিন মুজাহির: আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ শুরু। নতুন বছরটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত একটি বছরের পর্যালোচনা ও নতুন এক বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করে সিজদাবনত হয়ে তওবার মাধ্যমে শুরু হোক বাংলা নববর্ষ ১৪২৭। বাংলা বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যেসব অনুষ্ঠানমালা বিগত বছরগুলোতে পালিত হয়েছে এসব কোন ইসলামি এবং বাঙালি সংস্কৃতি হতে পারে না।
তবে এবছর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মঙ্গল শুভাযাত্রাসহ কোন অনুষ্ঠানই পালন করা যাবে না। গণজমায়েত এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সচেতন থাকার জন্য সরকার থেকে সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উদযাপন নিষেধ করেছে।
বাংলা ও ইংরেজি বর্ষবরণের নামে আমরা ভিনদেশী সংস্কৃতি পালনে নিমগ্ন। অথচ বিজাতীয় সংস্কৃতি উদযাপন থেকে বিরত থাকতে কোরআন ও হাদিসে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন-‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসরণ করবে কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’। -সূরা আল ইমরান : ৮৫।
পবিত্র কোরআনুল কারিমের অন্য আয়াতে মহান আল্লাহপাক সুস্পষ্ট এরশাদ করেন-‘প্রত্যেক জাতির জন্য আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি’। -সূরা মায়িদাহ : ৪৮।
বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুকরণ ইসলামে সমর্থিত নয়। এ সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যে অন্য কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ বা সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে। -আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫১২।
হজরত আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেন-‘যে ব্যক্তি অনারবীয় দেশে বসবাস করে সে যদি সে দেশের মেহেরজান (নববর্ষ) উদযাপন করে এবং বাহ্যিকভাবে তাদের সাথে সাদৃশ্য রাখে এমনকি এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে কেয়ামতের দিন তাকে তাদের (কাফিরদের) সাথে হাশর করা হবে’। -বায়হাকি : ২৭০।
সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি উদযাপন এবং অপচয় ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। মহান আল্লাহ বলেন-আর কিছুতেই অপব্যয় করবে না। যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ’। -সূরা বনি ইসরাইল : ২৬-২৭।
বাংলা সনের নতুন বছরের শুরুতে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে গত বছরের পর্যালোচনা করে আগামীর সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণে সচেষ্ট হওয়া। বিশেষ করে করোনা ভাইরান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা, নববর্ষকে আল্লাহর নেয়ামত মনে করে শুকরিয়া আদায় করা, নববর্ষের আনন্দ দুঃস্থ-দরিদ্রদের সঙ্গে ভাগ করা, নববর্ষে অভাবী মানুষের খোঁজ-খবর, খাদ্য এবং পোশাক দান করা। পাশাপাশি এই দিনে পেছনের ভুলগুলোর অনুশোচনা ও আত্মসমালোচনা করে আগামী বছরের কল্যাণ কামনা করে সিজদাবনত হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।
তাওবাহ, ইস্তিগফার, দোয়া-দরূদ, নফল নামাজ ইত্যাদি ভালো কাজে পুরো দিনকে কাটানো। মহান আল্লাহপাক তাওফিক দান করুন।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও শিক্ষক।
Related News
জাপানের দরজা খোলা, চৌকাঠ উঁচু
হক মোঃ ইমদাদুল: বদলে যাওয়া জাপানে বিদেশিদের ভবিষ্যৎ কোথায়? জাপানের সঙ্গে দীর্ঘ প্রবাসজীবনের সম্পর্ক যাঁদের,Read More
স্ত্রীর আয় নয়, সংকট পুরুষের পুরোনো পরিচয়ে
হক মোঃ ইমদাদুল: একটি সংসারে স্ত্রী যখন স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করতে শুরু করেন, তখনRead More



Comments are Closed