শিশুদের করোনা সংক্রমণ হলে করণীয়
ডা. মুজিবুল হক: নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সাধারণত শিশুদের হয় না এবং শিশুরা ঝুঁকিমুক্ত এমন একটা ধারণা অনেকেরই আছে। এই তথ্যটি সঠিক নয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে, শিশুরাও করোনায় আক্রান্ত হতে পারে।
এখন পর্যন্ত করোনা সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে, তার বেশির ভাগই চীন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। চীনে মোট আক্রান্ত COVID-19 রোগীদের ২.৫ শতাংশ শিশু। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একবছরেরও কম বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত যে ১৬৪ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে তার মধ্যে ৩ জন শিশু রয়েছে। এদের একজন মারাও গেছে। তবে বাংলাদেশে আক্রান্ত শিশুদের সঠিক বয়স এখন পর্যন্ত জানানো হয় নাই।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই কঠিন সময়ে শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই উপলব্ধি থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বেশ কিছু গাইডলাইন দিয়েছে।
সাধারণ সর্দিকাশি হলে বাড়িতে বসেই শিশুর চিকিৎসা করুন। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দিন। সর্দিকাশির জন্য নাকে নরসল বা সলো ড্রপ দিন। ফেক্সোফেনাডিন না ক্লোরোফেনিরামিন জাতীয় এমটিহিস্টামিনও খাওয়ানো যেতে পারে। তবে আপনার পরিবারের কেউ যদি সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরে থাকেন অথবা আপনার শিশু যদি সম্প্রতি বিদেশ ফেরত কারো সংস্পর্শে গিয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সরকারি হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে যোগাযোগ করুন। জ্বরের সাথে শিশুর শাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
বড়দের মতোই জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা শিশুর করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ। কোন কোন শিশুর এসব লক্ষণের পাশাপাশি পেটে ব্যথা ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। এই ভাইরাসের সংক্রমণে শিশুর নিউমোনিয়া বা সেপ্টিসেমিয়াও হতে পারে। নিউমোনিয়া হলে শিশুর শ্বাস কষ্ট হতে পারে বা বুকের খাঁচা নিচের দিকে দেবে যেতে পারে। এমন কি অক্সিজেনের অভাবে শিশুর শরীরে বিভিন্ন অংশ নীল হয়ে যেতে পারে। সেপটিক শক হলে শিশু অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। তবে সকল সর্দি-কাশি-জ্বরই COVID-19 নয়। বাংলাদেশে এখন এমনিতেই ফ্লুর মৌসুম। সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দিজ্বর ব্রঙ্কিওলাইটিস ও নিউমোনিয়া এসব রোগ এখন বেশি হচ্ছে। কাজেই উপরের উল্লেখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সাধারণ সর্দিকাশি হলে বাড়িতে বসেই শিশুর চিকিৎসা করুন। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দিন। সর্দিকাশির জন্য নাকে নরসল বা সলো ড্রপ দিন। ফেক্সোফেনাডিন না ক্লোরোফেনিরামিন জাতীয় এমটিহিস্টামিনও খাওয়ানো যেতে পারে। তবে আপনার পরিবারের কেউ যদি সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরে থাকেন অথবা আপনার শিশু যদি সম্প্রতি বিদেশ ফেরত কারো সংস্পর্শে গিয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সরকারি হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে যোগাযোগ করুন। জ্বরের সাথে শিশুর শাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এই সময়ে কোন ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার চেয়ে আপনার নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে নিয়ে যাওয়াই উত্তম।
আপনার বাচ্চা যাতে এই মারাত্মক সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত না হয় সেদিকে মনোযোগ দিন। এই সময় শিশুকে বাসা থেকে বের হতে দিবেন না। খুব জরুরী প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হতে হলে অবশ্যই মাস্ক এবং গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। বাইরে থেকে আশা কারো সংস্পর্শ থেকেও শিশুকে দূরে রাখতে হবে। শিশুকে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার শেখাতে হবে। তবে তা ধমক দিয়ে নয়, বুঝিয়ে বলতে হবে। শিশুর হাত পরিষ্কার রাখুন। ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শিশুদের গল্পের ছলে বা তথ্য চিত্রের মাধ্যমে বোঝান যে, নাক, চোঁখ বা মুখের মাধ্যমে শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। তাই তারা যেন নাকে মুখে বা চোখে হাত না দেয়।
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। এই কঠিন সময়ে তাদের বড়দের মনোযোগ ও ভালোবাসা প্রয়োজন। ঘরে শিশুদের জন্য বিনোদন ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করুন। শিশুদের সময় দিন। তাদের সাথে খেলাধুলা করুন, গল্প করুন, আনন্দ করুন এবং স্বাস্থ্য বিধিগুলো চর্চা করুন। পড়ার সময় হলে শিশুদের পড়তে বসান এবং নিজেই পড়ান।
যেসব শিশু ঝুঁকিপূর্ণ, যেমন যাদের ছোটবেলা থেকে হৃদযন্ত্রের সমস্যা আছে, হাঁপানি আছে বা যারা কিডনি রোগে ভুগছে বা যারা স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করে তাদের জ্বর-কাশিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। অসুস্থ হওয়া মাত্র চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।
এই সময় শিশুর টিকা নিয়ে ভাববেন না। এই টিকা পরিস্থিতি ভালো হলে পরে দেয়া যাবে!
ডা. মুজিবুল হক, সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ), সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ।
Related News
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৬৪
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারাRead More
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১০৩৬
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টো থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত)Read More



Comments are Closed