Main Menu

করোনার সময়ে শ্বাসকষ্ট রোগীদের করণীয়

ডা. জাকারিয়া মাহমুদ: নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবী জুড়ে চলছে কোভিড-১৯ মহামারী। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর এবার পৃথিবী সবচেয়ে বেশি হুমকির সম্মুখীন। বাংলাদেশও করোনার ঝুঁকিতে রয়েছে।

দীর্ঘ হচ্ছে সাধারণ ছুটি। করোনার সংক্রমণ রুখতে সবাইকে বাড়িতে অবস্থান করতে হচ্ছে। মেনে চলতে হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব। করোনা আতঙ্কে সবাই দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসকরা করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিতে আছেন। একারণে অধিকাংশ চিকিৎসক প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন।

সীমিত পরিসরে জরুরি এবং আউটডোর সেবা চালু আছে বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে। নিরাপদে থাকতে সবাইকে সচেতন করছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। এ অবস্থায় বিপাকে সাধারণ রোগীরা। জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি হলে করোনার ভয়ে অনেকে চিকিৎসা নিতেও যাচ্ছেন না। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। আজ শ্বাসকষ্ট রোগীদের জন্য থাকছে কিছু পরামর্শ।

শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করবে নেবুলাইজার মেশিন। এ সময়ে নিজে আতঙ্কিত না হয়ে বাসায় প্রস্তুত রাখুন নেবুলাইজার।

নেবুলাইজার মেশিনের সাহায্যে সালবিউটামল + ইপ্রাট্রপিয়াম জাতীয় এবং বুডিসোনাইড নেবুলাইজার সল্যুশন আলাদাভাবে ব্যবহার করে শ্বাসের মাধ্যমে ঔষধ গ্রহণ করতে পারেন। যা আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে শান্তি দেবে। শ্বাসকষ্টের রোগীরা ৬ ঘণ্টা পরপর নেবুলাইজার মেশিনের মাধ্যমে ঔষধ নিতে পারেন।

শ্বাসকষ্টের রোগীরা দুই ধরনের মিটারড ডোজ ইনহেলার ব্যবহার করতে পারেন। সালমেটেরল + ফ্লুটিকাসন (২৫/২৫০) জাতীয় ইনহেলার ১২ ঘণ্টা পরপর দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার করা যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের রোগীরা দীর্ঘমেয়াদে এই ইনহেলার ব্যাবহার করতে পারেন। শ্বাসকষ্ট না থাকলেও এই ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে। না হলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে।

দ্রুত শ্বাসকষ্ট কমানোর জন্য সালবিউটামল জাতীয় ইনহেলার ৬ ঘণ্টা পরপর ব্যবহার করা যেতে পারে। ইনহেলার ব্যবহারের পর কুলি করতে হবে।

শ্বাসকষ্ট রোগ হলো শ্বাসনালীর রোগ। ইনহেলারের মাধ্যমে ঔষধ প্রয়োগ করলে এবং সঠিকভাবে ইনহেলার ব্যবহার করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ইনহেলার অবশ্যই আপটেক গো স্পেসার দিয়ে ব্যবহার করতে হবে। আমাদের বেশিরভাগ রোগী ইনহেলার ব্যবহার করতে জানেন না। যার কারণে শ্বাসকষ্ট কমতে বেশি সময় লাগে। এছাড়া শ্বাসকষ্টের রোগী ড্রাই পাউডার ইনহেলার নামক একটি ডিভাইস দিয়ে ক্যাপসুল দিনে দুইবার শ্বাসের মাধ্যমে টানতে পারেন। সালমেটেরল + ফ্লুটিকাসন জাতীয় ক্যাপসুল ২৫০/৫০ দিনে দুইবার শ্বাসের মাধ্যমে টানতে পারেন।

এছাড়া ট্যাবলেট ডক্সোফাইলিন ২০০ মিলিগ্রাম করে দিনে ২ বার করে গ্রহণ করতে পারেন। শ্বাসকষ্টের রোগীরা মন্টিলুকাস্ট গ্রুপের ঔষধ ১০ মিলিগ্রাম একটা করে নিয়মিত গ্রহণ করতে পারেন।

যেহেতু করোনার হানায় আমরা সবাই যুদ্ধে আছি। আমাদের আরও কিছু দিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। তাই আমাদের সবাইতে সচেতন থাকতে হবে সবসময়। কিছুক্ষণ পরপর সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ধুলাবালি এড়িয়ে চলতে হবে।

ধূমপায়ীদের অবশ্যই ধূমপান পরিত্যাগ করতে হবে। ঠাণ্ডা পানি এবং ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কোন নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণ করলে যদি শ্বাসকষ্ট বাড়ে তবে সেই খাবার খাওয়া যাবে না। ব্যথানাশক ঔষধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যায়াম অথবা খেলাধুলা করার পূর্বে সালবিউটামল ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে। ওজন বেশি থাকলে ওজন কমাতে হবে। পারফিউম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বেশি সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। সংক্রমণ হচ্ছে প্রতিটি পর্যায়ে। গাণিতিক হারে বাড়ছে। সবাই ঘরে থাকুন। সাবান পানি দিয়ে ভাল করে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত পরিস্কার করুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে মুখে-নাকে-চোখে হাত দেবেন না। ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, উচ্চরক্তচাপযুক্ত রোগীরা নিয়মিত ঔষধ খান, ব্যায়াম করেন। সবাই সবাইকে সহায়তা করুন।

ডা. জাকারিয়া মাহমুদ: বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, সহকারী অধ্যাপক, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

0Shares





Related News

Comments are Closed