Main Menu

দেশে আরও ৪ করোনা রোগি শনাক্ত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে করোনাভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৪ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৮ জনে। এর মধ্যে দুই জন চিকিৎসকও রয়েছেন। এ সময়ে নতুন করে কোনো মৃত্যু নেই।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ১০২৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাস সীমিত পর্যায়ে কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে ড. ফ্লোরা আরও বলেন, তবে এখনও তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েনি।

তিনি বলেন, সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণের দ্বিতীয় দিন চলছে। জনগণের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আপনারা ঘরের বাইরে যাবেন না, ভেতরেই থাকবেন। আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলবেন। ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রোগের বিস্তারকে বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করে প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রোগের বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষার বিষয়টি প্রসারিত করার কথা জানিয়েছে। এরমধ্যে সেই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সেব্রিনা বলেন, এতদিন যারা বিদেশ থেকে এসেছিলেন কিংবা তাদের সংসর্গে থাকা ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা এসেছিল অথবা গত ১৪ দিনের মধ্যে রোগীর সংস্পর্শে ছিল, তাদের মধ্যে লক্ষণ-উপসর্গ দেখা দিলে কেবল তাদের নমুনাই পরীক্ষা করছিল আইইডিসিআর। এখন যারা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বা দীর্ঘমেয়াদী রোগ থাকার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, তাদের নমুনাও সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ডা. ফ্লোরা বলেন, নমুনা সংগ্রহের দিক থেকে আপনাদের যে অনুরোধ আছে, তা একটি কিউ তৈরি করেছে। আপনাদের দিক থেকে আগের তুলনায় প্রসারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী আমরা নমুনা সংগ্রহ করছি।

নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা পদ্ধতিতে বেশ সময় লাগছিল বলে স্বীকার করে নেন আইইডিসিআর পরিচালক।

তিনি বলেন, নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখেছি…. অনেককে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আমরা নমুনা সংগ্রহ প্রসারিত করেছি। আমাদের টিম গিয়ে হাসপাতাল থেকে নমুনা নিয়ে আসত। এখন হাসপাতালের নমুনাগুলো হাসপাতালই আমাদের সংগ্রহ করে পাঠাবে।

তিনি বলেন, আইইডিসিআরে বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যেখানে পরীক্ষাগুলো হবে, আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি, আপনাদের যত শিগগির সম্ভব সেবাটি পৌঁছে দেওয়া যায়। চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই সেবাটি পৌঁছে দেয়া যায় এবং যত দ্রুত সম্ভব এ পরীক্ষার রিপোর্ট আপনাদের কাছে পাঠানো যায়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে নানা তথ্য জানাতে প্রত্যেকটি জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হটলাইন সার্ভিস চালু করছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ও আইইডিসিআরে যে হটলাইন নম্বর ছিল, সেখানেও লাইনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

জ্বর বা কাশি হলেই কোভিড-১৯ আক্রান্ত ভেবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ডা. ফ্লোরা বলেন, ভেবে বিচলিত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না। আপনার দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর ছাড়াও স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ নাম্বারটি আছে, সে নম্বরে আপনারা যোগাযোগ করুন। সেখানে অন্যান্য পরামর্শের পাশাপাশি এটি কভিড-১৯ কিনা সে বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হবে।

এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৯৯টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি। আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, সারা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩২ হাজার ১৫০ জনে। মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৮৩ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২৬ জন।

এ মুহূর্তে সারাবিশ্বে আক্রান্ত অবস্থায় আছেন ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪১ জন, যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৩৫৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাকি ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৮৪ জনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় ১৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, সুস্থ হয়েছেন ৮৪ শতাংশ মানুষ।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে চীন-ইতালিকে ছাড়িয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৫২০ জন, যা গোটা বিশ্বের মধ্যেই সর্বোচ্চ। সেখানে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৭ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এখনও চিকিৎসাধীন ৮২ হাজারের বেশি। এদের মধ্যে অন্তত ২ হাজার ১১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে চীন। করোনার উৎস দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৩৪০ জন। মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৯২ জন।

করোনা মহামারিতে রীতিমতো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরও ৭১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২১৫ জনে। একদিনে নতুন আক্রান্ত ৬ হাজার ১৫৩ জন, মোট ভুক্তভোগী ৮০ হাজার ৫৮৯ জন।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯৬ জন। মারা গেছেন ১৩ জন। পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১০৬ জন, প্রাণহানি ঘটেছে ৮ জনের। নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারেও এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed