ঢাকায় দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ শুরু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে আজ শনিবার সকাল ৮টায় শুরু হয় এ ভোট গ্রহণ, চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডির সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন।
এছাড়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম এবং বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আওয়ালও নিজ নিজ কেন্দ্রে সোয়া ৮টার দিকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সকালে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারও বাড়তে থাকে।
দুই সিটিতে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্য থেকেই দু’জন মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন- এমনটি মনে করছেন সাধারণ ভোটারসহ সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার ভোটারদের রায়ে চূড়ান্ত হবে আগামী পাঁচ বছর নগরবাসীর দেখভালের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন। পাশাপাশি নির্বাচিত হচ্ছেন দুই সিটির ১৭২ জন কাউন্সিলর।
ঢাকার দুই সিটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) চলবে টানা ভোটগ্রহণ। এ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই দুই সিটি নির্বাচনে জয়ী জনপ্রতিনিধিদের নাম ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
ওই ফলাফলে নির্ধারিত হবে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র কে- আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম নাকি বিএনপির তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণ সিটির ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস নাকি ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছেন, ভোটার, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে ইসি। এদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার নিয়োজিত থাকছে এবং বিজিবি, র্যাব ও নৌ-পুলিশ নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনী গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটের দায়িত্বে নিজ নিজ সদস্যদের নির্দিষ্ট জায়গায় মোতায়েন করেছেন।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। আর সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৮৭১টি। নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ৬ জন অস্ত্রসহ পুলিশ (একজন এসআই, একজন এএসআই ও চারজন কনস্টেবল), ২ জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার এবং ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য (চারজন নারী ও ছয়জন পুরুষ) মোতায়েন থাকবে।
এছাড়া সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ চারজন পুলিশ (এসআই/এএসআই ১ জন ও ৩ জন কনস্টেবল), ২ জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার, ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ হিসেবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকবে আনসার ও পুলিশের ৪২ হাজার ৬৮২ জন সদস্য। আর ভোট কেন্দ্র এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জন্য ৭৫ প্লাটুন বিজিবির ২ হাজার ২৫০ জন জোয়ান নিয়োজিত রয়েছে।
পুলিশ ও এপিবিএন সমন্বয়ে ১২৪টি ভ্রাম্যমাণ ও ৪৩টি স্ট্রাইকিং টিম ও র্যাবের ১২৯টিম নিয়োজিত থাকছে। অর্থাৎ র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন স্ট্রাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ টিম মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজারের মতো ফোর্স মোতায়েন থাকছে। সব মিলিয়ে এ নির্বাচনে ৫০ হাজারের মতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।
নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রতিপালন ও অপরাধের বিচার কাজের জন্য দুই সিটিতে ১২৯ জন নির্বাহী হাকিম ও ৬৪ জন বিচারিক হাকিম নিয়োগ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৪ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ৭৫ জন নির্বাহী হাকিম ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। এছাড়া উত্তর সিটিতে ২৭ জন ও দক্ষিণে ৩৭ জন বিচারিক হাকিম ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঢাকার এ দুই সিটি নির্বাচন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দেশবাসী ও বিদেশিরা। এ নির্বাচনে মোট ২২ প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১৩ দেশি পর্যবেক্ষক কাজ করবেন। তাদের মধ্যে উত্তরে ৫০৩, দক্ষিণে ৪৫৭ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৫৩ পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করবেন। আর বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবেন মোট ৭৪ জন। তাদের মধ্যে ৪৬ বিদেশি এবং ২৮ বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
ইসি সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ এবং নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। উত্তরে মোট ভোটকেন্দ্রে ১ হাজার ৩১৮। মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ১৮টি। এছাড়াও ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৫৪টি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ এবং নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ১৫০। সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি। এছাড়াও ভোটকক্ষের সংখ্যা রয়েছে ৮৭৬টি।
Related News
ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকেRead More
মাধবদীতে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : নরসিংদীর মাধবদীর রাইনাদী এলাকায় গভীর রাতে দুই বিঘা পুকুরে বিষ দিয়েRead More



Comments are Closed