Main Menu

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে চার জেলায় নিহত ৭

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শনিবার (৯ নভেম্বর) রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সুন্দরবন আঘাত করে। রবিবার (১০ নভেম্বর) ভোরে অপেক্ষাকৃত দুর্বল হয়ে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানে।বুলবুলের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, পটুয়াখালী ও বাগেরহাটসহ চার জেলায় জেলায় নিহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। তবে উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ঘরবাড়ি, ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের আবুল কালাম (৬০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

এছাড়া ভেটখালী ইউনিয়নের তারাণীপুরে দেওয়াল চাপা পড়ে ভ্যান চালক পলাশ ও তার স্ত্রী আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের এ খবর সরকারি কোন সূত্র নিশ্চিত করতে পারেনি। এদিকে শ্যামনগরের খানপুর, চন্ডিপুর, শ্যামনগর সদর, উত্তর বাঁধঘাটা, ইসমাইলপুর, হাইবাতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় বড় বড় গাছ ভেঙ্গে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাস্তার-ঘাটে পড়ে থাকা গাছ অপসারণের কাজ শুরু করেছেন।

বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল বলেন, “ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে আমার ইউনিয়ন লণ্ডভণ্ডহয়ে গেছে। বাতাসের তীব্রতা এত ছিল যে এখানকার অধিকাংশ গাছ উপড়ে গেছে। কাঁচা ঘর নষ্ট হয়ে গেছে, চালের টিন উড়ে গেছে। চিংড়ি ঘের ও ধানের জমি পানিতে একাকার হয়ে গেছে। আমার এলাকার রাস্তায় পড়ে থাকা অনেক গাছ এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে অপসারণ করেছি। শ্যামনগরের রাস্তা থেকে সরাতে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী কাজ করছে।”

খুলনা

খুলনার দাকোপ উপজেলায় প্রমিলা মন্ডল (৫২) ও দিঘলিয়া উপজেলায় আলমগীর হোসেন (৩০) নামে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত দুইজনই নিজ বাড়িতে গাছের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন।

দাকোপ উপজেলা পরিষদের বুলবুল কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, “গত শনিবার বিকালে প্রমিলা মণ্ডল দক্ষিণ দাকোপ সরকারি সাইক্লোন সেন্টারে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু রবিবার সকালে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে পাশেই থাকা নিজ বাড়ি ঘর দেখতে যান। সেখানে গিয়ে গাছ চাপা পড়ে নিহত হন।”

অপরব্যক্তি আলমগীর হোসেনের মৃত্যু প্রসঙ্গে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, “রবিবার সকালে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকায় নিজ বাড়িতে ঝড়ের আঘাতে ভেঙে পড়া ডালপালা সরাতে গিয়ে তিনি নিজেই গাছ চাপা পড়ে মারা যান। তিনি স্থানীয় কাটানী পাড়া ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফি মিস্ত্রীর ছেলে।”

বরগুনা

বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ডিএল কলেজ আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় হালিমা খাতুন(৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নারীর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর কারণে তিনি এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ডিএল কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিছুর রহমান।

পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বসতঘর চাপা পড়ে হামেদ ফকির (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) রাত তিনটার দিকে উপজেলার মাধবখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো সরোয়ার হোসেন জানান, “শনিবার রাত তিনটার দিকে ওই এলাকায় হঠাৎ ঝরো হাওয়ায় বসতঘরে উপর গাছ পরলে হামেদ ফকির ওই স্থানেই মারা যান। তার পিতা মৃত ইয়াছিন ফকির।”

0Shares





Related News

Comments are Closed