আবরার হত্যায় অমিত সাহা আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আরেক নেতা অমিত সাহাকে আটক করেছে পুলিশ। অমিত সাহা বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও বুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র।
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর সবুজবাগ কালিবাড়ী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
অমিত সাহার আটকের বিষয়টি ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রাজধানীর সবুজবাগ কালিবাড়ী এলাকা থেকে সকাল ১১টায় অমিত সাহাকে আটক করা হয়।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হলেও সেই তালিকায় নেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা। অথচ বুয়েটের শেরে বাংলা হলের যে ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়; সেই কক্ষটি অমিত সাহার। তার বিরুদ্ধে আবরারকে হত্যার অভিযোগ থাকলেও মামলায় তাকে আসামি না করায় সমালোচনা শুরু হয়।
অমিত সাহার নাম আসামির তালিকায় না থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সমালোচনা হয়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বুয়েট শিক্ষার্থী অমিত সাহাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন।
এর আগে ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রবিবার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ওইদিন রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির করিডোর থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।
তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।
হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।
মঙ্গলবার বুয়েট ক্যাম্পাসের সামনে ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হেলালউদ্দিন বলেন, ‘২০১১ নম্বর কক্ষটি অমিত সাহার। ঘটনার সময় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা আবরারকে বেদম মারধর করেন। পরে তিনিসহ অন্যরা বেরিয়ে যান।’
এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় ৭ অক্টোবর সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই রাতেই হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া এ ঘটনায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
Related News
নরসিংদীতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু লাল গ্রেপ্তার, বিদেশি পিস্তল উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নরসিংদী সদর মডেল থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও চিহ্নিত অপরাধRead More
নরসিংদীতে চাঁদা না পেয়ে ট্রান্সপোট ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নরসিংদীর শিবপুরে চাঁদা না পেয়ে নবী হোসেন নামে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীকে গুলি ওRead More



Comments are Closed