Main Menu

জাবিতে উন্নয়ন প্রকল্পে দূর্নীতি, তদন্তের দাবি

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের দূর্নীতিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রাইহান রাইন। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

শনিবার শিক্ষক–শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের ছাত্রপ্রতিনিধি এবং আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।

দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,”ভয়ানক অস্বচ্ছতা ও লুটপাটের প্রক্রিয়াতে অগ্রসর হয়েছে এই অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। শুরুতেই ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এসময় ছাত্রলীগ কর্তৃক টেন্ডারের দরপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বনির্ধারিত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্যই টেন্ডারের দরপত্র ছিনতাই করা হয়েছে, এমন অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় দৈনিকে। শুধু তাই নয়, নিশ্চিত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে যে, উপাচার্য নিজে প্রকল্পের টাকা থেকে দুই কোটি টাকা তুলে দিয়েছেন ছাত্রলীগের হাতে। আমরা মনে করি, এই হরি লুটের ফসল দ্রত ঘরে তুলতেই তড়িঘড়ি করে, সকল মতামত পায়ে দলে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এই ‘ অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’।

অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বয়ং উপাচার্যের এবং তার পরিবারের। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুইজন সাংবাদিক উপাচার্যকে এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কেবল তাদেরকে লাঞ্ছিতই করেননি উপরন্তু তাঁর প্রশাসনের তৈরি করা “ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি”র কালা কানুন মোতাবেক শাস্তি প্রদানেরও হুমকি দিয়েছেন। এই আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চরিত্রের প্রতিই হুমকি স্বরুপ। ফলে এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, একটি সর্বাত্মক কঠোর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই এবং প্রশাসনই বিশ্ববিদ্যালয়কে আশু আন্দোলন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ন আহবায়ক জয়নাল আবেদিন শিশির বলেন,”সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে আমরা দুই কোটি টাকা লেনদেনের কথা জনতে পারি, তবে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে আরো অনেক দুর্নীতি দৃশ্যমান হবে।

গণমাধ্যম আইনে সুনির্দিস্টভাবে বলা আছে মানহানীকর তথ্য প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে মামলার কথা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসণ যেহেতু এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি তাই বলা যায় টাকা নিশ্চয়ই দেওয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং তিন দফা দাবি পেশ করে বলেন,”রবিবারে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সোমবার গনসংযোগ, গনস্বাক্ষর ও ট্রান্সপোর্ট চত্ত্বরে পাবলিক টক এবং মঙ্গল্বার মশাল মিছিল হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারেক রেজা, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার, সমাজত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ প্রমূখ।

Share





Related News

Comments are Closed