Main Menu

কুলাউড়ায় জঙ্গল থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

কুলাউড়া সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় চা বাগানের জঙ্গল থেকে পলাশ শব্দকর (৯) নামে এক স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত পলাশ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিচিরি এলাকার পরিমল শব্দকরের পুত্র। সে স্থানীয় শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বেলা সাড়ের ১১টার দিকে স্থানীয় কালিটি চা বাগানের একটি জঙ্গল থেকে শিশু পলাশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিচিরি এলাকার পরিমল শব্দকরের পুত্র পলাশ ৩১ জুলাই বুধবার সকাল ১১ টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এসময় তাকে পার্শ্ববর্তী বাড়ির মিরজান আলীর পুত্র জায়েদ আলীর সাথে ঘুরতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ পায়নি পরিবার। জায়েদকে তার মা বাবা জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় পলাশকে দেখেনি। অনেক খুঁজাখুজি করার পর তাকে না পেয়ে পলাশের পিতা পরিমল ওইদিন সন্ধ্যায় কুলাউড়া থানায় একটি জিডি করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার কুলাউড়া থানার এসআই দিদার উল্লাহ সন্দেহভাজন হিসেবে জায়েদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে জায়েদ জানায়, পলাশকে হত্যা করে কালিটি চা বাগানের ১০নং সেকশনের একটি ঝোঁপে তার লাশ ফেলে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে পলাশের লাশ উদ্ধার করে এবং এঘটনার সাথে জড়িত থাকায় বালিচিরি গ্রামের মিরজান আলীর পুত্র জায়েদ আলী (১৪), তার চাচাতো ভাই একই এলাকার চাঁন মিয়ার পুত্র রাহেল মিয়া (২০) ও সন্দেহভাজন হিসেবে জায়েদের পিতা মিরজান আলী (৪৫) কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পলাশের মা সন্ধ্যা শব্দকর জানান, ‘বুধবার সকালে খাওয় দাওয়া করে সে। এরপর সকাল ১১টার দিকে বাড়ির সামনের একটি ক্ষেতে জায়েদ আলী ধান রোপণ করছে দেখে আমার ছেলেও জায়েদের সাথে ধান রোপণ করতে যায়। ধান রোপণ শেষে ১২টার দিকে জায়েদের সাথে কালিটি চা বাগানের দিকে যেতে দেখি। ঘণ্টাখানেক পর জায়েদ ফিরে আসলেও আমার ছেলে আসেনি। আমার ছেলে কোথায় জানতে চাইলে জায়েদ আমার ছেলেকে দেখেনি বলে জানায়।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, পলাশ হত্যায় আটক জায়েদ ও রাহেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। এছাড়াও এঘটনায় জায়েদের পিতা মিরজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পলাশের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসাপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed