ঢাকা-সিলেট সড়কে দুরত্ব কমছে ৩৫ কিলোমিটার
হবিগঞ্জ সংবাদদাতা: হবিগঞ্জ-লাখাই-সরাইল-নাছিরনগর সড়কের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। চারটি সেতু ও ২৫ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সংস্কারকৃত সড়কে থাকছে ৩ বছরের ওয়ার্যান্টি। আগামী ফেব্রয়ারীর মধ্যেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সড়কটির সংস্কার কাজ পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন হলে ঢাকার সাথে সিলেটের সড়ক যোগাযোগে দুরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার। এতে সময় বাঁচবে প্রায় ১ ঘন্টা।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাখাই উপজেলার শেষপ্রান্ত মোড়াকরির বলভদ্র নদীর সেতু থেকে বামৈ বাজার পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও লাখাই থানা এলাকা থেকে কয়েক কিলোমিটার রাস্তার বিটুমিনের একটি এক স্তরের পীচ সম্পন্ন হয়েছে। এর উপর আরো একটি স্তর দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া বাকী রাস্তার অধিকাংশ যান চলাচলের সুবিধার স্বার্থে খানা-খন্দ ভেঙ্গে লেভেল করে দেয়া হচ্ছে। বুল্লা বাজার থেকে হবিগঞ্জের দিকে শুরু হয়েছে সংস্কার কাজ।
এদিকে- তিনটি ব্রীজের নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলছে। ব্রিজগুলোর নীচ দিকের কাজ পুরোপুরি শেষ। বাকী যে কাজ রয়েছে তা শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন কর্মরতরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্যে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুল্লাবাজার এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী আশিকুর রহমান জানান, কিছুদিন রাস্তার কাজ বন্ধ থাকার কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে কাজ চলমান থাকায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। কাজের গুণগত মান সঠিক রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান তিনি।
গাড়ি চালক সুজন মিয়া জানান, তিনি আজমিরীগঞ্জ থেকে মাছ নিয়ে এই রোড দিয়ে প্রতিদিন ভৈরব যান। লাখাই থেকে বুল্লাবাজার পর্যন্ত রাস্তায় খানা-খন্দ থাকায় কিছুদিন পূর্বে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অর্ধেক রাস্তা সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি বাকী অর্ধেকের বেশি অংশ পুরাতন পীচ ভেঙ্গে লেভেল করে দেয়ায় দুর্ভোগ কমে এসেছে। এছাড়াও লাখাই থানা সংলগ্ন স্থান থেকে মোড়াকরি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় চলাচলে স্বস্তি এসেছে।
বামৈবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, কিছুদিন পূর্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহপুর ব্রীজ ভেঙ্গে যান চলাচল বন্ধ থাকলে পুরো সিলেট বিভাগের মানুষ এ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করেছে। রাস্তাটি পুরোপুরি নির্মাণ হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন তারা।
হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ৪টি সেতু ও ২৫ কিলোমিটার রাস্তাটি নির্মাণে ১৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে আসেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। এর মাঝে ৪টি সেতুতে ব্যয় হচ্ছে ৩৪ কোটি টাকা। বাকী টাকা ব্যয় হচ্ছে রাস্তা সংস্কারে। তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী কাজ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে। সড়কটিতে ৩ বছরের ওয়ার্যান্টি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির বলেন, বড় প্রকল্প হওয়ায় শুরুতে ফান্ড স্বল্পতাসহ বিভিন্ন করণে সংস্কার কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। এতে সাধারণ মানুষকে অনেকটা কষ্ট করতে হয়েছে। কাজ এগিয়ে নিতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শীঘ্রই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘবের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগককে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী তিনি।
প্রসঙ্গত- লাখাই উপজেলার শেষ সীমান্ত এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাছিরনগর উপজেলার শেষ সীমান্তে অবস্থিত বলভদ্র নদী। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল বলভদ্র ব্রিজ নির্মাণ করার। সকলের দাবির মুখে অনেক প্রতিকূলতাকে জয় করে সেখানে ব্রিজ নির্মাণে বরাদ্দ নিয়ে আসেন এমপি আবু জাহির। এতে করে ঢাকার সাথে সিলেটের সড়ক যোগাযোগে দুরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার। ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন এই ব্রিজ। কিন্তু সড়কের অবস্থা ভাল না হওয়ায় সেই ব্রিজের সুফল থেকে বঞ্চিত ছিলেন এই এলাকার মানুষ। শুধু ছোট গাড়ি চলাচল করত এই সড়কে। অবশেষে এই আঞ্চলিক সড়কের সুফল বরাদ্দ নিয়ে আসেন এমপি আবু জাহির।
Related News
হবিগঞ্জে ৭৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্যসহ আটক ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জ শহরতলীর পোদ্দার বাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয়Read More
হবিগঞ্জে পাইপলাইন থেকে তেল চুরি, ইউপি সদস্যসহ ৫জনের বিরুদ্ধে মামলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের কনডেনসেটবাহী পাইপলাইন ছিদ্র করে দুই দিনে ৪ হাজারRead More



Comments are Closed