Main Menu

সিলেটে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব সম্পন্ন

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের বার্ষিক ওরস উপলক্ষে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার জোহরের নামাজের পর দরগাহে মিলাদ শেষে ভক্ত-অনুরাগীরা শহরতলির লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা বাগানের টিলা থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করেন।

এ উপলক্ষে রোববার সকাল থেকে ‘লালে লাল- শাহজালাল’, ‘শাহজালাল বাবা কি- জয়’, ‘৩৬০ আউলিয়া কি- জয়’, ‘ওলি আউলিয়া কি- জয়’-এ রকম নানা স্লোগানে লাল গামছা বা চাদর গায়ে সিলেট নগরীরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী মিছিল নিয়ে দরগাহ প্রাঙ্গনে সমবেত হতে থাকেন।

জোহরের নামাজের পর হজরত শাহজালালের (রহ.) দরগাহ থেকে মিছিল শুরু করে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট, চৌকিদেখি হয়ে সোজা লাক্কাতুরা চা-বাগানে পৌছেন তারা। ফেরার পথে লাল গালিচার মিছিলে যুক্ত হয় গাছের সবুজ লতাপাতা।

ওরসের শিরনিতে ব্যবহৃত কাঠ সংগ্রহের ওই উৎসবকে লাকড়ি তোড়ার উৎসব বলা হয়ে থাকে। দরগাহের বার্ষিক ওরসের তিন সপ্তাহ আগে লাকড়ি সংগ্রহের এ আনুষ্ঠানিকতায় রোববার যোগ দেন হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী।

৭০০ বছর ধরে ওই উৎসব চলে আসছে। শাহজালাল (রহ.)-এর জীবদ্দশায় এভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করে রান্না করা হতো। সেই ঐতিহ্য এখনও অব্যাহত রয়েছে।

জনশ্রুতি আছে ৭০৩ হিজরির এই দিনে হজরত শাহজালাল (রহ.) তার সঙ্গীদের নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় শেষে কুড়াল হাতে পাহাড়-টিলাবেষ্টিত (বর্তমান লাক্কাতুরা চা-বাগানের নির্ধারিত টিলা) উত্তর প্রান্তের গভীর জঙ্গলের দিকে যেতে থাকেন। সঙ্গীরা তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। তিনি নিজ হাতে লাকড়ি সংগ্রহ করেন। পরে সেই জায়গার নাম হয় লাকড়ি তোড়ার (ভাঙা) টিলা। যা বর্তমানে লাক্কাতোড়া চা-বাগান নামেই প্রসিদ্ধ।

দরগাহের অফিস সূত্র জানায়, শাহজালালের (রহ.) জীবদ্দশায় এভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করে রান্না করা হতো। সে ঐতিহ্য রক্ষা করে ৭০০ বছর ধরে উরসের তিন সপ্তাহ আগে লাকড়ি তোড়া সম্পন্ন হয়ে আসছে। সংগ্রহ করা লাকড়ি নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে রাখা হয়। আর এসব লাকড়ি উরসে শিরনির রান্নায় ব্যবহার করা হয়।

প্রতি বছর দেশের প্রত্যন্ত জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান সিলেটে লাকড়ি তোড়া উৎসবে যোগ দেন। ভক্তরা ও অনুসারীরা লাকড়ি তোড়ার ফয়েজ ও আকর্ষণ অনেক বেশি বলে মনে করেন তারা।

Share





Related News

Comments are Closed