Main Menu

কানাডার কুইবেক প্রদেশে নতুন অভিবাসন আইন পাশ

নিজাম উদ্দিন সালেহ: কানাডার দ্বিতীয় সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ কুইবেক গত ১৬ জুন রোববার এক বিতর্কিত অভিবাসন আইন পাশ করেছে- যা অভিবাসন প্রার্থীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এই আইনে পারিবারিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অর্থাৎ অভিবাসন ভিসা প্রার্থীদের জন্য ‘আগে আবেদন করলে আগে ভিসা পাবেন’ নীতির বদলে অধিকতর দক্ষ শ্রমিকদের আগে ভিসা দেওয়ার বিধান চালু করেছে। এ অবস্থায় ইতোমধ্যে আবেদনকারী প্রায় ১৮ হাজার ভিসা আবেদনকারীকে বিপাকে ফেলেছে। তাদের ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া নতুন ভাবে শুরু করতে হবে।

এই নতুন আইন প্রায় অর্ধলক্ষ অভিবাসন প্রার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই আইন অনুসারে, বিদ্যমান ৩৬ মাসের পরিবর্তে ৬ মাসের মধ্যে যোগ্য শ্রমিক অভিবাসন প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হবে। গত রোববার কইবেক প্রাদেশিক পার্লামেন্টে পাশ হহওয়া এই আইনের পক্ষে ভোট পড়ে ৬২ টি এবং বিপক্ষে ৪২। অভিবাসন মন্ত্রী সাইমন জলিন ব্যারেট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বেলিতে বলেন, আমরা জনগণের স্বার্থে অভিবাসন পদ্ধতি সংশোধন করছি কারণ, আমাদেরকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, আমাদের এমন একটি পদ্ধতি আছে যা শ্রম বাজারের প্রয়োজন মেটাতে পারে।

বিরোধী তিনটি দলই ক্ষমতাসীন সেন্টার রাইট কোয়ালিশন এভেনির কুইবেকের সমালোচনা করে এই আইনকে ‘অমানবিক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তারা ১৮ হাজার প্রক্রিয়াধীন আবেদন ফেলে দেয়ার বিষয়টি ন্যায়সংগত নয় বলে উল্লেখ করেন। লিবারেল পার্টির এমপি ডমিনিক অ্যাংলেইড বলেন, সত্যি বলতে কি, আমি মনে করি না এই আইন ইতিহাসে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হবে। এটা কুইবেকের ভাবমূর্তিকে মলিন করবে। প্রাদেশিক প্রধানমন্ত্রী ফ্রাংকোয়েস লেগোল্টের সরকার কুইবেক অভিবাসীর সংখ্যা প্রতিবছর শতকরা ২০ ভাগ হারে হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে।

যা-ই হোক, এই নতুন আইনে নতুন আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। বিদ্যমান কর্মীদের ওপর এর কোন ক্ষতির প্রভাব পড়বে না। অনেকের মতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মতোই কুইবেকের এই আইন- যেখানে ট্রাম্প পরিবার-ভিত্তিক অভিবাসন আইন পরিবর্তন করে অধিক সংখ্যক দক্ষ শ্রমিক আনার প্রস্তাব করেছেন। বিষয়টি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাষ্টিন ট্রুডোকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। কারণ নতুন আইনটি ট্রুডোর প্রচারিত বহুসংস্কৃতিভিত্তিক কানাডীয় নীতির পরিপন্থী।

সূত্র: আরব নিউজ

0Shares





Related News

Comments are Closed