Main Menu

শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ২০৭

Manual4 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত বেড়ে ২০৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আরও প্রায় ৪৫০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

রবিবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রথম দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

Manual3 Ad Code

হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে নিহতের সংখ্যা ১৯০ জন বলে জানায়। কিন্তু সরকারের এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পর দেশটির পুলিশ বলছে, রাজধানী কলম্বোজুড়ে সিরিজ বোমা হামলায় ২০৭ জন নিহত ও আরও ৪৫০ জন আহত হয়েছেন।

ইস্টার সানডের সকালে কলম্বোর বিলাসবহুল সিনামুন গ্রান্ড, শাঙ্গরি-লা ও কিনসবুরি হোটেল ও কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি গীর্জা, নেগোমবোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান গীর্জা ও বাত্তিকালোয়ার জিওন গীর্জায় ওই হামলা হয়। দেশটির পুলিশের প্রধান বলেছেন, তিনি এই হামলার ব্যাপারে ১০দিন আগেই সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

Manual3 Ad Code

তিনি জানান, দেশটির প্রধান এবং প্রসিদ্ধ গীর্জাগুলো ইস্টার সানডের দিনে আক্রান্ত হতে পারে বলে সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিলো।

এ ঘটনায় জরুরি বৈঠকে বসেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে। বৈঠক থেকে দেশজুড়ে কারফিউ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে ১২ ঘণ্টা কারফিউ জারি করা হলেও সেনা মোতায়েন কত দিন থাকবে তা উল্লেখ করা হয়নি।

বিস্ফোরণের এ ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে দেশের জনগণকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এই বোমা হামলার তদন্ত শুরু করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

Manual6 Ad Code

শ্রীলঙ্কার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যেসব গির্জায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেসব স্থানে দুই শতাধিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সেইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ রাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর সংবাদে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দেশজুড়ে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। পাশাপাশি সোম ও মঙ্গলবার সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

Manual2 Ad Code

শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুভান বিজয়বর্ধনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ জারির এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।’

এছাড়া দেশটিতে ফেইসবুক, হোয়াটস অ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রবিবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে প্রথম বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় গির্জাগুলোতে ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিলো। এর কিছুক্ষণ পর বিস্ফোরণ ঘটে রাজধানী কলম্বোর শাংরি লা, সিনামন গ্র্যান্ড ও কিংসবুরি হোটেলেও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার বিভিন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কাতুয়াপিটিয়াতে অবস্থিত সেন্ট সেবাস্তিয়ান নামক গির্জার ছাদ ধসে পড়েছে এবং গির্জার মূল স্থানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লেগে আছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩৫ বিদেশি পর্যটক নিহত হয়েছে বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিখোঁজ দুই বাংলাদেশির মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক, অন্যজন শিশু। চার সদস্যর পরিবারটি শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে গিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী প্রধান একটি দেশ। দেশটিতে খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের সংখ্যা মাত্র ছয় শতাংশ। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এর সরকারি নাম গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী শ্রীলঙ্কা। ১৯৭২ সালের আগে এই দ্বীপ সিলন নামেও পরিচিত ছিল। এর প্রশাসনিক রাজধানীর নাম শ্রী জয়াবর্ধেনেপুরা কোট্টে। এর প্রধান শহর কলম্বো। ভারতের দক্ষিণ উপকূল হতে ৩১ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত।

২০১৬ সালের গণনা অনুযায়ী দেশটিতে মোট জনসংখ্যা ২ কোটি ১৩ লাখ ৩ হাজার প্রায়। দেশটির ১৪% এর অধিক লোকজনের দৈনিক আয় ১.২৫ মার্কিন ডলারের নীচে। প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীলঙ্কা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code