Main Menu

চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীসহ চার জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা ও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বুধবার (১০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ভোর পর্যন্ত এসব ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি নিহত সবাই মাদক ব্যবসায়ী।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নবী হোসেন (৪৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, প্রতিদিনের মতো আজও ঢাকা উদ্যান এলাকায় র‌্যাবের চেকপোস্ট চলছিল। ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে একদল অস্ত্রধারী র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। এতে র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হন।

আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে মাদক সম্রাট নবী গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মো. হুসাইন (৩৭) নামে এক জলদস্যু নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ভোরে বাঁশখালী উপজেলার ছোট সনুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মো. হুসাইন উপজেলার সনুয়া ইউনিয়নের কুতুবখালী এলাকার মো. নুরুল আলমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বাঁশখালীসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৬টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবারসহ ৪টি অস্ত্র ও ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

বাঁশখালীর থানার পুলিশ জানায়, ভোরে ছোট সনুয়া এলাকায় ব্যার অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুরা গুলি চালায়। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে জলদস্যুরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মো. হুসাইনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার:

জেলার টেকনাফ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবুল কাশেম (৩২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১এপ্রিল) ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলার পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়া পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত টেকনাফ উপজেলা পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়ার আনু মিয়ার ছেলে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মাদক কারবারী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী কাশেমের স্বীকারোক্তি মতে রাতে তাদের আস্তানা পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়া পাহাড়ে অস্ত্র এবং মাদক উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশ। টের পেয়ে কাশেমের সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে এএসআই অহিদ উল্লাহ (৩৯), কনস্টেবল হাবিব হোসাইন (২৩) ও তুহিন আহমেদ (২২) আহত হন।

আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গোলাগুলি থামলে পুলিশ ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি, ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। পরে গুলিবিদ্ধ কাশেমকে উদ্ধার টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার নেওয়ার পথে কাশেম মারা যায়।

মেহেরপুর:

জেলার গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মাদক কারবারী ফজলুর রহমান ওরফে ফজু (৪৫) নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান ও এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফজলুর রহমান ফজু গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে। মাদক ব্যাবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, হাড়াভাঙ্গা মাদ্রাসার কাছে মাদক কারবারীদের দুই পক্ষের গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একইসঙ্গে একটি ওয়ান শুটারগান ও এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন নিহত ব্যাক্তির নাম ফজলুর রহমান ফজু বলে শনাক্ত করে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

Share





Related News

Comments are Closed