Main Menu

ইবি হ্যান্ডবল টিমের উপর হামলা, আহত ১২

ইবি প্রতিনিধি: হত্যার হুমকির দুদিন পর এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) হ্যান্ডবল টিমের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) খেলোয়াড়, শিক্ষার্থী ও সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ইবির সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, ক্রীড়া বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহেল, দলীয় কোচ শাহ আলম কচিসহ ৯জন খেলোয়াড় গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে জাবির খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

খেলোয়াড় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে হাত ও কোমর ভেঙ্গে রাব্বি ও ইমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়েছেন খেলোয়াড় হৃদয়। অন্যান্য আহতরা হলেন আশিক, ইমন, শিমুল, রাব্বি, রিদয়, জাকারিয়া, দিপন, শোভন, সালফি, সৌরভ। আহতদের সাভার এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত এই টিমে বাংলাদেশ জাতীয় হ্যান্ডবল দলের ২ জন খেলোয়ারসহ জাতীয় পর্যায়ের ৭ জন খেলোয়ার রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টায় জাবির মাঠে বঙ্গবন্ধু আন্তবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিফাইনাল হ্যান্ডবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শুরু থেকেই আক্রমাত্মক ছিলো জাবি দলের খেলোয়াড় ও দর্শকরা। খেলায় ইবি দল ৩ পয়েন্টে এগিয়ে গেলে উপর্যপুরি ফাউল করতে থাকে জাবির খেলোয়াড়রা। একপর্যায়ে ইবির খেলোয়াড়রা ফাউল আবেদন করলে তাদের ওপর চড়াও হয় জাবি খেলোয়াড়রা। একই সময় মাঠে ঢুকে পড়ে জাবির দর্শকরাও। এসময় তারা খেলোয়াড়দের উপর হামলা শুরু করে। এসময় তারা রড, স্ট্যাম্প, কাঠের চলাসহ লাঠি-সোডা দিয়ে উপর্যপুরি আঘাত করতে থাকে। খেলোয়াড়দের রক্ষা করতে গিয়ে এসসময় ইবির শিক্ষক, কোচ ও কর্মকর্তারা তাদের থামাতে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা করে সন্ত্রসীরা। এসময় নাক ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে ইবি শারিরীক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. সোহেলের।

হামলার শিকার ইবির সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, খেলায় মাঠে নূন্যতম নিরাপত্তা ছিল না। তারা খেলোয়াড়দের ওপর হামলা করলে আমরা থামাতে গেলে তারা আমাদের ওপরও হামলা করে। শিক্ষক পরিচয় দিলেও তারা হামলা থামায়নি।

ইবি দলের খেলোয়াড় সাকিব শিকদার বলেন, আমরা তিন পয়েন্টে এগিয়ে গেলে আমাদের সাথে আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠে। একের পর এক ফাউল করতে থাকে। একসময় তারা আমাদের ওপর হামলা করে।

জাবি প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, আমরা নিরাপত্তা দিতে পারিনি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লজ্জিত এবং ক্ষমা চাচ্ছি। এছাড়া আর বলার কিছু নেই। তবে ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইবি ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমারা ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। এই জঘন্য ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয়কে সকল প্রকার খেলা থেকে কালো তালিকাভূক্ত করার দাবি জানাই।

জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, আমার শিক্ষার্থীরা যেটি ঘটিয়েছে তার জন্য আমি সত্যিই লজ্জিত। আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আমি বিষয়টি স্কিপ (এড়িয়ে যাবনা) করব না, এর সাথে যারা জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এদিকে এই বর্বর হামলার প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি সহ বিভিন্ন সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ইবির শিক্ষার্থীরা বুধবার বিকাল ৫টা থেকে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপি সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল একই ভেন্যুতে ইবি দলের খেলোয়াড়দের পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয় জাবির কতিপয় সন্ত্রাসী। এতে খেলা বয়কট করে নিরপেক্ষ ভেন্যু দাবি করে টিম ইবি। তবে সেটি আমলে না নিয়ে পুনরায় একই ভেন্যুতে খেলা দেয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় সেই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বঙ্গবন্ধু চ্যাম্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মামুন ও জাবি প্রক্টর ফিরোজ হাসান দায় এড়ানো বক্তব্য দেন বলে অভিযোগন আসে।

Share





Related News

Comments are Closed