Main Menu

বিমান ছিনতাইচেষ্টাকারীর নাম মাহাদী নয় পলাশ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খী ছিনতাইচেষ্টাকারী আগে থেকে র‌্যাবের ‘তালিকাভুক্ত অপরাধী’। তার নাম পলাশ আহমেদ। সে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পিরিজপুরের দুধঘাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা পিয়ার জাহান সরদারের পুত্র।জানা গেছে, ঢাকাই চলচ্চিত্রে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা সিমলা তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার আগে র‌্যাবের পক্ষ থেকে এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ছিনতাইচেষ্টাকারীর পরিচয় পলাশ আহমেদ। ২৪ বছর বয়সী পলাশের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে এবং সে আগে থেকে র‌্যাবের ‘তালিকাভুক্ত অপরাধী’।

এর আগে রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে দুবাইয়ের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের বিমান ময়ূরপঙ্খী উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে বিমানটি। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের জরুরি অবতরণ করা হয়। জরুরি অবতরণের পরপরই রানওয়েতে বিমানটি ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

পরে সব যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হলেও একজন যাত্রী এবং একজন ক্রুকে ওই ছিনতাইকারী জিম্মি করে রাখে। পরে বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী সন্দেহভাজন অস্ত্রধারীকে ধরতে কমান্ডো অভিযান পরিচালিত হয়। এরপর ছিনতাইকারীর নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে রুদ্ধশ্বাস এই অভিযান শেষ হয়। ফ্লাইটটিতে ১৩৪ জন যাত্রী ও ১৪ জন ক্রু ছিল।

অভিযানের পর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ছিনতাইকারীর বয়স ২৫-২৬। ক্রু’কে সে তার নাম ‘মাহাদী’ বলে জানিয়েছে।

র‌্যাবের বার্তায় বলা হয়, বিমান ছিনতাইচেষ্টায় কমান্ডো অভিযানে নিহত সন্ত্রাসী র‍্যাবের অপরাধী ডাটাবেজের অন্তর্ভুক্ত। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পিরিজপুরের দুধঘাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবার নাম পিয়ার জাহান সরদার।

র‍্যাব আরও জানায়, প্লেনটি ঢাকা থেকে দুবাইগামী হলেও পলাশ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী ছিলেন। টিকেট অনুযায়ী তার নাম ‘আহমেদ/মো. পলাশ’। ফ্লাইটের ‘১৭এ’ আসনের যাত্রী ছিলেন তিনি।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ঠিক কোন অপরাধের জন্য তিনি আমাদের ডাটাবেজে ছিলেন তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে উপযুক্ত সময়ে সেই তথ্য আমরা গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করবো।

ঘটনাটি তদন্তে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোকাব্বির হোসেনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

একান্ত মূহুর্তে পলাশ ও নায়িকা সিমলা

পলাশের বাবা পি আর জাহানের দেয়া তথ্যে, প্রায় ১০ মাস আগে চিত্রনায়িকা সিমলাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায় পলাশ। বাবা-মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়। এর এক-দেড় মাসের ব্যবধানে আরও দু’বার আসে পলাশ ও সিমলা। তারপর থেকেই পুত্রবধু সিমলার কোনো খবর জানেন না তিনি।

সিমলা পলাশের দ্বিতীয় স্ত্রী। অনুমান করা হচ্ছে তাদের দাম্পত্যে ফাটল ধরেছিল। হয়তো বিচ্ছেদও হয়ে গেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। সেই বিচ্ছেদ হয়েছে সিমলার আগ্রহেই। সেটি মেনে নিতে পারেননি পলাশ। হতাশায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি বিমান ছিনতাইয়ের মতো কাণ্ড ঘটাতে চেয়েছেন।

তবে এই বিচ্ছেদের খবর জানেন না পলাশের পরিবারের সদস্যরা। কোনো তথ্য নেই সিমলার কাছের মানুষ ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছেও। তাই সিমলাকে খুঁজছে সবাই। কিন্তু কোথায় সিমলা? যে নাম্বারে সবসময়ই পাওয়া যেত ‘ম্যাডাম ফুলি’ খ্যাত নায়িকা সিমলাকে সেই নাম্বারটি রয়েছে বন্ধ।

জানা গেছে, সিমলা দেশে নেই। বর্তমানে রয়েছেন ভারতের মুম্বাইয়ে। সেখানে মীরা রোড নামে এলাকায় অনেকদিন ধরেই বাস করছেন তিনি। সর্বশেষ তাকে দেখা যায় ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ নামের একটি ছবিতে।

Share





Related News

Comments are Closed