সিইসির পদত্যাগ দাবি বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বর্তমান নির্বাচন কমিশন জাতির সামনে ‘ব্যর্থ ও অকার্যকর’ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘এটা কোনও নির্বাচন হচ্ছে না, এটা রক্তের হোলি খেলা হচ্ছে। সব জায়গায় আমাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এমন কি মহিলাদের ওপরও। দেশের এই পরিস্থিতিতে আমরা এই মুহূর্তে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ দাবি করছি। আমরা চাই উনি এখনই পদত্যাগ করুন।’
মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে হামলায় গুরুতর আহত দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখুন, এই হলো ২০১৮ সালের নির্বাচনের নমুনা। আজ সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও রক্তাক্ত। হামলায় গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরীও আক্রান্ত। কাউকে বাদ দিচ্ছে না। দেখে মনে হচ্ছে এটা কোনও নির্বাচনই নয়।’
এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ঐক্যফ্রন্টের বিবৃতি পাঠ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বিবৃতিতে বলা হয়, সারা দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের ওপর হামলা মামলা, নির্যাতনের বিষয়ে অবহিত করতে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলাম ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে। কিন্তু আমাদের অভিযোগ শুনে সিইসি নূরুল হুদা সরকার দলীয় নেতার মত আচরণ করেছেন।
এতে আরো বলা হয়, সিইসি ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা ছিলো অত্যন্ত অশোভন। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তাৎক্ষণিক ক্ষোভ জানিয়ে বৈঠক বর্জন করেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করছি। রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান করছি, যাতে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে সিইসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কারণ এমন মেরুদণ্ডহীন কমিশনের কাছ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণকে আহ্বান জানাবো জনগণের ঐক্য গড়ে তুলে জনগণের দাবি আদায় করার জন্য।’
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ইসি ১৯৭১ সালের আল-বদর আল-শামস বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ক্ষমতাসীনদের বিজয়ী করতে।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে জনগণ যেভাবে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করেছে ঠিক একইভাবে আগামী ৩০ তারিখের নির্বাচনে জনগণই বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পরাজিত করবে। আমরা বলতে চাই রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেবো।’
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.আব্দুল মঈন খান, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Related News
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের মিছিল আরও বড় করার হুঁশিয়ারিRead More
নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরখান থানা এলাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্টRead More



Comments are Closed