জাবি ছাত্রলীগের সেক্রেটারি লাঞ্চিত
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রাজিব আহমেদ রাসেলের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাত সাড়ে দশটায় শহীদ সালাম বরকত হলের সামনে রাজিব আহমেদ রাসেল চঞ্চলকে মারধর এবং গালিগালাজ করেন। এ নিয়ে হলের সামনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে হল প্রভোস্ট ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে হাজির হন। পরে চঞ্চল ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
রাজিব আহমেদ রাসেল গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন চঞ্চল ছিলেন তার একনিষ্ঠ অনুসারী। তবে শাখা ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নেওয়ার ২ বছর হয়ে গেলেও রাজিব আহমেদ রাসেল জাবি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে বেশ শক্ত প্রভাব বজায় রাখতে সমর্থ হন।
নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে দু’জনের মধ্যে নানা ইস্যুতে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয়। এতে চঞ্চলের অনুসারী যেসব নেতাকর্মী একই সাথে রাজিব আহমেদ রাসেলেরও অনুসারী তারা চঞ্চলের কাছ থেকে দূরে সরে যান। এই নেতাকর্মীরা শাখার সহ-সভাপতি নিয়ামুল হাসান তাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লার নেতৃত্বে ভিন্ন বলয় তৈরী করেন। এই বলয়ে রয়েছে মীর মশাররফ হোসেন হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বিশ্ব কবি রবীদ্রনাথ হল, শহীদ সালাম-বরকত হল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
গত ১৫-২০ দিন আগে এই নেতাকর্মীরা চঞ্চলের সাথে না চলার ঘোষণা দেন। সর্বশেষ গত ১৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাবি ক্যাম্পাসের সামনে দিয়ে ঢাকা ফেরার সময় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা-আরিচায় জড়ো হন। এদিন চঞ্চলকে রেখেই তার অনুসারীদের একটি অংশ সহ-সভাপতি নিয়ামুল হাসান তাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লার নেতৃত্বে এই কর্মসূচীতে অংশ নেয়। কিছু সময় পর চঞ্চল এসে কর্মসূচিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে এ নিয়ে চঞ্চল ও রাজিব আহমেদ রাসেলের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। এরই সূত্র ধরে শুক্রবার রাতে রাজিব আহমেদ রাসেল ক্যাম্পাসে এসে চঞ্চলকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শনিবার শাখা সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র আয়োজিত বিজয় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেছে। এসময় তার সাথে শহীদ রফিক-জব্বার হল, মওলানা ভাসানী হল, আল বেরুনী হলের মাত্র ১০-১৫জন নেতাকর্মীকে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, সেক্রেটারী প্যানেলের মধ্যে আর একটা প্যানেল হয়ে গেছে। এটা কেন হল তা নিয়ে আমি তাকে ধমক দিয়েছি মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।
আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন,”বড় কোন ঘটনা ঘটেনি, সাম্প্রতিক সময়ে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে তার সাথে আমার মতদ্বন্দ্ব তৈরী হয়েছে। একারণে কিছু ভুল বুঝাবুঝি তৈরী হয়েছে, সিনিয়র-জুনিয়র কথা কাটাকাটি হয়েছে।
তবে গতকাল যেটা ঘটেছে তার জন্য শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। তারপরও আশা করি শীঘ্রই ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে।
চঞ্চল আরও বলেন, ‘তবে গতকাল (শুক্রবার) যেটা ঘটেছে তার জন্য শাখা সম্পাদক হিসেবে আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। তারপরও আশা করি শীঘ্রই ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে।’
Related News
নরসিংদীর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে যুবকের বস্তাবন্ধি লাশ উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ডৌকারচর ইউনিয়নের তেলিপাড়া বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত আড়িয়াল খাঁRead More
আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৫০, ২৬ কারখানায় ছুটি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভRead More



Comments are Closed