জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলায় চার্জশিট
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে মহানগর মেট্রোপলিটন আদালত-১ এর বিচারক হরিদাস পাস এর কাছে চার্জশিট দাখিল করেছে সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) বেলা পৌনে ১২ টার দিকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে থাকা জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ৩৫৩ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র অমূল্য কুমার চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী আদালতে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ।
এর আগে বুধবার (২৫ জুলাই) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
জাফর ইকবালের উপর হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত উল্লেখ করে ৬ জন অভিযুক্ত হলেন- ফয়জুল হাসান ফয়েজ, ফয়েজের বন্ধু মো. সোহাগ মিয়া, ফয়েজের পিতা হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান, মাতা মোছাম্মৎ মিনারা বেগম, মামা মো. ফজলুর রহমান এবং ফয়েজের ভাই এনামুল হাসান।
এদের সবাই আটক হয়ে কারাগারে আছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।
সেসময় পরিতোষ ঘোষ আরো বলেন, মামলার প্রধান আসামী ফয়জুল হাসান নিজেই জাফর ইকবালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ৩/৪ মাস থেকেই সে জাফর ইকবালকে হত্যার সুযোগ খুঁজতে থাকে। আদালতে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথাও স্বীকার করে ফয়জুল।
তিনি বলেন- জসিম উদ্দিন রাহমানী, তামিম উদ্দিন আদনানী এবং ওলিপুরী হুজুরের ওয়াজ শুনে ফয়জুল জিহাদের ব্যাপারে প্রভাবিত হয়। এছাড়া জসিম উদ্দিন রাহমানীর লেখা ‘উন্মুক্ত তরবারি’ পড়ে এবং তিতুমির মিডিয়ার ভিডিও দেখে সে ধারণা করে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল নাস্তিক।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, এক বছর আগে সে জাফর ইকবালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে লক্ষ্যে নগরীর আল হামরা মার্কেটের নিচতলার একটি দোকান থেকে ছুরি কিনে সুযোগ খুঁজতে থাকে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ বিকালে শাবিতে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আয়োজিত ‘ইইই ফেস্টিভ্যাল’ চলাকালে মঞ্চে বসে থাকা জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায় ফয়জুর নামের এক যুবক। মাথার পেছনদিকে ও শরীরের কয়েক স্থানে ছুরিকাঘাত করে সে। এ হামলায় আহত জাফর ইকবালকে প্রথমে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় সপ্তাহখানেক চিকিৎসাধিন থাকার পুনরায় নিজ ক্যাম্পাসে ফিরেন তিনি। ওই হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে নগরীর জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফয়জুল হাসানকে প্রধান আসামি করে আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
এ ঘটনার পরপরই উপস্থিত শিক্ষার্থীরা হামলাকারী ফয়জুল হাসানাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। গণপিটুনিতে আহত হওয়ার পর তাকে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে পুলিশ পৃথকভাবে ফয়জুলের বাবা, মা, ভাই, মামা ও বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে রিমাণ্ডে নেয়। রিমাণ্ড শেষে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠান।
Related News
মৌলভীবাজারে ৪ হত্যা মামলার রায়, ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারে পৃথক চারটি হত্যা মামলায় গত দুই মাসে ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেনRead More
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুদণ্ড
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবRead More



Comments are Closed