ছাতকে খাস জমিতে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে আটক ২
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ছাতকে সরকারী খাস জায়গায় নির্মাণ করা মসজিদ এসিল্যান্ডের নির্দেশে না ভাঙ্গার কারণে দুই জনকে আটক করে সাজার ঘটনায় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদের মুখে অবশেষে মধ্যরাতে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নিবাহী অফিসার ও এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরন করা হয়েছে।
রোববার (১ জুলাই) রাতে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ছাতক পৌরসভার অর্ন্তগত পূর্ব ও পশ্চিম নোয়ারাই মহল্লাবাসীর মধ্যে মসজিদে নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে রমজান মাসে দু’পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা মোকদ্দমা ও শালিস বৈঠক হয়। কিন্তু কোন মিমাংসা না হওয়ায় এক পর্যায়ে পূর্ব নোয়ারাবাসী স্থানীয় গাজীর মোকাম সংলগ্ন খাস ভূমিতে মসজিদ নির্মাণ করেন। পূর্ব নোয়ারাবাসীর দাবি তাদেরকে পঞ্চায়েতি মসজিদে নামাজ পড়তে বিভিন্ন সময় পশ্চিম নোয়ারাই এর লোকজন বাঁধা নিষেধ করার কারনে তারা বাধ্য হয়ে গাজির মোকামের ভূমিতে মসজিদ নির্মাণ করেছেন।
কিন্তু এতে প্রতিপক্ষের কতিপয় লোকজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনিয়া সুলতানার সাথে যোগসাজসের আশ্রয় নিয়ে তাদের দু’জনকে আটক করা হয় বলে জানান গ্রামবাসী। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসিল্যান্ড সোনিয়া সুলতানা ও ভূমি অফিসের কর্মচারীরা রোববার দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সরকারী ভূমিতে অনুমোদন ছাড়া মসজিদ নির্মানের দায়ে পূর্ব নোয়ারাই গ্রামের মৃত আকবর আলীর পুত্র আতিম শাহ ও নীরু মিয়ার পুত্র মঞ্জুকে তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং মসজিদ ভাঙ্গার নির্দেশ দেন। এ খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোব্ধ হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে শত শত লোক সহকারী কমিশনার সোনিয়া সুলতানার কার্যালয়ে জড়ো হন এবং তার অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করতে থাকেন। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে এসিল্যান্ড সোনিয়া সুলতানা আটককৃতদের নিয়ে ইউএনও আবেদা আফসারীর কার্যালয়ে চলে যান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ও তার পিছূ পিছু ইউএন্ও কার্যালয়ে গিয়ে ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করে বির্তকিত এসিল্যান্ডের অপসারনের দাবি করেন। পরে রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদা আফসারীর নেতৃত্বে সরকারী কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের শান্তনা বক্তব্য দিয়ে তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে রাত ১১টার দিকে আটককৃতদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তাদেরকে আত্মীয় স্বজনের জিম্মায় ছেড়ে দেন।
এব্যাপারে র্প্বূ নোয়ারাই গ্রামবাসির পক্ষে মইন উদ্দিন, আসিম শাহ, নিজাম উদ্দিন, ফরিদ আলীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, হারুনুর রশীদসহ কতিপয় ব্যক্তির মদদে গ্রামে এসব অপকর্ম হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।
অপর দিকে বে-আইনিভাবে মসজিদ ভাঙ্গার নির্দেশের অভিযোগে ছাতক উপজেলার নিবাহী অফিসার আবেদা আফসারি ও সহকারি কমিশনার ভুমি সোনিয়া সুলতানাকে পূর্ব নোয়ারাই গ্রামবাসির পক্ষে হাইকোর্টের আইনজীবি এডভোকেট আফতাব উদ্দিন একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। এডভোকেট আফতাব উদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা ইতিমধ্যেই ইমেইলের মাধ্যমেই নোটিশ প্রেরন করা হয়েছে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রথমে সহকারী কমিশনার সোনিয়া সুলতানার সাথে যোগাযোগ করলেও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে অপারগতা জানিয়ে তিনি ইউএনও’র বক্তব্য নেয়ার পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে ইউএনও আবেদা আফসারীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তার অফিসে এসে দেখা করার জন্য বলেন। মোবাইলের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি। পরে তার বক্তব্য নিতে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
Related News
সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জায়গা-জমি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধRead More
ছাতকে পাগনা বড়বিলে ১০ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ
আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় পাগনা বড়বিল জলমহালসহ বিভিন্ন জলাশয়কে কেন্দ্র করেRead More



Comments are Closed