মনুর স্রোতে কাউকাপন বাজারের ৩৬ দোকান বিলীন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে মনু নদীর পানির বৃদ্ধি পেয়ে ঈদের আগের দিন ১৫ জুন শুক্রবার থেকে শুরু হয় ভাঙন। মাত্র ১০-১২ ঘন্টার ব্যবধানে ৩৬টি দোকান মনু নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেলো। দোকান মালিকরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন কিভাবে নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেল তাদের দোকানপাঠ। দোকানের মালামাল কিছুটা রক্ষা হলেও বেশির ভাগ ভেসে গেছে স্রোতের তোড়ে। ভাঙন এলাকা দ্রুত মেরামত করা না হলে সম্পূর্ণ এ বাজারটি এই বর্ষা মৌসুমে নদ গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের শতবর্ষীয় কাউকাপন বাজারের ব্যবসায়ীরা এভাবে মুন নদীর ভাঙনের বর্ননা দেন।
রোববার (২৪ জুন) কাউকাপন বাজারে গেলে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পরিমল চন্দ্র দে, সেক্রেটারি মখলিছুর রহমান, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় ৫০ ফুট জায়গা নদ গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে কমপক্ষে ৩৬টি দোকান সম্পুর্নরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে পীযুষ দেবনাথ, ছুটই মিয়া ও রফিক মিয়ার ৩টি বড় মার্কেট নদ গর্ভে বিলীন হয়েছে। ৩টি মার্কেটে ১৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া হাবিবুল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, হাজী হাবিবুর রহমান, সুরণ রায়, হাজী আব্দুল খালিক, হাজী আব্দুল গফ্ফার, জয়নাল মিয়া, আব্দুস শহিদ মায়া, তোয়াব মিয়া ও হাজী আব্দুল খালিক কনা মিয়ার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙন শুরু হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। বেশির ভাগ মালামাল নদের স্রোতে ভেসে গেছে। ৩৬টি দোকানে ব্যবসায়ীদের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কোটি টাকা ছড়িয়ে যাবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা ক্ষোভের সাথে আরও জানান, বন্যা শুরু হওয়ার আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই বাজার এলাকায় কিছু বাঁশ পুঁতে কয়েক বস্তা বালু দিয়ে ঝুঁকিপুর্ণ স্থান হিসেবে কাউকাপন বাজার এলাকায় কিছু কাজ করে, যা মোটেও যথেষ্ঠ ছিলোনা। সীমান্তের ওপার থেকে আসা স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড়ী ঢল সেই প্রতিরক্ষা বাঁধটি মুহুর্তেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার এই বাজার থেকে প্রতি বছর রাজস্ব পেয়ে থাকে। ফলে এই বাজারটি রক্ষায় ব্লক দিয়ে দ্রুত মেরামতের দাবি জানান। নয়তো পুরো বাজারটি নদ গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এই কাউকাপন বাজার দিয়ে ভাঙন সৃষ্টি হলে হাজীপুরে ইউনিয়নের ৫-৬টি গ্রামসহ রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বর্তমানে বাজারে মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া পাকা সড়ক, বিদ্যুতের খুঁটি এবং কয়েকটি মার্কেটসহ পুরো বাজারটি হুমকির মুখে রয়েছে।
রোববার (২৪ জুন) কুলাউড়া থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুস শহীদ ও মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র চক্রবর্তী কাউকাপন বাজারে মনু নদের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। কাউকাপন বাজার ছাড়াও তাঁরা একই ইউনিয়নের মন্দিরা, টিলাগাঁও ইউনিয়নের বালিয়া এবং শরীফপুর ইউনিয়নের তেলিবিল এলাকায় মনু নদের সৃষ্ট ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুস শহীদ জানান, দ্রুত কাউকাপন বাজারের ভাঙন মেরামত ও ব্লক স্থাপনের জন্য একটি আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
কুলাউড়া থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন জানান, বাজারের দোকানপাট ভেঙে বড়ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড আলাদা প্রকল্প করে দেবে। যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি যাতে বাস্তবায়ন করা হয়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Related News
মৌলভীবাজারে পানিতে ডুবে ২ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বরশি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশু শিক্ষার্থীরRead More
শ্রীমঙ্গলের ভুনবীর ইউনিয়নে ফলদ, ভেষজ ও বনজ বৃক্ষচারা বিতরণ
সালেহ আহমদ (স’লিপক): পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বিপ্লব জোরদারের লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২নংRead More



Comments are Closed