৫ বছর ধরে বেতন পাচ্ছেনা লাফার্জের ২২ শ্রমিক
ছাতক প্রতিনিধি: ছাতকের লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পরিবহন শ্রমিকদের চাকুরিতে যোগদান ও তাদের বেতন ভাতাসহ আনুষাঙ্গিক সুবিধা প্রদান করছেনা।
পরিবহন শ্রমিকদের আই আর মামলা (নং-৩০-৫২/১৩) এর আদেশে গত বছরের ২৮ ডিসেম্ভর ২য় শ্রম আদালত চট্রগ্রামের বিচারক রায় প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়েছে পরিবহন শ্রমিকদের চাকুরিতে যোগদানের সুযোগ প্রদানসহ এ সংক্রান্ত সকল মামলা গুলি নিস্পত্তি অবধি পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ভাতাদি পরিশোধ করিবেন লাফার্জ কর্তৃপক্ষ। কোন বকেয়া ভাতাদি থাকলে তাও পরিশোধ করিতে হইবে।
উক্ত আদেশের পরও লাফার্জ কর্তৃপক্ষ পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ভাতাসহ চাকুরিতে যোগদানের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালে লাফার্জের অস্থায়ী পরিবহন শ্রমিকরা চাকুরি স্থায়ীকরনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের কারনে ২২জন পরিবহন শ্রমিককে চাকুরিচ্যূত করা হয়। এ নিয়ে লাফার্জে দফায়-দফায় বৈঠকও হয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলন ছিল অব্যাহত। কিন্তু এ বিষয়ের কোন সুরাহা হয়নি। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্ভর প্রতিকার চেয়ে চট্রগ্রামের ২য় শ্রম আদালতে লাফার্জের বিরুদ্ধে আই আর মামলা (নং-৩০-৫২) দায়ের করেন পরিবহন শ্রমিক খালেদ মিয়া। ২২ জন পরিবহন শ্রমিক পৃথক ২২টি মামলা ও আই আর মামলাসহ মোট ২৩টি মামলা দায়ের করেন লাফার্জের বিরুদ্ধে।
লাফার্জ কর্তৃপক্ষ এসব মামলায় কোন জবাব দাখিল করেনি। তারা সিভিল প্রসেডিওর কোর্ট ওর্ডারের ৭ ও ১১ রোলে মামলা খারিজের জন্য আবেদন করেন। আদালত ২০১৪ সালের ১০ মার্চ লাফার্জের খারিজ আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানা ঢাকা শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল মামলা (নং-৭২-৯৪) দায়ের করেন। আপীল ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন ভাতা প্রদানের আদেশ প্রদান করেন।
কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ উক্ত আদেশের বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে রিট আবেদন (নং-৩৫৩৯) করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্ভর মামলাটি খারিজ করেদেন। এর পর হাইকোর্টে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ আরেকটি রিট আবেদন (নং-৮৬৭২) করেন। এ মামলাটিও খারিজ করা হয়েছে। এদিকে বেতন ভাতাদি না পাওয়ায় ঢাকার শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালে শ্রমিকদের পক্ষে একটি কন্টেম মামলা (নং-৪/১৭) দায়ের করা হয়। এ মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্ভর ২য় শ্রম আদালতের প্রদেয় রায় কারখানা কর্তৃপক্ষ হাতে পেয়েও এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না। তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে যাচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া বেতন ভাতাদিসহ চাকুরি ফিরে পেতে শ্রমিকরা লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে গত ৮ জানুয়ারি লিখিত আবেদন করেছেন। এতেও লাফার্জ কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত কোন সাড়া দিচ্ছে না। এদিকে লাফার্জের কাছে পাওনা টাকা রেখেও ২০১৩ সাল থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
Related News
ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ
আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র, পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং নিষিদ্ধ সংগঠনেরRead More
সুনামগঞ্জে সাবেক পিপি ও নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা রুমেন গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতিRead More



Comments are Closed