Main Menu

রাজশাহীতে চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে শংকিত নগরবাসী

হাবিব জুয়েল, রাজশাহী থেকে: রাজশাহী নগরীতে বেড়েই চলেছে হাসপাতাল-ক্লিনিকের সংখ্যা। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়গনস্টিক সেন্টার। নগরীতে প্রায় ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল থাকলেও নগরীতে ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের প্রকৃত সংখ্যা কত জানা নেই কারো। চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি জনগণের চিকিৎসা সেবা।
অভিযোগ রয়েছে কতিপয় ডাক্তার তাদের দায়িত্বের কথা ভুলে গিয়ে হাসপাতালের অনেক রোগীকে রেফার্ড করে দেয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে, কমিশনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে। এভাবে সরকারি হাসপাতালে বহাল তবিয়তে চাকরি রক্ষা করেই অবাধে ৪ থেকে ৫টি প্রতিষ্ঠানে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা বাণিজ্য। তারা এতগুলো প্রতিষ্ঠানে ব্যস্ত থাকায় কোনো স্থানেই সুষ্ঠুভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে পারছেন না। মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। প্রতি দিনই হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও অভিভাবক। এর সাথে যোগ হয়েছে রোগী ধরা দালালদের উপদ্রপ। এ যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়া।
এছাড়াও যে হারে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা বাড়ছে তাতে জনগণের চিকিৎসা সেবার অভাব থাকার কথা নয়। অথচ তা হচ্ছে না। সেখানে আয়া ও নার্সদের সেবা প্রদানের চেয়ে দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ রোগী ও অভিভাবকরা। আর ডাক্তারের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যাবার ঘটনাতো ঘটছেই। সম্প্রতি নগরীর লক্ষ্মীপুরে নতুনভাবে চালু হওয়া এক নামকরা হাসপাতালে নাটোর থেকে আসা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আব্দুল জলিল নামের এক রোগীর ভুল ইঞ্জেকশনে মৃত্যুর পর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা সবার জানা। এ ধরনের ঘটনা নগরীর অধিকাংশ হাসপাতালে ঘটে চলেছে।
এদিকে সরকার জনগণের চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসক তৈরিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। এ অর্থ জনগণের। অথচ কতিপয় ডাক্তার ও নার্সদের কারণে প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ডাক্তারদের বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়লেও, বাড়ছে না চিকিৎসা সেবার মান। এ যেন জনগণের অর্থ দিয়েই জনগণকে ভাজা।
নগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীর প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দিনের পর দিন যে হারে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে রোগীর জায়গা পাওয়া দুস্কর। এর সুযোগ নিয়েছে ব্যবসায়ী ও কতিপয় ডাক্তার। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা খুলে বসেছে ক্লিনিক ও হাসপাতাল আর ডাক্তারের চিকিৎসা বাণিজ্য বাড়ছে। নিয়ম অনুযায়ী ডাক্তারি পাস করেই তাদের একমাত্র পেশা হিসেবে জনগণের চিকিৎসা সেবাকে বেছে নেয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। অসাধু কিছু ডাক্তার সরকারি হাসপাতালে চাকরিতে অবহেলা ও প্রাইভেট চিকিৎসাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং তারা অর্থ উপার্জনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এদিকে নগরীতে টেস্ট বাণিজ্য এখন তুঙ্গে। চিকিৎসা উদ্দেশ্যে নয়, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নগরীর যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ডায়গনস্টিক সেন্টার। এর সাথে ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোতে চলছে কমিশনভিত্তিক পরীক্ষা। কমিশনের বিনিময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট তৈরির মাধ্যমে রোগীদের প্রতারিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই রোগীর পরীক্ষায় একেকটি ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে একেক রকম রিপোর্টও পাওয়া যায়। এসব রিপোর্ট নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনেরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েন। আর এই চিকিৎসার অর্থ যোগাতে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে। অন্যদিকে অসাধু চিকিৎসক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার মালিকরা অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে এই টেস্ট বাণিজ্য করে। সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
বিশস্ত সূত্রে জানা গেছে যে ডায়গনস্টিক সেন্টারে সরবরাহকৃত স্লিপে ডাক্তার টিক মার্ক দিয়ে দেন এই বলে যে কোন্ কোনটি টেস্ট করাতে হবে। রোগী ডায়গনস্টিক সেন্টারে তার পছন্দ মতো টেস্ট করাতে চাইলেও তা করতে দেয়া হয় না। কোন কোন সময় রোগীর ইচ্ছামত টেস্ট করালেও ডাক্তার ঐ রিপোর্ট গ্রহণ করেন না। চিকিৎসকের নির্ধারিত সেন্টার থেকে পুনরায় একই টেস্ট করিয়ে আনতে হবে বলে চাপ দেয়া হয়। আর কমিশন নিশ্চিত হবার পরই রোগীর চিকিৎসা হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক আব্দুস সোবহান বলেন, সমাজের অবক্ষয় সর্বত্র। সরকার চিকিৎসা সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি চিকিৎসকরা জনসেবক হিসেবে যেন কাজ করেন। এ জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এতে আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই।

Share





Related News

Comments are Closed