Main Menu

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরে ক্লাস

মোঃ অালী হাসান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: চার কক্ষের একটি আধা পাকা ভবন, তার পাশেই ভাঙাচোরা তিন কক্ষের মাটির আরেকটি ঘর। আধা পাকা ঘরটির চারটি কক্ষের একটিতে অফিস কক্ষ। বাকি তিনটির একটি প্রাক্–প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষ। বৃষ্টি হলে সেই আধা পাকা ঘরের টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতায় মাটির ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে পুরোদমে চলে পাঠদান। এটি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র। বিদ্যালয়ের মাটির ঘরটি যেকোনো সময় ভেঙে শিক্ষক-শিক্ষার্থী হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুলালী গ্রামবাসী জানান, ১৮৮০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৮ সালে সরকারিভাবে মাটির ঘরের এক পাশে চার কক্ষের একটি আধা পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। আধা পাকা ঘরটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ নেই। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মাটির ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে পাঠদান করানো হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টিতে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ১৩৭ বছর পার হলেও পাকা ভবন নির্মিত হয়নি। বিদ্যালয়ের যে আধা পাকা ঘরটি রয়েছে, সেটির টিনের চালায় মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্র হয়েছে। বৃষ্টি এলে টিনের চালা দিয়ে অফিস ও শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। এ কারণে বর্ষার মৌসুমে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে চায় না।
অভিভাবক আমজাদ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের মাটির ঘরটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মাটির ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে এবং হেলে পড়েছে। বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার কারণে
শিক্ষকেরা বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের মাটির ঘরে পাঠদান করান। মাটির ঘরটি যেকোনো সময় ভেঙে শিক্ষক-শিক্ষার্থী হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহেনা বেগম বলেন, আধা পাকা ঘরটিতে চারটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ছোট অফিস কক্ষ, আরেকটি প্রাক্–প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষ। বাকি দুটি প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষ। মাটির ঘরটিতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান করানো হয়। আধা পাকা ঘরের টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ায় অফিস কক্ষে রাখা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে যায়। বৃষ্টি এলে অফিস কক্ষের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলে আসছে।
দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, বিদ্যালয়টিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। এখনো মাটির ঘরে পাঠদান করানো হয়। বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথা জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদিরুজ্জামান বলেন, ‘দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন করা দরকার। বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা পাঠিয়েছি।

Share





Related News

Comments are Closed