Main Menu

দুর্গম চরবিশ্বাসে সৌর বিদ্যুতের আলো

সজিব খান, গলাচিপা, পটুয়াখালী থেকে: পটুয়াখালীর গলাচিপার বুড়িগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনায় জেগে ওঠা দ্বীপ ইউনিয়ন চরবিশ্বাস। উপজেলা শহর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এ চরে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। অবস্থাসম্পন্ন হাতেগোনা কিছু বাড়িতে নিজস্ব সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সেখানকার লক্ষাধিক বাসিন্দার রাতটা কাটে প্রায় অন্ধকারে। তবে চরবিশ্বাস ইউনিয়নের উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামে চলতি বছর সৌরবিদ্যুতের ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘মিনি গ্রিড’ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি পরীক্ষামূলকভাবে এই কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসে। সেখান থেকে এখন প্রান্তিক এলাকার দোকানপাট, বাসা-বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন করেছে সরকারি সংস্থা ইডকলের (ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড)। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে গ্রীন হাউজিং অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।
গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরবিশ্বাস বাজারে প্রবেশের মুখেই সড়কের পাশে বসানো হচ্ছে বিদ্যুতের খুঁটি। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য টানানো হচ্ছে বিদ্যুতের তার। ডান দিকে তাকালেই চোখে পড়ে ইডকলের কার্যালয়। কার্যালয়ের ভেতরে একটি কক্ষে সারি সারি ব্যাটারি। এসব ব্যাটারিতে সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা হয়। গ্রীন হাউজিংয়ের বরিশাল বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আবুল হোসেন বলেন, চরবিশ্বাস ইউনিয়নে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়ে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। কিন্তু দুর্গম এ চরে সেই বিদ্যুৎ পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে চরবিশ্বাস বাজারে তিন কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি বসিয়ে আরও এক কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালনের তার টানানো হচ্ছে।
গ্রীন হাউজিং সূত্রে জানা যায়, এই মিনি গ্রিড থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যাচ্ছে মোট ৬০ জন গ্রাহকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে। তাদের মধ্যে ৪৫ জন ব্যবসায়ী ও বাকি ১৫ জন বাসাবাড়ির গ্রাহক। গ্রাহকসংখ্যা ৩২০ জনে উন্নীত করতে চায় তারা।

Share





Related News

Comments are Closed