Main Menu

দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুর উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ৭৮১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ-ভৈরব মেঘনা নদীর উপর নবনির্মিত দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতু ও দ্বিতীয় তিতাস রেলসেতুর উদ্বোধন ৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। এদিন সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতু দু‘টি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এ উপলক্ষে দ্বিতীয় ভৈরব সেতুর প্রান্তে মেঘনা নদীর পাড়ে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) অর্থায়নে ও বাংলাদেশ রেলওয়ের তত্ত্বাবধানে এই দুইটি রেলসেতুর নির্মাণ কাজ গত জুন মাসেই শেষ করা হয়। সেতুটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে চলাচলে সময় কমবে প্রায় ২ ঘণ্টা। তাছাড়া অধিক ওজনের ট্রেন চলাচলের সুযোগ থাকায় ঢাকার সাথে পণ্য পরিবহন হবে সহজ ও নিরাপদ।

রেলওয়ে বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের জন্য অন্যতম ও সহজ মাধ্যম ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ। তাই বর্তমান সরকার এই রেলপথ ডাবল/ডুয়েল গেজে রুপান্তরের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়। ইতোমধ্যে টঙ্গী-ভৈরব, চট্টগ্রাম-লাকসাম অংশের ডাবল লাইন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

আশুগঞ্জ উপজেলার যাত্রাপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাতশালা পর্যন্ত ডাবল লাইন আগে থেকেই ছিল। কিন্ত আশুগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে যাত্রাপুর পর্যন্ত এক কিলোমিটার রেল লাইন, মেঘনা নদীর উপর দ্বিতীয় রেল সেতু ও ভাতশালা স্টেশনের কাছে তিতাস নদীর উপর দ্বিতীয় রেলসেতু না থাকায় এতদিন ভৈরব থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডাবল লাইনে বিরতিহীন ট্রেন চলাচল চালু করা সম্ভব হয়নি। এই ডাবল লাইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আশুগঞ্জ-ভৈরব সীমানায় মেঘনা নদীর উপর দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর উপর দ্বিতীয় রেলসেতুসহ আরো কিছু আনুসঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ কাজ হাতে নেয়া হয়।

দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতু বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ৬২০ কোটি টাকা। যার সিংহ ভাগ ভারতীয় ঋণ সহায়তায় (এলওসি)‘র আওতাভুক্ত। এছাড়াও তিতাস নদীর উপর দ্বিতীয় রেলসেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৬১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সেতু দু‘টির নির্মাণ কাজ শেষে এই রেল সেতুর উপর দিয়ে একাধীকবার পরীক্ষামূলক ভাবে ৭৫ কি. মি. গতিবেগে ইঞ্জিনসহ ট্রায়াল ট্রেন ও গ্যাংকার ট্রেন চালানো হয়েছে। ৩ নভেম্বর ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন সেতু অতিক্রম করার মধ্য দিয়ে নিয়মিত ট্রেন চলাচল শুরু করা হয়। বর্তমানে এই দু‘টি সেতুর উপর দিয়ে ঢাকা-আখাউড়া ডাবল লাইনে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করছে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ-ভৈরব মেঘনা নদীর উপর নবনির্মিত দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতু ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর উপর নির্মিত দ্বিতীয় তিতাস রেলসেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে দ্বিতীয় ভৈরব ব্রীজ এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও কনফারেন্স উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত হবেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি, রেলপথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধূরী, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র,আ,ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধূরী, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার ড. আদর্শ সোয়ায়িকা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) ও প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হাই প্রমুখ।

বর্তমানে দ্বিতীয় ভৈরব সেতু প্রকল্পের সাথে সেতুর দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এপ্রোচ রোড, দুই পাশের ৪টি ছোট সেতুর কাজ, তিতাস নদীর উপর দ্বিতীয় রেলসেতুর ও আশুগঞ্জ-ভৈরব ডাবল লাইনের বাকি অংশের কাজও শেষ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের যাবতীয় নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। চলছে বিভিন্ন পয়েন্টে সিগন্যালিং স্থাপনসহ কিছু ফিনিসিং কাজ। সেতুটি উদ্বোধনের পর ট্রেন চলাচল শুরু করা হলেও চুক্তি অনুসারে নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক বছর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় মেরামত ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক ও দ্বিতীয় ভৈরব সেতুর ও দ্বিতীয় তিতাস রেলসেতু প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হাই জানান, ২য় ভৈরব রেলসেতু প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ৯ নভেম্বর এই সেতুর উদ্বোধন করা হবে। প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতু দুটি উদ্বোধন করবেন। এর আগে ৩ নভেম্বর সকাল থেকে সেতু দুটি দিয়ে রেল চলাচল শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পূর্বের সেতু দিয়ে ১১-১২ টন ওজনের ট্রেন চলাচল করলেও এ সেতু দিয়ে ২৫ টন ওজনের ট্রেন চলাচল করতে পারবে, থাকবে মিটার গ্রেজ ও ব্রডগেজ লাইন সুবিধা। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ভ্রমণ ও পণ্য পরিবহনে সময় যেমন অপেক্ষাকৃত কম লাগবে তেমনি তা হবে সহজ ও সাশ্রয়ী। এ পথে ট্রেন চলাচলে সময় অন্তত দেড়ঘন্টা সময় কমে আসবে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। একই সাথে ঢাকার সাথে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও কমবে সময়।

Share





Related News

Comments are Closed