কুমিল্লাকে হারিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ী সিলেট সিক্সার্স
স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এর দ্বিতীয় দিনের ম্যাচে নিজেদের দ্বিতীয় জয় ছিনিয়ে নিলো সিলেট সিক্সার্স। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে নুরুল হোসেনের চারে ১ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে নাসিরের সিক্সার্স। এর আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২০ অভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় সিলেট সিক্সার্সকে। জবাবে ব্যাট করতে নেমেম আগের দিনের ম্যাচসেরা উপুল থারাঙ্গা ও আন্দ্রে ফ্লেচারের ব্যাটে দারুন শুরু পায় সিলেট। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৩ রান যোগ করেন এই দুই্জন। ডোয়াইন ব্রাভোর বলে ৩৬ রান করেই সাঝঘরে ফিরতে হয় ফ্লেচারকে।
উপুল থারাঙ্গাও বিদায় নেন ৪০ বলে ৫১ রান করে। তখন দলের রান হয় ১৪ অভারে ১০২ রান ৩ উইকেট। এরপর তেমন একটা সুবিধা করতে পারেন নি সাব্বির রহমান। তিনিও ৫ বল খেলে ৩ রানেই বিদায় নেন প্যাভিলিয়নে। এরপর নাসির হোসাইন ও রস হোয়াইটলি দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে ব্যাট করলেও রশিদ খানের বলে অনেকটা চাপেই থাকতে হয় সিক্সার্সকে।
চাপের মুখে রান বাড়াতে গিয়ে ১৮ রানেই সাঝঘরে ফিরে যেতে হয় সিক্সার্স অধিনায়ক নাসিরকে। দলের রান তখন ৪ উইকেট হারিয়ে ১১৮ রান। এর পর শোভাগত হোম আসেন মাঠে। ১৫ বলে যখন ২০ রান দরকার তখন বাউন্ডারী মারতে গিয়ে নতুন জীবন পান শোভাগত হোম।
বোলার আল আমিন এর বলেও অনেকটা প্রেসারে থাকতে হয় সিক্সার্স খেলোয়ারদের। বারবার বল মাঠের বাইরে মারার চেষ্টা করলেও কুমিল্লা টাইট ফিল্ডিং এর কারনে তা ব্যর্থ হয়।
১৯ অভার শেষে সিলেট সিক্সার্স এর ৬ বলে দরকার ১০ রানের। তখন রস হোয়াইটলার এর আউটের পর নুরুল হোসেন আসেন ব্যাট হাতে। এসেই ব্যাট হাতে ৬ দিয়ে শুরু করে দলকে জয়ের আরও এক ধাপ এগিয়ে নেন। তখন ৩ বলে ৩ রানের দরকার হয়। উত্তেজনা বিরাজ করে দুইদলের ভিতরেই। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ২ বলে ২ রানের সমতা আনেন। এরপরই চার মেরে এক বল হাতে থাকতেই নিজেদের জয় নিশ্চিত করেন সিলেট সিক্সার্স এর খেলোয়ার নুরুল।
কুমিল্লার মোহাম্মদ নবী ২২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন, রশিদ খান ১৮ রান দিয়ে ১ উইকেট, ডিয়ানো ব্রাভো ৩৪ রানে ২ উইকেট নেন।
এর আগে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২০ অভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান করেন। তার মাঝে দলের জন্য একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি করেন সেমুয়েল। এর পরেই অলক কাপালি ২৬, লিটন দাস ২১ ও ইমরুল কায়েসের ১২ রানেই ভর করে সিলেট সিক্সার্সকে ১৪৬ রানের লক্ষ ছুড়ে দেয় কুমিল্লা।
এদিকে, সিলেট সিক্সার্স এর নাসির হোসেন ১টি, ক্রিশমার সানতকি ২টি, লিয়াম প্লাঙ্কেট ১টি ও তাইজুল ২টি উইকেট নেন।
এর আগে রোববার দুপুরে টস জিতে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট সিক্সার্স। প্রথম দিকে ইমরুল কায়েস ও লিটন দাসের ব্যাটিংয়ে কুমিল্লা ভালভাবে এগুতো থাকলেও সিলেট সিক্সার্স অধিনায়ক নাসির হোসাইনের বলে ১২ রান করেরই সাজঘরে ফিরে যেতে হয় ইমরুল কায়েসকে। এতে করে ৩৬ রানেই ভেঙে পড়ে ইমরুল লিটন জুটি।
এরপর মারলন সেমুয়েলস এসে ব্যাট হাতে হাল ধরেন কুমিল্লার। ধীর গতিতে কুমিল্লার খাতায় রানের পরিমান বাড়াতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াই করলেও ৬০ ম্যাচের শেষ অভারে পেসার প্লাঙ্কেকেটর ল ফোল্টস বলে নাসির হোসাইন এর হাতে ক্যাচ তুলে মাঠ থেকে বিদায় নেন তিনি।
লিটন দাস সেমুয়েলসকে নিয়ে রানের গতি বাড়াতে থাকলেও পাওয়ার প্লে এর লাস্ট বলে ২১ রানেই লিটনকে সাজঘরে ফেরান তাইজুল। এতে করে ৪০ রানে দুই উইকেটের পতনের পর অনেকটা পিছিয়ে পড়ে কুমিল্লা।
ইংলিশ প্লেয়ার বাটলার দলের হাল ধরতে আসলেও আবারো তাইজুলের প্রথম বলে প্লাংকেটের হাতে ক্যাচ তুলে মাঠ থেকে বিদায় নেন জস বাটলার।
অলক কাপালি ও সেমুয়েল একটু একটু রান এগুনোর চেষ্টা করেন। কাপালির চারে ৯ অভার ৩ বলে ৫০ রান পেরোতে সক্ষম হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তবে বেশিদূর এগুতে পারেনননি অলক। ২৬ রানেই সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে তাকে সাজঘরে ফিরে যেতে হয়। এতে করে আবার ৪৫ রানের জুটি ভেঙে পরে সেমুয়েল অলকের।
মোহাম্মদ নবী সেমুয়েল জুটি শুরু করে ব্যাটিং। ১৪ অভার শেষে দলের অর্জন দাঁড়ায় ৪ উইকেট হারিয়ে ৯২ রান। তবে তেমন ব্যাট হাতে তেমন সুযোগ করে উঠতে পারেন নি কুমিল্লান প্লেয়ার নবী। ১৭ অভারে সানতকির বলে ডিপ মিড উইকেটে শুভাগত হোমের হাতে ক্যাচ তুলে ৫ রান করেই তাকে ফিরে যেতে প্যাভিলিয়নে। তখন দলের রান দাঁড়ায় ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৪।
ডিয়ানো ব্রাভো আসলে ব্যাট হাতে চমক দেখালেও শেষ অভারে এসে সেমুয়েলের বিদায়ের পর ১১ রান করে অপরাজিত থাকেন এই খেলোয়ার।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস:
ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মারলন স্যামুয়েলস, জস বাটলার, ডোয়াইন ব্রাভো, মোহাম্মদ নবী(অধিনায়ক), রশিদ খান, অলক কাপালি, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আরাফাত সানি এবং আল-আমিন হোসেন।
সিলেট সিক্সার্স:
উপুল থারাঙ্গা, আন্দ্রে ফ্লেচার, রস হুইটলি, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন (অধিনায়ক), শুভাগত হোম, নুরুল হাসান উইকেটরক্ষক, তাইজুল ইসলাম, আবুল হাসান, লিয়াম প্লাঙ্কেট এবং ক্রিসমার সান্টোকি।
Related News
উজবেকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের ইতিহাস
Manual5 Ad Code স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে দারুণ এক অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী হকিRead More
৪৮ দলের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ
Manual4 Ad Code স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেছে ফিফা। এবারের আসরে অংশRead More



Comments are Closed