Main Menu

সিলেটের জাফলংসহ বিভিন্ন স্পটে পর্যটকদের ভিড়

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: ঈদের ছুটিতে পানি ও পাথরভরা জাফলংসহ সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে হাজারো পর্যটকদের ভিড়। তিল ধারণের ঠাঁই নেই কোথাও। সিলেটসহ সারা দেশ থেকে এসেছে ভ্রমন পিপাসুরা।
সীমান্তের ওপারে ভারতীয় পাহাড়, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ের গহীন অরণ্য ও সুনসান নীরবতায় মোহাবিষ্ট তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলধারায় পা ভিজিয়ে আপন মনে খেলা ছোট ছোট শিশুরা। অদূরে দল বেধেঁ সাতাঁর কাটছিল কিশোর যুবকরা।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নানা বয়সী পর্যটকরা এভাবেই মেতে ওঠে অপার আনন্দে। পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে জাফলং। স্থানীয়রা বলছেন, গতবারের চেয়ে এবার পর্যটক অনেক বেশি।
শুধু জাফলংই নয়, ঈদের ছুটিতে মুখর হয়ে ওঠেছে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। প্রাকৃতিক সৌন্দের্যের কোলে চড়তে হাজার হাজার পর্যটকদের ঢল নেমেছে এ অঞ্চলের সবকটি পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্রে।
বরাবরের মত পর্যটকরা এবারও ঘুরে বেড়াচ্ছেন সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। জাফলং ছাড়াও এবার এই তালিকায় যোগ হয়েছে মায়াবতী ঝর্ণা, বিছনাকান্দি, পানতুমাই, লোভাছড়া, রাতারগুলের মতো অসাধারণ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান।
গোয়াইনঘাটের বিছানাকান্দির স্বচ্ছ জলে ছড়িয়ে আছে সফেদ রূপ আর পাথর-কণায় লুকিয়ে থাকা জলতলের সৌন্দর্য, জৈন্তাপুরের লালাখালের স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর দুই ধারের অপরূপ সৌন্দর্য, দীর্ঘ নৌ-পথ ভ্রমণের সাধ যেকোনো পর্যটকের কাছে এক দুলর্ভ আকর্ষণ।
এছাড়া বাংলাদেশের কোল ঘেঁষে প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয়ের গহীন অরণ্যের কোলে বাংলাদেশ পানে নেমে আসা অপরূপ ঝরনাধারার পানতুমাই, অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা কানাইঘাট উপজেলার প্রাকৃতিক নৈসর্গের আরেক রূপ ‘লোভাছড়া’ এবং বাংলাদেশের একমাত্র জলারবন গোয়াইঘাটের রাতারগুলেও এবার ঢল নেমেছে পর্যটকের।
আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সব পর্যটন কেন্দ্রই মুখর পর্যটকদের আনাগোনায়। শুধু ঘোরাঘুরিই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা এসব পর্যটকরা সিলেটে হযরত শাহজালাল(র.) এবং শাহপরান (র.) এর মাজারও জিয়ারত করতে ভুলছেন না বলে তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
এদিকে, হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানেও দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠছে। পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় করছেন। সবুজ প্রকৃতি আর বন্য প্রাণীদের দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে গোটা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। ঈদের দিন বিকাল থেকে শুরু হয় দশনার্থীদের পদচারনা। ঈদের তিনদিন পর্যন্ত চলবে দর্শনার্থীদের আনাগোনা।
জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত রঘুসুন্দর পাহাড়ের ৭টি ছড়া থেকে মূলত নামকরণ করা হয়েছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের। ঈদের ছুটিতে জেলা ও জেলার বাইরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন পর্যটক।
কুড়িগ্রাম থেকে আসা জাহিদ মিয়া নামে এক পর্যটক জানান, ঈদের ছুটিতে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র দেখার জন্য পরিবার নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছেন। তিনি বলেন, সাতছড়িতে এসে খুবই ভালো লাগছে। তবে ওয়াশরুমসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। এগুলোতে কর্তৃপক্ষ নজর দিলে আরও পর্যটক বাড়বে।
একই জেলার পলি নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ঈদের ছুটিতে সাতছড়িতে এসে খুবই ভাল লাগছে। এখানে না আসলে বোঝা যাবে না প্রকৃতিকে কত কাছে পাওয়া যায়। কিছুক্ষণের জন্য প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম।
সাতছড়ি রেঞ্জের রেঞ্জার মাহমুদ হোসেন জানান, এখানে পর্যটকদের সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার জন্য পর্যটন পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা গহীণ অরণ্যে যেতে চায় তাদেরকে গাইডের মাধ্যমে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ঈদ আসলে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন আমাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে আমরা চেষ্টা করি পর্যটকদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য।
তিনি জানান, বৃষ্টি আসলে যাতে পর্যটকদের কোনও ধরনের অসুবিধা না হয় সেজন্য বেশ কয়েকটি ছাতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টয়লেট ও ওয়াশরুমের জন্য শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Share





Related News

Comments are Closed