Main Menu

কমলগঞ্জে হত্যার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

Manual8 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চৈতন্যগঞ্জে গত বছরের ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জালাল মিয়া (৪৫) কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ অপমৃত্যু মামলা রুজু করলেও জালাল মিয়ার ছোট ভাই সফাত মিয়া বাদি হয়ে এ ঘটনায় ৩ নভেম্বর মৌলভীবাজার আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার ময়না তদন্ত রিপোর্টে নিহত ব্যক্তির চোখ ও মুখে আঘাতের কিছু আলামত পাওয়া গেলেও ঘটনার ৮ মাসেও আদালতের নির্দেশনার পরও পুলিশ মামলা রুজু করেনি। শুক্রবার বেলা ১২টায় কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন জালাল মিয়ার বড় ভাই আজাদ মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে চৈতন্যগঞ্জ গ্রামের তেজ মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়াসহ আরও কয়েক ব্যক্তি গত বছরের ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে জালাল মিয়াকে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে যান। জালাল মিয়া পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ও দিনমজুর। বাড়ি ফিরছে না দেখে সন্ধ্যা ৭ টায় আজাদ মিয়া ও সফাত মিয়া পার্শ্ববর্তী সিরাজ মিয়ার বাড়িতে গেলে দেখা যায় জালাল মিয়া সিরাজ মিয়ার ঘরে বসা। তাকে নিয়ে আসতে চাইলে সিরাজ মিয়ার বাবা তেজ মিয়া বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে তাই জালাল মিয়াকে ভাত খাইয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয়া হবে বলে আজাদ মিয়াকে বলেন। তখন আজাদ মিয়া ও সফাত মিয়া বাড়িতে ফিরেন। রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়ি ফিরছে না দেখে আজাদ মিয়া ও সফাত মিয়া পুনরায় পার্শ্ববর্তী সিরাজ মিয়ার বাড়ি থেকে জালাল মিয়াকে নিয়ে আসতে বের হন। তখন লাইটের আলোয় দেখতে পান নিজ বসতঘরের পিছনে পরিত্যক্ত স্থানে সুপারি গাছের নিচ থেকে কয়েক ব্যক্তি পালিয়ে যান। পাশে এগিয়ে গেলে জালাল মিয়ার লাশ দেখতে পাওয়া যায়। তখন জালাল মিয়ার চোখ দিয়ে রক্তক্ষরন দেখা যায়। ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে অবগত করা হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কমলগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে এবং ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে প্রেরণ করে। এ সময়ে পরিকল্পিত হত্যা ঘটনার কথা বলা হলে একই গ্রামের ওয়াতির মিয়া, সিরাজ মিয়া, এরাজ মিয়া, জহির আলী, তেজ মিয়া বিষয়টি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করলে আরও খুন জখম করার হুমকি দেন। হত্যা ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও রিপোর্ট প্রকাশ হয়। হত্যা ঘটনা বলার পরও কমলগঞ্জ থানা পুলিশ এ ঘটনায় কৌশলে সাদা কাগজে আজাদ মিয়ার স্বাক্ষর নিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে। পরবর্তীতে ৩ নভেম্বর মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জালাল মিয়ার ছোট ভাই সফাত মিয়া বাদি হয়ে হত্যা মামলা (২৩২/১৬) দায়ের করেন। আদালত প্রাথমিক সত্যতা সাপেক্ষে মামলাটি এফআইআর করার জন্য কমলগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ময়না তদন্ত রিপোর্টে নিহত জালাল মিয়ার চোখ ও মুখে আঘাতের কিছু আলামত পাওয়া যায়। হত্যা ঘটনার এসব প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরও পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসাবে রুজু করছে না এবং আসামীদেরও গ্রেফতার না করায় আসামীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এদিকে অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে উল্টো আসামীগনের পক্ষ থেকে গত বছরের ৩০ অক্টোবর আলাতুন বেগমকে বাদি করে ৩ জন স্কুল ছাত্রসহ ১০ জনকে আসামী করে মিথ্যে লুটপাটের মামলা দায়ের করে হয়রানির চেষ্টা করছে। সংবাদ সম্মেলনে জালাল মিয়া হত্যা ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা সাপেক্ষে হত্যা মামলা রুজু এবং আসামীদের গ্রেফতারের জন্য দাবি জানান।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চেয়ে ওয়াতির মিয়া ও সিরাজ মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন হত্যার এ অভিযোগ সঠিক নয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা হিসাবে রুজু করা হবে। তাছাড়া ভিসেরা রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code